বাংলাদেশের হকির উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বিএইচএফ), বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ) ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত কৌশল প্রণয়নের তাগিদ দিলেন খেলাটির বিশ্ব প্রধান লিয়েন নেগরে।
আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সভাপতি নেগরে গতকাল শুক্রবার বিওএ ভবনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তার বাংলাদেশ সফর নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিএইচএফ, বিওএ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে আমার প্রস্তাব হলো বাংলাদেশের হকির উন্নয়নে সকল দিককে আমলে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব একটা সমঝোতা স্মারক সই করা। এই সমঝোতা স্মারকে উন্নয়নের সবদিক থাকবে।’
নেগরে মনে করিয়ে দেন, ‘বাংলাদেশ হকির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা দেশ। কেননা এই দেশ হকি ভালবাসে। তাছাড়া এটি ভাল হকি খেলুড়ে দেশের কাছাকাছি অবস্থিত। সেজন্য আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনও এশিয়ায় হকির গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেয়।’
স্পেন জাতীয় দলের হয়ে ৩২টি ম্যাচ খেলেছেন নেগরে। এগুলোর মধ্যে আছে ১৯৬৮ সালের মেক্সিকো অলিম্পিকের খেলাগুলোও। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় হকি ফেডারেশনেরও সভাপতি ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নেগরো ঢাকায় এসেছেন এবং কালই সংবাদ সম্মেলন শেষে কেক কেটে এই উদযাপনার সূচনা করেন।
যদিও আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সভাপতি তার কাছে স্থানীয় ফেডারেশনের তোলা দাবিগুলোর ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন প্রতিশ্রুতি দিতে পারেননি। হকি ফেডারেশন তার কাছে দুটি টার্ফ এবং মওলানা ভাসানি হকি স্টেডিয়ামের জন্য ফ্লাড লাইট, দীর্ঘ মেয়াদে একজন ভাল মানের কোচ এবং বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য ইউরোপের লিগগুলোতে খেলার সুযোগ করে দেয়ার আর্জি জানিয়েছিল।
নেগরে এসবের জবাবে বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমি কোন প্রতিশ্রুতি দিতে পারবো না। তবে পথ খুঁজে বের করতে আমরা একত্রে কাজ করবো। বিশ্ব সংস্থার সাথে সরবরাহকারীদের ভাল যোগাযোগ থাকার কারণে টার্ফ ও ফ্লাড লাইট জোগানোর ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবো।’
বিশ্ব হকি লিগের প্রথম রাউন্ড থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের নৈপুণ্যের প্রশংসার পাশাপাশি নতুন দিল্লীতে দলটির খেলা দেখবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। খেলাটিকে নতুন উচ্চতায় তুলতে এই স্পানিয়ার্ড বছরে একবার আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরামর্শ দেন হকি ফেডারেশনকে।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে তার মত হলো এদের দক্ষতা উচ্চমানের। তবে তাদেরকে শারীরিকভাবে আরো ফিট হতে হবে। দীর্ঘকালীন কোচ প্রাপ্তির ব্যাপারে তিনি জানান এটা তাদের ব্যাপার নয়। কেননা দীর্ঘ মেয়াদে কোচ পাওয়া ব্যয় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া এটি হলো স্থানীয় ফেডারেশনের ব্যাপার।
তিনি এখানে ভারত পাকিস্তানের ম্যাচ আয়োজন করা সহজ হতে পারে বলে মত দেন। শুধু তাই নয় এ প্রসঙ্গে তিনি ঢাকায় একটি ম্যাচ খেলতে ভারত ও পাকিস্তানের ফেডারেশন সভাপতিদের অনুরোধের প্রতিশ্রুতিও দেন।
বিশ্ব হকি প্রধান গতকাল ঢাকার আরমানীটোলা স্কুলও দেখতে যান। এই স্কুল থেকে জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছিলেন।
