নীতিহীন রাজনীতি বর্জনের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের আহবান

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৭
মহাত্মা গান্ধী স্মারক বক্তৃতায় আলোচকরা বলেছেন, মহাত্মা গান্ধী শুধু মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করেননি, তিনি মানুষের আত্মার শুদ্ধতা ও মুক্তির জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছেন কিন্তু জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। তার অসহযোগ আন্দোলনে যখন কিছুটা সহিংসতা প্রবেশ করল, তখনই তিনি সকলকে সতর্ক করে দিলেন। অহিংস নীতি অনুসরণ করার জন্য সকলকে নির্দেশনা দিলেন। ত্যাগ ও সেবার নীতি অনুসরণ করে রাজনীতির চর্চায় তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত। এ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে নীতিহীন রাজনীতি পরিহারের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে রাজনীতিক ও তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সপ্তম মহাত্মা গান্ধী স্মারক বক্তৃতায় বক্তারা এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মহাত্মা গান্ধী নৈতিকতাহীন শিক্ষা এবং নীতিহীন রাজনীতির বিরুদ্ধে সারাজীবন কথা বলেছেন, সংগ্রাম করেছেন। তার আদর্শ, দর্শন, রাজনৈতিক-সামাজিক চিন্তাধারা তথা অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে অহিংসানীতি আজও আমাদের সকলকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে। ‘মহাত্মা গান্ধীর আর্থ-সামাজিক ধারণাসমূহ এবং সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা দেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বক্তৃতায় তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধী মানবতাবাদী দার্শনিক, বাস্তববাদী সমাজ সংস্কারক, কৌশলী রাজনীতিবিদ ও আলোকিত মানুষ ছিলেন। তিনি পৃথিবীর কোন কলুষিত কাজে অংশগ্রহণ করেননি। বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি অসহযোগ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। অসহযোগ আন্দোলনে সহিংসতা ঠেকাতে তিনি অনশনও করেছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডালেম চন্দ্র বর্মন বলেন, ব্যক্তি শুধু নিজের মানবতার চর্চা করলে সমাজ পরিবর্তিত হয় না। এর জন্য প্রয়োজন সমাজের সকল মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেয়া। এ কাজটি মহাত্মা গান্ধী যথাযথভাবে করতে পেরেছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান মো:রফিকুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মো:তৌহিদুল ইসলাম। স্মারক বক্তৃতা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তি শোভাযাত্রা বের করা হয়।