গতি নেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাজে

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৫৬
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই সাথে কমিটি আগে থেকে চাওয়ার পরও মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে ব্যর্থতার জন্য তিরস্কার করা হয়েছে। অপরদিকে প্রকল্পের কাজের মাত্র তিন শতাংশ করার পর বিল পরিশোধ করায় কমিটি বিস্ময় প্রকাশ করে কারণ জানতে চেয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব কথা বলা হয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী কমিটির সদস্য হওয়ার পরও কি কারণে উপস্থিত হননি তা জানতে চাওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকের তারিখ ও সময় জানানোর বিষয়টি কমিটিকে নিশ্চিত করা হয়। তবে মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত না হওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোন ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। সূত্র জানায়, কমিটি আগে থেকে বেশ কিছু তথ্য সরবরাহ করার জন্য বলার পরও মন্ত্রণালয় কি কারণে সরবরাহ করেনি? এমন প্রশ্নে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোন জবাব দেয়া হয়নি। ফলে একদিকে দুই মন্ত্রীর অনুপস্থিতি এবং অপরদিকে তথ্য সরবরাহে ব্যর্থতার জন্য কমিটি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কমিটির সভাপতি মন্ত্রণালয়ের কাজে সমন্বয়হীনতা ও গতিশীলতা না থাকার অভিযোগ তুলে মন্ত্রণালয়কে তিরস্কার করেন। উল্লেখ্য, গতকালের পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকের কার্যপত্রে যেসব তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেয়ার কথা ছিলো তা দেয়া হয়নি। এদিকে বৈঠক শেষে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মো. রহমত আলী জানান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। একই সাথে কাজে গতিশীলতাও নেই। আর এ দু’টি কারণে কমিটির পক্ষ থেকে তিরস্কার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে পানি সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজ যেভাবে চলছে তাকে কমিটি শম্বুক গতি বলে মন্তব্য করেছে। কমিটি বলেছে কাজের যে ধারা চলছে তা অব্যাহত থাকলে প্রকল্পটি সম্পন্ন হতে কতদিন লাগবে সে কথা কারো পক্ষে বলা সম্ভব নয়। বৈঠকে বলা হয়, ২০১১ সালের জুন মাসে প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। চলতি অর্থ বছরের মধ্যেই প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য যে প্রকল্পের মাত্র তিন শতাংশ কাজ হয়েছে। আর রহস্যজনক কারণে ঠিকাদারকে রানিং বিল পরিশোধও করা হয়েছে। অপরদিকে বৈঠকে জানানো হয়, খুলনা মহানগরীতে নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য খুলনা ওয়াসা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে চার হাজার ৩৩২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। বৈঠকে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে সাধারণ, বিশেষ ও থোক বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিটি জানতে চেয়েছে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আলাদা আলাদা তিনটি খাতে কত টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কমিটির সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী, মো. আবুল খায়ের ভুঁইয়া, মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং মো. আশরাফ আলী খান খসরু বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।