আবার বিপিএলের ময়দানে ফিকা!

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৭
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে শুরু থেকেই কঠোর সমালোচকের ভূমিকায় আছে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিকা। আগেই বার বার বলেছে, বিপিএল সব খেলোয়াড়ের টাকা পরিশোধ করেনি। সেজন্য তারা অনুমান করেছিল, দ্বিতীয় আসরে বিদেশি ক্রিকেটাররা আসবে না। এখন আবার বিপিএলে টাকার বিতর্ক শুরু হতেই মুখ খুলেছেন ফিকার প্রধান নির্বাহী টিম মে। তিনি বলছেন, সময়মতো টাকা নিয়ে উদ্যোগ না নিলে বিদেশি খেলোয়াড়রা বয়কট করতে পারে বিপিএল। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে মে বলেন, ‘আয়োজকরা এ ব্যাপারে কিছু করতে না পারলে তারা টুর্নামেন্টটি বয়কটের ব্যাপারে গভীরভাবে বিবেচনা করছে। তারা (আয়োজকরা) প্রতিটি বিদেশি খেলোয়াড় বাংলাদেশে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পারিশ্রমিকের ২৫ শতাংশ পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বাকি ২৫ শতাংশ পরিশোধের কথা ছিল টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচের আগে। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ পরিশোধ করার কথা দিয়েছে টুর্নামেন্ট শেষ হবার ১৫০ দিনের মধ্যে।’ কিন্তু মে বলছেন, টাকা তো এখনো পায়নি খেলোয়াড়রা। উল্টো এখন তারা টুর্নামেন্ট ছেড়ে চলে যেতে পারে তারা, ‘তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, প্রথম কিস্তির মজুরিও পায়নি খেলোয়াড়রা। যে কারণে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রাপ্তি নিয়ে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও শংকা দেখা দিয়েছে। এখন সেটি পেলেই নিজেদেরকে ভাগ্যবান মনে করবে ক্রিকেটাররা।’ আর এরকম অবস্থায় এসেই মে বলছেন, তিনি আগেই এসব নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ‘আমার মনে হয় এরকম পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে হতাশা জন্ম নিবে। বিপিএলের প্রথম আসরের পারশ্রমিক নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হবার কারণে খেলোয়াড়দের প্রতি ফিকার পরামর্শ ছিল তারা যেন পারিশ্রমিকের অর্থ আগেই নিয়ে নেন। কিন্তু খেলোয়াড়রা ফিকার ওই সতর্কবার্তা শুরুতে উপেক্ষা করলেও এখন এ বিষয়ে ভূমিকা নেয়ার জন্য ফিকার শরণাপন্ন হয়েছে।’ মে বলেন, ‘আমরা বলছি না যে, এমন পরিস্থিতি ঘটবেই। আমরা বলেছি এমনটা ঘটার আশংকা রয়েছে। তবে এটি সত্যি যে, এখন সেখানে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা খেলোয়াড়দেরকে গুরত্ব দিয়ে পরামর্শ দিলেও তারা সেটি উপেক্ষা করেছিল। তারা প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে মনে করেছিল যে, অন্তত নিজ নিজ ক্ষেত্রে এমনটা হবে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—আমরা কি করতে পারি। এর জবাব হচ্ছে, আমরা বড় পরিসরে কিছু একটা করার কথা ভাবছি। প্রথমত কোন নাগরিক বিদেশ সফরে গিয়ে কোন সমস্যায় পড়লে তার ক্ষেত্রে সে দেশের দূতাবাসগুলো যে ধরনের সহযোগিতা করে আমরাও সে ধরনের একটি পন্থার কথা ভাবছি। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে খেলোয়াড়দের রক্ষা করা। আমরা এ ব্যাপারে সম্ভাব্য সবধরনের পন্থা অবলম্বনের চেষ্টা করব।’ মে অবশ্য এতো বড় নেতিবাচক কথা বলার পরও মনে করছেন, বিসিবি একটা ভালো পদক্ষেপ নিতে পারত। কিন্তু বিসিবির আচরণ সন্দেহজনক বলে মনে করছেন তারা, ‘আমাদের বিশ্বাস আগেরবারের তুলনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি আন্তরিক। এ বিষয়ে তারা এগিয়ে আসবে। আমরা মনে করেছিলাম, হয়তো সময়ের সংক্ষিপ্ততার কারণে এমনি ঘটেছে। কিন্তু এখন বিসিবিকে নিয়েই আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। অন্তত বিপিএলের এই পর্ব দেখার পর খেলোয়াড়রা ভবিষ্যতে ফিকার সতর্কবার্তা আরো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে। তিনি আরো আশা করছেন যে, পাকিস্তান সুপার লীগে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তারা বিপিএলের মত এই চিত্রটির কথা মনে রাখবে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের নাগরিকদের পাকিস্তান সফরে যাবার ক্ষেত্রে সতর্ক করে দেয়ার কারণ রয়েছে। শীর্ষ ক্রিকেট দলগুলো পাকিস্তান সফর না করার এবং প্রতিটি দলের স্বাধীন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা পাকিস্তান সফর নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করার কারণ নিশ্চয় আছে।’ মে বলেন, ‘পাকিস্তানে আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা পূরণ করতে পারবো না। খেলোয়াড়দের কল্যাণের বিষয়টি আমাদের দেখতে হবে। নিজ নিজ নিরাপত্তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আর থাকতে পারে না। বিদেশি খেলোয়াড়দেরকে আমরা জোরালোভাবে সতর্ক করছি, তারা যেন পাকিস্তান সুপার লীগের অংশ না হয়।’ এদিকে এ বিষয়ে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এডহক কমিটির সদস্য আফজালুর রহমান সিনহার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা নাইমুর রহমান দুর্জয় এবং দেবব্রত পালের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা খুব দ্রুতই খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধের চেষ্টা করছি।’ এদিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের (কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল বাসস’কে বলেন, ‘বিদেশি খেলোয়াড়দের বিষয়টি ফিকা দেখাশুনা করছে, এ বিষয়ে আমাদের কোনকিছু বলার নেই। আমরা শুধু স্থানীয় ক্রিকেটারদের পাওনার বিষয়টি দেখছি। তাদের পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে বিসিবি কর্মকর্তা ও বিপিএল কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে তারা যথেষ্ট আন্তরিকতা প্রদর্শন করেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি সুরাহা হবে বলে মনে করছি।’-বাসস