এবার টাকা নিয়ে বিসিবি বনাম ঢাকার দ্বন্দ্ব!

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২২
খেলোয়াড়দের পাওনা নিয়ে প্রথম বিপিএলে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে। সেই বিতর্ক এড়াতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিজে খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধের দায়িত্ব নিয়েছিল। এখন উল্টো বিসিবি হাতে টাকা পেয়েও দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রতিশ্রুত অর্থের প্রথম কিস্তি সময়মতো দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করছে বিপিএলের অন্তত একটি দল। আর এর জবাবে বিসিবি থেকে পরিষ্কার চিঠি দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়েছে, দলটি, মানে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স নিয়মত মতো চুক্তিপত্র বিসিবিকে না পাঠানোয় তারা পরিশোধ করতে পারছে না পাওনা। দলটি আবার এ অভিযোগ অস্বীকার করছে। এ নিয়ে রীতিমতো মুখোমুখি অবস্থানে এখন বিসিবির বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ও ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স কর্তৃপক্ষ। সমস্যাটা প্রথম সামনে আসে ঢাকার খেলোয়াড় ওয়াইজ শাহ পাওনার প্রতিশ্রুত এক-চতুর্থাংশ এখনো বুঝে না পেয়ে প্রকাশ্যে কথা বলায়। এ ঘটনায় বিস্মিত হয়ে ঢাকা দলের মালিক সেলিম চৌধুরী এ সংবাদ মাধ্যমে দাবি করেন, ‘আমি ১২ কোটি টাকার খেলোয়াড় কিনেছি। ২৫ শতাংশে হয় ৩ কোটি টাকা। ওই পরিমাণ টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিসিবিকে দিয়ে রেখেছি। সেটা ক্যাশও করেছে বিসিবি। খেলোয়াড়রা যে টাকা পাচ্ছে না সে দায় বিসিবির, আমার নয়। কারণ আমি তাদের টাকা দিয়ে রেখেছি।’ এরপরই বিসিবি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখ করে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ই-মেইল পাঠানো হয়। সেখানে দাবি করা হয়, নিয়মমতো চুক্তিপত্র না পাঠানোয় তারা খেলোয়াড়দের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে পারছেন না। বিসিবির দাবি, বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও ঢাকা মাত্র ৯ জন খেলোয়াড়ের চুক্তিপত্র পাঠাতে পেরেছে; তাও নাকি ত্রুটিপূর্ণ। এ বিবৃতিতে বিসিবি আশা করেছে, ঢাকা কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি সমাধান করবে। কিন্তু এ নিয়ে কথা বলতে গেলে আবারো বিপরীত তথ্য দিলেন সেলিম চৌধুরী। তিনি ইত্তেফাককে বললেন, ‘আমরা খেলোয়াড়রা ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই, খেলা শুরুর আগেই প্রতিটি খেলোয়াড়ের সই নিয়ে বিসিবির তৈরি করা চুক্তিপত্র জমা দিয়েছি। এখন কথা হল, চুক্তিপত্র পুরোপুরিই বিসিবি তৈরি করে দিয়েছে। সেখানে ভুল থাকলে সে দায় আমাদের কেন হবে?’ সেলিম চৌধুরী বারবার দাবি করলেন, তার প্রতিটি খেলোয়াড়ের চুক্তিপত্র ঠিকমতো পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বিসিবির একটি সূত্র আবার বলছে, এই চুক্তিপত্রে অনেক খেলোয়াড়ের দাম নিলামের কেনা দামের চেয়ে কম দেখানো হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সেলিম চৌধুরী বললেন, ‘এ রকম কিছু করার প্রশ্নই আসে না।’ আর সবকিছুর ওপর সেলিম চৌধুরীর দাবি হল, টাকা হাতে পেয়ে সেটা আটকে রেখে আমলাতান্ত্রিকতা করাটা অযৌক্তিক, ‘দেখুন এই খেলোয়াড়রা হল বিপিএলে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং আমাদের জাতীয় তারকা। তাদের সদিচ্ছা থাকলে টাকা হাতে পেলে আগে খেলোয়াড়দের সেটা দিয়ে দিত। তারপর কোনো ভুল থাকলে সেটা সংশোধন করা যেত।’ দাবির পক্ষে উদাহরণও দিলেন সেলিম, ‘ওয়াইজ শাহকে নাকি তারা টাকা দিয়ে দিয়েছে। তেমন একটা কাগজ আমাকে পাঠিয়েছে তারা। প্রথম কথা হল, আমাদের কাগজপত্রে ভুল থাকলে বাকিদের টাকা যদি দেয়া না যায়, ওয়াইজ শাহকে কিভাবে দেয়া গেল? আইন তো সবার জন্য সমান, তাই না! তারচে বড় কথা ওয়াইজ এখনো সে টাকা আসলে পায়নি। এখন বিসিবির মতো একটি প্রতিষ্ঠান ওয়াইজকে বলেছে, টাকা চলে গেছে; সে টাকা পাচ্ছে না, এর চেয়ে লজ্জার কী আছে।’ সবশেষে সেলিম চৌধুরী আশার কথাই শোনালেন, ‘আমি জানি না, একই কাগজে তারা বারবার ভুল করায় আমি কিভাবে খেলোয়াড়দের বারবার সই করতে বলব। তারা তো আস্থা হারিয়ে ফেলছে। তারপরও আশাকরি, সবকিছুর সমাধান হবে। আমরা টাকা দিয়ে দিয়েও এ রকম পরিস্থিতিতে পড়ে খুবই বিব্রত। আশাকরি, বিসিবি আমলাতান্ত্রিকতা না করে খেলোয়াড়দের হাতে টাকা পৌঁছে দেবে।’