জন্ডিসের ভ্যাকসিন কেন দিবেন

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৫৬
হেপাটাইটিস এ এবং হেপাটাইটিস বি দু’টি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। হেপাটাইটিস ‘এ’ বা সাধারণ জন্ডিস সাধারণত খাবার পানি, বাইরের খোলা ও জীবাণুযুক্ত খাবার আহার করলে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার্য জিনিসপত্র ব্যবহার করলে সংক্রমিত হতে পারে। সাধারণত বিশ্রাম ও কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চললে হেপাটাইটিস ‘এ’ ভালো হয়। হেপাটাইটিস ‘এ’ জন্ডিসের বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিন রয়েছে। দু’টি ভ্যাকসিন দিয়ে হেপাটাইটিস ‘এ’ রোধ করা যায়। একটি ভ্যাকসিন দেয়ার পর দ্বিতীয় ভ্যাকসিন দিতে হয় ৬ মাস পর। আর এক ধরনের জন্ডিস হচ্ছে হেপাটাইটিস ‘বি’। হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস থেকে এই রোগ সংক্রমিত হয়। জীবাণুযুক্ত ইনজেকশনের সুই ব্যবহার, জীবাণুযুক্ত রক্ত সঞ্চালন, আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক এই রোগ সংক্রমণের প্রধান কারণ। এই রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিন রয়েছে। ৪টি ভ্যাকসিন দিয়ে হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধ করা যায়। তবে ভ্যাকসিন দেয়ার ক্ষেত্রে সবচাইতে উন্নতমানের কার্যকর ভ্যাকসিন দিতে হবে, কমদামের অননুমোদিত ভ্যাকসিন দিবেন না। জেনে নেবেন ভ্যাকসিন ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদিত কিনা। সবসময় মনে রাখবেন, অনেক অসাধু ব্যবসায়ী মুনাফা লাভের আশায় অকার্যকর কমদামি ভ্যাকসিন বাজারজাত করছে। এসব ভ্যাকসিনে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় না। হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেয়ার ক্ষেত্রে পর পর ৩ মাসে ১ মাস বিরতি দিয়ে ১টি করে ভ্যাকসিন দিবেন। চতুর্থ ভ্যাকসিন ১ বছর পর দিতে হয়। এই চতুর্থ ডোজকে বলা হয় বুস্টার ডোজ। এছাড়া অপর মারাত্মক সংক্রামক রোগ হেপাটাইটিস ‘সি’। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোন ভ্যাকসিন বের হয়নি। প্রতিরোধই একমাত্র উপায়। হেপাটাইটিস ‘বি’ যেভাবে সংক্রমিত হয় তেমনিভাবেই হেপাটাইটিস ‘সি’ সংক্রমিত হতে পারে। এছাড়া ভ্যাকসিন দেয়ার আগে অবশ্যই জেনে নেবেন ভ্যাকসিন সেন্টারটিতে ভ্যাকসিন সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা আছে কিনা অথবা কুল চেইন মেইনটেইন করা হয় কিনা। যে সমস্ত ভ্যাকসিন সেন্টারে সার্বক্ষণিক জেনারেটর নেই সেসব ভ্যাকসিন সেন্টার থেকে ভ্যাকসিন নিবেন না। এসব ভ্যাকসিনের কোন কার্যকারিতা নেই। তাই ভালো মানের এবং ভালো ভ্যাকসিন সেন্টার থেকেই ভ্যাকসিন নেয়া উচিত।