গৌরবের দিনে ফিরতে চায় হকি

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১২
দেশের হকির চল্লিশ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে সাবেক ও বর্তমান ক্রীড়াবিদ, পৃষ্ঠপোষক এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশা খেলাটি আবার আগের জনপ্রিয়তায় এবং গৌরবের দিনে ফিরে আসবে। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন গতকাল দিনব্যাপী এদেশে খেলাটির চল্লিশ বছর পূর্তি উদযাপন করে। এ উপলক্ষে দেশের হকি সংশ্লিষ্টরা উপলব্ধিতে আনেন এখন স্টেডিয়ামে খেলা হয় কিন্তু দর্শক উপস্থিতি হাতে গোনা। খেলোয়াড়দের মান অনেক নিচে নেমে গেছে। তাই পূর্তি উদযাপনকে কেন্দ্র করে আবার নতুন উদ্যোগে হকিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সবাই। সকালে র্যালির পর এদিন দুপুরে সাবেক ক্রীড়াবিদ, কোচ, আম্পায়ার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পৃষ্ঠপোষকদের সম্মাননা দেয়া হয়। বিকালে সাবেকদের মধ্যে প্রীতি ম্যাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় এবং জেলাগুলোকে সম্মাননা দেয়া হয়। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে দুপুরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয় ভাষা শহীদদের উদ্দেশ্যে এক মিনিট নিরবতা পালন করে। এরপর সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমত উল্লাহর স্বাগতিক বক্তব্যের পর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন হকি ফেডারেশনের সভাপতি বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী। পাঁচজন করে কোচ ও সাবেক খেলোয়াড় এবং ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদকদের সম্মাননা দেয়া হয়েছে। সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্যে মরহুম খাজা ইউসুফ রেজার পক্ষে তার ছেলে খাজা ওমর রেজা পুরস্কার গ্রহণ করেন। খ্যাতনামা ক্রীড়াবিদ বশির আহমেদ শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না আসতে পারলেও তার পাঠানো চিঠি পড়ে শোনানো হয়। নিজেকে হকি থেকে নির্বাসিত উল্লেখ করে এতে তিনি খেলাটি নিয়ে তার অভিমান তুলে ধরেন। এদেশের হকির অন্যতম প্রধান পুরুষ বশির আহমেদ অনুযোগের সুরে বলেন ফেডারেশন তাকে সব সময় উপেক্ষা করেছে। তিনি লেখেন, ‘আজ আমি হকির কেউ নই। আজ আমি ডাক্তারের ছুরির নিচে।’ অনেক অভিমানের কথা লেখা ছিল এক সময়ের মাঠ কাঁপানো এই ক্রীড়াবিদের চিঠিতে যা শুনে উপস্থিত ব্যক্তিরা আবেগ আপ্লুত হয়েছেন। বশির আহমেদের পুত্র তানভির আহমেদ ক্রেষ্ট গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ হকি দলের প্রথম অধিনায়ক আব্দুস সাদেক সম্মাননা নিতে গিয়ে বলেন, ‘এখনকার প্লেয়ারদের ভাগ্য ভালো তারা টার্ফে খেলছেন। পেশাদারিত্বটাও আছে। কিন্তু এরপরও খেলোয়াড় সংখ্যা কম। এটা বাড়ানো দরকার। হকিকে অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। আমার স্বপ্ন এশিয়ায় পাঁচ নম্বরে থাকবে বাংলাদেশ।’ বাংলাদেশের হকির আরেক গৌরব জুম্মন লুসাই। তিনি ১৯৮৫ সালে বিশ্ব একাদশে খেলেছেন। ’৯৭ সালে এশিয়া একাদশে খেলেছেন আজিজুল্লাহ হায়দার জামাল। দু’জনেই কাল সম্মাননা পেয়েছেন। কোচদের মধ্যে মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন নুরুল ইসলাম নান্না, তার পক্ষে কন্যা জেয়াসমিন হক এবং কোচ আব্দুস সালামের পক্ষে (মরণোত্তর), মিসেস সালাম পুরস্কার নেন। কোচ হিসাবে প্রতাপ শংকর হাজরা অনুপস্থিত ছিলেন। আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়া পুরস্কার নিয়ে বলেছেন, ‘এই পুরস্কার তার জীবনের স্বীকৃতি।’ সাবেক সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে মাহমুদ উর রহমান মোমিন অসুস্থ থাকায় আসতে পারেননি। পুরস্কৃত হয়েছেন মির্জা ফরিদ আহমেদ, আলীউজ্জামান খান, শামসুল বারী খোন্দকার জামিল উদ্দিন। জানা গেছে বর্তমান ফেডারেশনে আবাহনীর রহমত উল্লাহ এবং মোহামেডানের সাজেদ আদেলের মধ্যকার ঐক্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেজন্য অভিমান করে সাবেক সাধারণ সম্পাদকের সম্মাননা গ্রহণ করতে আসেননি সাজেদ আদেল। তিনি প্রশ্ন তোলেন চল্লিশ বছর অনুষ্ঠান এখনই দরকার ছিল না। অন্য কোনো ফেডারেশন এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করেনি তাহলে হকি ফেডারেশন কেন করছে। তিনি বলেন, এটা নির্বাচনী প্রচারণা।’ হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাজেদ আদেল প্রশ্ন তুলেন কিসের স্বার্থে এবং কার স্বার্থে এই অনুষ্ঠান। অনেক সাবেক খেলোয়াড় ছিলেন তারাও হকির জন্য অবদান রেখেছেন। কিন্তু নাম নেই।’ গত ২ জুন মৃত্যুবরণ করা আম্পায়ার শেখ নুরুল ইসলামের পক্ষে পুরস্কার নেন ছোট ছেলে দেলোয়ার হোসেন। সাংবাদিক হিসাবে মরণোত্তর পুরস্কার পান আব্দুল হামিদ। তার পুরস্কার গ্রহণ করেন পুত্র রওনক হামিদ। এছাড়াও প্রবীণ ও পথিকৃত সাংবাদিক মোঃ কামরুজ্জামানকেও পুরস্কার দিয়েছে হকি ফেডারেশন। সবার কাছে জামান ভাই হিসেবে খ্যাত এই সাংবাদিক একাধারে হকি, ফুটবল, ক্রিকেট খেলায়ও অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। পুরোনো ঢাকার আরমানীটোলা সরকারি বিদ্যালয় থেকে অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছে। এর স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকেও পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ৩২টি পৃষ্ঠপোষককে সম্মাননা দেয়া হয়েছে। বিকালে দুটি প্রীতি হকি ম্যাচ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় উদযাপন। তবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিল প্রচুর ভুল। উপস্থাপকটি ক্রীড়াবিদদের নাম সঠিক ভাবে বলতে না পারাসহ অনেক ভুল তথ্য দিলে অনুষ্ঠানের সৌন্দর্যহানি হয়।