উইন্ডিজকে লজ্জায় ডোবালেন স্টার্ক

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৪
ম্যাচ শেষে ড্যারেন স্যামির কথাই বলে দিচ্ছিলো সব। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে তিনি বলেন, ‘দে হিট আস হার্ড’। ম্যাচের কিছুটা আভাস এখান থেকেই পাওয়া যায়। পেসার মিশেল স্টার্কের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং-এ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে শুভ সূচনা করলো স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অসিরা ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ক্যারিবীয়দের। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মাইকেল ক্লার্কের দল। এইতো দু’সপ্তাহ আগে শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার লজ্জায় পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৭৪ রানে অলআউট করে অসিদের লজ্জা দিয়েছিল লংকানরা। মাহেলা জয়াবর্ধনের দলকে সেই লজ্জা ফিরিয়ে দিতে না পারলেও বর্তমানে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে ঠিক একই লজ্জা দিল অস্ট্রেলিয়া। সফরের প্রথম ওয়ানডেতে পার্থে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাটিং-এ নেমে মাত্র ৭০ রানেই গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা এ স্কোর রেকর্ড বইয়ে সর্বনিম্ন রানের তালিকায় তৃতীয়স্থানে জায়গা করে নেয়। এর আগে ৫৪ ও ৬১ রানে অলআউট হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুত অলআউট করে দিতে প্রধান ভূমিকা রাখেন অস্ট্রেলিয়ার তিন পেসার মিশেল স্টার্ক, ক্লিন্ট ম্যাককে ও অভিষিক্ত জেমস ফকনার। তবে এই তিন পেসারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর ছিলেন বাঁ-হাতি স্টার্ক। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ২০ রানের বিনিময় ৫ উইকেট শিকার করেন স্টার্ক। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখালেন স্টার্ক। এছাড়া ক্লিন্ট ম্যাকে ৩টি ও জেমস ফকনার ২টি উইকেট নেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা দলের পক্ষে কেউ বলার মতো স্কোর করতে না পারলে, সেই তালিকায় নাম উঠে মি. এক্সট্রার। অতিরিক্ত খাতে ১৭ রান হল ক্যারিবীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রান। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ রান আসে অধিনায়ক ড্যারেন সামির ব্যাট থেকে। এছাড়া ১১ রান করে করেন কাইরন পাওয়েল ও ড্যারেন ব্রাভো। জয়ের জন্য ৭১ রানের সহজ টার্গেটে খেলতে নেমে দ্রুতই ম্যাচ শেষ করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৯ দশমিক ২ বলেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অসিরা। তবে এজন্য সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন পিঞ্চ হিটার গে¬ন ম্যাক্সওয়েল। ৩৫ বলে ৫১ রানের ঝকঝকে এক অনবদ্য ইনিংস খেলে। তার ইনিংসে ৯টি চার ও ২টি ছক্কার মার ছিল। এছাড়া ৮ রান করে অপরাজিত থাকেন উসমান খাজা। আউট হওয়া একমাত্র ব্যাটসম্যান অ্যারন ফিঞ্চ করেন ১০ রান। উইকেটটি নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিষিক্ত খেলোয়াড় জেসন হোল্ডার। ম্যাচের সেরা হয়েছেন স্টার্ক। একই ভেন্যুতে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। ম্যাচ হেরে কিছুটা বিষণ্ন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলপতি সামি বলেন, ‘সিরিজের বাকী ম্যাচগুলোয় আমাদের ভালো খেলতে হবে এবং দ্রুতই সিরিজে ফিরতে হবে। আমরা জানি আমাদের ফিরে আসার সামর্থ্য আছে। সিরিজ জয়ের সামর্থ্যও আমাদের আছে। মাত্র তো এক ম্যাচ শেষ হলো। এখনো চারটি ম্যাচ বাকি আছে।’ আর ম্যাচ জয়ের নায়ক স্টার্ক বলেন, ‘ম্যাচটিতে খুবই ভালো খেলেছি আমরা। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিলো লাইন-লেন্থ বজায় রেখে বোলিং করা। তা করতে পেরেছি এবং সফলও হয়েছি। প্রতিপক্ষকে ৭০ রানে অলআউট করে দেয়া এটা আমাদের জন্য খুবই ভালো দিক।’ -বাসস স্কোর কার্ড ক্রিস গেইল ক ফিঞ্চ ব ম্যাককে ৪ কাইরন পাওয়েল ক ক্লার্ক ব স্টার্ক ১১ রামনরেশ সারওয়ান ব স্টার্ক ০ ড্যারেন ব্রাভো ক ক্লার্ক ব ফকনার ১১ ডোয়াইন ব্রাভো ক হিউজ ব স্টার্ক ০ কাইরন পোলার্ড ব স্টার্ক ০ ডেভন থমাস ক ক্লার্ক ব ফকনার ৩ ড্যারেন সামি ক বেইলি ব ম্যাককে ১৬ জেসন হোল্ডার ব স্টার্ক ৭ সুনীল নারাইন ক ওয়াডে ব ম্যাককে ০ কেমার রোচ অপরাজিত ১ অতিরিক্ত (বা-৮, লে-৩, ও-৬) ১৭ মোট (অলআউট, ২৩.৫ ওভার) ৭০ উইকেট পতন : ১/১৪ (গেইল), ২/১৮ (পাওয়েল), ৩/১৯ (সারওয়ান), ৪/১৯ (ডোয়াইন ব্রাভো), ৫/১৯ (পোলার্ড), ৬/২৮ (থমাস), ৭/৩৯ (ড্যারেন ব্রাভো), ৮/৬৫ (সামি), ৯/৬৮ (নারাইন), ১০/৭০ (হোল্ডার)। বোলিং : ক্লিন্ট ম্যাককে ৭-৩-১০-৩ (ও-২), মিশেল স্টার্ক ৬.৫-২-২০-৫, জেমস ফকনার ৫-১-১৪-২ (ও-২), মিশেল জনসন ৫-০-১৫-০ (ও-২)। গে¬ন ম্যাঙ্ওয়েল অপরাজিত ৫১ অ্যারন ফিঞ্চ ক থমাস ব হোল্ডার ১০ উসমান খাজা অপরাজিত ৮ অতিরিক্ত (ও-২) ২ মোট (১ উইকেট, ৯.২ ওভার) ৭১ উইকেট পতন : ১/৩৯ (ফিঞ্চ)। বোলিং : কেমার রোচ ২-০-২৯-০, জেসন হোল্ডার ৪.২-০-১৮-১ (ও-১), সুনীল নারাইন ৩-০-২৪-০ (ও-১)। ফল : অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মিশেল স্টার্ক (অস্ট্রেলিয়া)। সিরিজ : অস্ট্রেলিয়া ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।