দূরন্ত লড়াইয়ের পর ‘নিষ্প্রাণ’ ড্র!

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৪৩
‘এল ক্ল্যাসিকো’তে ক্ল্যাসিক লড়াই দেখার আশা করেছিলেন সবাই। ম্যাচ শেষে স্কোর লাইন বলছে ‘নিষপ্রাণ’ এক ড্র হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার সেই এল ক্ল্যাসিকো। কিন্তু যারা খেলা দেখেছেন তারাই কেবল জানেন; ১-১ ব্যবধানের তথাকথিত এই নিষপ্রাণ ড্রয়ের মধ্যেই আসলে লুকিয়ে ছিল সত্যিকারের আক্রমণ প্রতি আক্রমণে ভরা এল ক্ল্যাসিক উত্তপ্ত লড়াই। বুধবার রাতে কোপা দেল রে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দুরন্ত লড়াইয়ের পরিণতিতে ড্র-ই দেখল ফুটবল বিশ্ব। ৫০ মিনিটে করা সেস ফ্যাব্রিগাসের গোলের সুবাদে ম্যাচটা রিয়ালের থেকে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে, ৮১ মিনিটে তরুণ ডিফেন্ডার ভারানের গোলে ম্যাচে ফেরে মাদ্রিদ। অবশেষে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে। এখন ন্যু ক্যাম্পে পরের রিয়াল-বার্সা দ্বিতীয় লেগের ম্যাচেই ঠিক হবে এবারের কোপা দেল রে ফাইনালিস্টের নাম। মাদ্রিদের মূল একাদশের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ই এই ম্যাচে খেলতে পারেননি। ইনজুরির কারণে অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস এবং পেপে ছাড়াও নিষেধাজ্ঞার কারণে সার্জিও রামোস, ফ্যাবিও কোয়েন্ত্রাও ও অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াও খেলতে পারেননি। পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছাড়াই পূর্ণ শক্তির বার্সার বিপক্ষে ম্যাচের শুরু ভয়াবহ হয়ে ওঠে রিয়াল। খেলা শুরু হওয়ার মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই ক্ষিপ্র বেগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ঢুকে পড়েন বার্সা দুর্গে। হলুদ কার্ডের বিনিময়ে কোনও মতে তাকে ঠেকান সদ্য বাবা হওয়া জেরার্ড পিকে। ফলে উপহার পাওয়া ফ্রি কিক থেকে দুর্দান্ত এক শট নেন রোনালদো। কিন্তু ভালদেসের বদলে এদিন মাঠে নামা পিন্টো অসাধারণ এক ডাইভে ঠেকিয়ে দেন রোনালদোর এই ফ্রি কিক। একটু পরেই শুরু হয় বার্সার আক্রমণ। ১২ মিনিটে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা অসাধারণ নৈপুণ্যে মাদ্রিদ ডিফেন্সে ঢুকে পড়েন এবং তাঁর চিপ পাস থেকে পাওয়া বলে দ্রুতগতির ভলিতে গোল করতে ব্যর্থ হন জর্ডি অ্যালবা। রিকার্ডো কারভালহো ইনিয়েস্তাকে ফাউল করার কারণে ফ্রি কিক পায় কাতালানরা। জাভির দুর্দান্ত ফ্রি কিক গোলরক্ষক দিয়েগো লোপেজকে পরাস্ত করলেও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কারভালহোর ভুলে দারুণ এক সুযোগ পায় বার্সা। গোলরক্ষককে দেয়া তাঁর ব্যাক পাস ছিনিয়ে নিয়ে যান লিওনেল মেসি এবং ডি-বক্সের ভিতর একা দাঁড়িয়ে থাকা জাভিকে পাস করে দেন। কিন্তু তার শট গোলরক্ষক ধরতে না পারলেও পুরো ম্যাচই দুর্দান্ত খেলতে থাকা মাদ্রিদ ডিফেন্ডার ভারানে ফিরিয়ে দেন। মধ্যবিরতির একদম কাছাকাছি সময়ে করিম বেনজেমা স্বাগতিকদের হয়ে প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন। হোসে ক্যালিওনের দুর্দান্ত এক পাসে বল পেয়ে যান তিনি। কিন্তু বেনজেমার তীব্রগতির ভলি গোলপোস্টের বাইরের নেটে আঘাত হানে। ফলে গোলশূন্য অবস্থায়ই শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও লস ব্লাঙ্কোসরা ছিল দুর্দান্ত। বাঁশি বাজার ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে ১৮ গজ দূর থেকে নেয়া বেনজেমার শট গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়। উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে অবশেষে ৫০ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা মেলে। জাবি আলোনসোর পাশ দিয়ে মেসির দেয়া দুরূহ এক থ্রু পাসের পরেই নিজেকে খালি জায়গায় পেয়ে যান ‘ফলস নাইন’ সেস ফ্যাব্রিগাস। রিয়াল গোলরক্ষক লোপেজ এর পাশ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দিতে কোনও ভুল করেননি সাবেক এই আর্সেনাল অধিনায়ক। ফলে কাতালানরা ম্যাচে ১-০ তে এগিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বার্সার আরও একটি আক্রমণের সূত্র ধরে ফ্যাব্রিগাস নিজের দ্বিতীয় গোলটি প্রায় করেই ফেলেছিলেন কিন্তু ফরাসি ডিফেন্ডার ভারানের সঠিক সময়ে ট্যাকেলে তা আর সম্ভব হয়নি। সেই সময়ে মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনহো ক্যালিওনের বদলি হিসাবে লুকা মড্রিচকে মাঠে নামান। রোনালদো এরপর গোল করার একটি দারুণ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ডান দিক থেকে এসিয়েনের ক্রস তার পায়ে এলেও তার লক্ষ্যভ্রষ্ট শট বাইরে দিয়ে চলে যায়। ভারানের মত অতটা উজ্জ্বল না হলেও বার্সা ডিফেন্ডার পিকে রোনালদোর একটি দুর্দান্ত আক্রমণ আরও দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করে কাতালানদের আরও একবার গোল খাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দেন। বার্সা যখন জয়ের দোরগোড়ায় প্রায় পৌঁছে গেছে, তখন ফরাসি ডিফেন্ডার ভারানে আরও একবার রিয়ালের ত্রাতা হয়ে বার্সাকে হতাশায় ডোবান। মেসুত ওজিল এর নেয়া ফ্রি কিক থেকে শক্তিশালী এক হেডের মাধ্যমে গোলরক্ষক পিন্টোকে পরাস্ত করে তিনি রিয়ালকে ১-১ সমতায় ফেরান। বাকি সময়ে আর কোনও গোলের দেখা পায়নি দুই দলই। ফলে ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য কোপা ডেল রে’র সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে আর একটি চোখ ধাঁধানো ‘এল ক্ল্যাসিকো’ দেখার আশায় রইল সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা।