বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সত্য প্রকাশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন

আপডেট : ০২ মে ২০১৯, ২৩:১৯

বিশ্বগণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসে আয়োজিত এক বৈঠকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত দায়িত্বসহ নানা বিষয় আলোচনা করতে গিয়ে হাউজ অব লর্ডের সদস্য লর্ডস ইমস বলেন, গণমাধ্যম কর্মীরা কাজ করতে গিয়ে অহেতুক চাপ বোধ করলে কোন ভাবেই গণমাধ্যম সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। কখনো কখনো এই চাপটি স্বপ্রণোদিত। বিশেষ করে বাংলাদেশের গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের চাকরি হারানোর ভয় কাজ করে ও এছাড়াও কোন কোন মালিকদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পেশাদার সাংবাদিকদের কাজের সুযোগ কমছে।

এছাড়া, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের হাতে গণমাধ্যমের মালিকানা সাংবাদিকদের মধ্যে অহেতুক চাপের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন আলোচকরা, কেননা মালিক যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম তার বিষয়ে অনেকটা বাধ্য হয়ে নিরব থাকে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে ১-৩ মে বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস পালিত হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গণমাধ্যম কর্মীদের সংগঠন ইনডিপেনডেন্ট মিডিয়া ক্লাব (আইএমসি) এই আলোচনার আয়োজন করে।

আলোচনায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি মাসুদ হাসান খান বলেন, ‘সাংবাদিকতা এখন এক বিপদজনক পেশায় পরিণত হয়েছে। সারা বিশ্বে সাংবাদিকরা এমন কিছু ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন যা অভূতপূর্ব। যেমন- ভুয়া খবর, সাইবার হামলা, সেন্সরশিপ এবং সহিংসতা। সাংবাদিক হিসেবে আমাদের পেশাদারি সততা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আমরা কীভাবে সমুন্নত রাখতে পারি তা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও আলোচনা শুরু করার এটাই উপযুক্ত সময়।’

ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া ক্লাবের বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস ২০১৯ উদযাপন প্রকল্প সমন্বয়ক সাংবাদিক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আমার যে ডিজিটাল মিডিয়ার নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছি তা এখন সুস্পষ্ট। এটা নাগরিক সাংবাদিকদের অনেক বেশি স্বাধীনতা দিয়েছে। কিন্তু নতুন এই মিডিয়া কি ঐতিহ্যবাহী গতানুগতিক ধারার গণমাধ্যমের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে? এই পরিস্থিত মোকাবেলায় আমরা আসলে কতটুকু প্রস্তুত?  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কিভাবে একটি নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসা যায় সেই বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকল অসামাজিক কাজ কর্ম করেও কেন আমাদের এই মাধ্যমটিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলতে হচ্ছে এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন, লর্ড আহমেদ অব উইম্বলডন, চ্যানেল ফোরের প্রডিউসার বেকি হর্সব্রা, বিবিসি নিউজের মাহফুজ সাদিক, টিআরটি ওয়ার্ল্ডের শামীম চৌধুরী, বিবিসি বাংলার সম্পাদক সাবির মুস্তাফা, চ্যানেল এস টেলিভিশনের কারেন্ট এফেয়ার্স এডিটর ও ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে গোল টেবিল বৈঠকের সমন্বয়কারী তানভীর আহমেদ, চ্যানেল আই’র সাংবাদিক মশরুর শাকিল, সাংবাদিক বুলবুল হাসান, সাপ্তাহিক জনমতের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, লর্ড ইমসের রাজনৈতিক পরামর্শক রহিমা মিয়া, চলচ্চিত্র পরিচালক জোবায়ের বাবু, ইউকে বিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট বজলুর রশীদ এমবিই, বিসিএর সাবেক প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দোকার এমবিই, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট আনিসা ফারুক, অক্সফোর্ড অক্সফোর্ড রাইটার্স হাউজের প্রতিষ্ঠাতা ডক্টর এপ্রিল, সাবেক মিস আয়ারল্যান্ড মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি ও অন্যান্যরা।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যম গণতন্ত্রের প্রতীক। কিন্তু বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের মালিকানা রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের কালো টাকায় গড়ে উঠার কারণে ট্র্যাডিশনাল মিডিয়া গণতন্ত্র চর্চায় কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে। গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা সম্প্রতি বাংলাদেশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকের চার ধাপ নেমে আসার কারণ নিয়েও আলোচনা করেন।

আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা, জার্মানী, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম কর্মী, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, ব্যবাসয়ী ও আইনজীবীরা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।

ইত্তেফাক/আরকেজি