নেতৃত্ব হাতছাড়া হওয়ার দিনেই জহুরুল ইসলামের ঝড়ো ৫৭ রানে তৃতীয় জয় পেল দুরন্ত রাজশাহী। গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে তারা বরিশাল বার্নার্সকে হারায় চার উইকেটে। এই জয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শিরোপা লড়াইয়ে এখনো টিকে থাকল রাজশাহী। সাত ম্যাচে তাদের অর্জন ছয় পয়েন্ট। অন্যদিকে এই হারে লড়াই থেকে প্রায় ছিটকে গেছে বরিশাল। সাত ম্যাচে তাদের সংগ্রহ চার।
চার ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জহুরুল এর আগে দলকে কেবল একটি জয় এনে দিয়েছিলেন। কাল দলটিতে তৃতীয়বারের মতো নেতৃত্বের হাত বদল হলে দায়িত্ব পেয়েই শ্রীলংকান চামারা কাপুগেদারা দারুণ এক জয় এনে দিলেন দুরন্ত রাজশাহীকে।
জহুরুল অবশ্য ৩৮ বলে তিনটি করে ছয় ও চার হাঁকিয়ে দলকে জেতানো ইনিংসটি খেলেন। রাজশাহীর জয়ে বিফলে যায় বরিশালের পক্ষে তোলা আজহার মেহমুদের ৫৭ রান। গতবারের রানার্স আপদের জয়ে জহুরুলের পাশাপাশি অবদান রাখেন শ্রীলংকান দিলশান মুনাভিরা। নিজের দ্বিতীয় ওভারে জো ডেনলি ও সাব্বির রহমানকে ফিরিয়ে দিয়ে বরিশালের রানের চাকা থামিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তামিম ইকবাল ও চার্লস কভেন্ট্রিকে হারানোর পর ব্যাট হাতেও মুনাভিরা ২৭ বলে ২৯ রান করেন। জহুরুল এদিন শন আরভিনকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৫৩ রানের জুটি গড়েন। ২০ বলে ২৮ রান করে আরভিন ফিরে গেলেও জহুরুল দলকে পৌঁছে দেন দেড়শ রানের ঘরে। এর আগে তিনি মুনাভিরাকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে তোলেন ৪৪ রান।
আগের দিন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের ১৩৬ রানও ছুঁতে পারেনি রাজশাহী। কালও যখন জয়ের জন্য ৩০ বলে ৩০ রানের দরকার, সেই সময়ে রাজশাহীর ড্রেসিংরুমে আগের শংকাই উঁকি দিচ্ছিল। ঢাকার বিপক্ষে ৩০ বলে ৩৩ রানও করতে পারেনি তারা। অথচ কাল ১৫৩ রানের টার্গেট ছুঁয়েছে গতবারের সেমিফাইনালিস্টরা তিন বল হাতে রেখেই।
বরিশাল বার্নার্স এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে গিয়ে শুরুতে ব্র্যাড হজকে হারায়। ডেনলি ও সাব্বির দ্বিতীয় উইকেটে ৪৭ রান এনে দেন। এরপর আজহারকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৩৬ রান যোগ করেন। আজহার শেষ বল পর্যন্ত উইকেটে থেকে ৩৪ বলে ৫৭ রান উপহার দেন দলকে। চার ছয় ও দুটি চার রয়েছে। আর সাব্বিরের অবদান ২৪ বলে ২৯ রান।
চট্টগ্রাম ভেন্যুর খেলা শেষে কাল থেকে ফের ঢাকায় শুরু হচ্ছে বিপিএল। আজ কোন খেলা নেই। আগামীকাল দুপুরে মুখোমুখি হবে দুরন্ত রাজশাহী ও রংপুর রাইডার্স এবং সন্ধ্যায় খেলবে বরিশাল বার্নার্স ও খুলনা রয়েল বেঙ্গলস।
বরিশাল বার্নার্স-২০ ওভারে ১৫২/৬ (আজহার ৫৭, সাব্বির ২৯, ডেনলি ২৩, মাষ্টার্ড ১২, মুনাভিরা ২/১৮, এডমন্ডসন ১/৩১)।
দুরন্ত রাজশাহী-১৯.৪ ওভারে ১৫৩/৬ (জহুরুল ৫৭, মুনাভিরা ২৯, আরভিন ২৮, জিয়া অপ: ১২, আজহার ২/২০, কবির ২/৩১)।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: জহুরুল ইসলাম (রাজশাহী)।
ফল: দুরন্ত রাজশাহী জয়ী ৪ উইকেটে।
