জন কেরির সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫৩
হিলারি ক্লিনটনের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গত শুক্রবার শপথ গ্রহণ করেছেন ৬৯ বছর বয়সী সাবেক সিনেটর জন কেরি। একজন সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পর গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন তিনি। যা তার সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জও। তবে দীর্ঘদিন সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য থাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে জন কেরির উপরই বেশি আস্থা মার্কিন প্রশাসনের। শুক্রবার কেরিকে যুক্তরাষ্ট্রে ৬৮তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ইলিনা কাগান। শপথ গ্রহণের পর কেরি বলেন, তিনি দায়িত্ব পালনের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। সোমবার থেকে তিনি কাজে যোগদান করবেন বলে ক্যাপিটলে সাংবাদিকদের জানান। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রথম কোন দেশ সফর করবেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি। গত মঙ্গলবার সিনেটে সহজেই অনুমোদন পান কেরি। হিলারির পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। তিনি কি দায়িত্ব পালনে ও দক্ষতায় হিলারিকেও ছাড়িয়ে যাবেন? গত ২৮ বছর ধরে সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কেরি। সর্বশেষ তিনি এ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তাই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে পররাষ্ট্র বিষয়ক সব ধরনের চ্যালেঞ্জই তার জানা রয়েছে। তবে তাকে এখন আরো অনেক দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের কাছে সুনাম কুড়ানো কেরি সিনেটে ডেমোক্রাট ও রিপাবলিকান দুই পক্ষেরই সমর্থন পেয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ওবামারও অগাধ আস্থা রয়েছে তার উপর। তবে ডেইল’স হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের দুই বিশ্লেষক এমি পাইন এবং লুক কফেই বলেন, কেরির পরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়াটা একটি দুঃসংবাদের মতো। কারণ ওবামা ও কেরির মতাদর্শ প্রায় এক। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক চুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোতে কেরি ওবামার নীতিই প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব হলো যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেয়া। কিন্তু কেরির অতীত কাজের রেকর্ড এবং ওবামার বিশ্ব দর্শনের প্রতি তার যে আনুগত্য রয়েছে, তাতে এসব অগ্রাধিকারের বিষয়ে বেশি একটা আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না। জার্মান মার্শাল ফান্ডের এক বিশ্লেষক ইয়ান লেসার বলেন, ইউরোপসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই কেরিকে পররাষ্ট্রনীতির মূর্ত প্রতীক হিসেবে দেখে। হিলারি ক্লিনটন অনেক জনপ্রিয় ছিলেন। বিশ্বে একটি ঘরোয়া নামে পরিণত হয়েছিলেন। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রনায়ক, বন্ধুদের এবং দেশের মানুষের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। মনোনয়ন পাওয়ার পর শুনানিতে ইরান, সিরিয়া, জলবায়ু পরবর্তন, মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন কূটনীতিকের ছেলে, সাবেক নেভি লেফটেন্যান্ট, যুদ্ধবিরোধী এবং পাঁচবারের সিনেটর কেরি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি শুধু ড্রোন আর সেনা মোতায়েনের মধ্যে থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি হবে এখনকার চেয়ে বেশি কিছু। এটা হবে অর্থনৈতিক নীতি। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন সম্পদ ও বৈশ্বিক বাজার ধরার প্রতিযোগিতায় ছুটছে। অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই তার পররাষ্ট্রনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। তার এ বক্তব্যের পর নিউইয়র্ক টাইমসের শিরোনাম হয়, ‘কেরি পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে অর্থনীতিকে জুড়ে দিতে চাইছেন’। আর ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, জন কেরির বক্তব্যের সাধারণ অঙ্ক হলো পররাষ্ট্রনীতি=অর্থনৈতিক নীতি। মার্কিন ফিসক্যাল ক্লিফের বিষয়ে বলেন, এটার সমাধান হওয়া জরুরি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণভাবে শক্তিশালী না হলে বিশ্বে শক্তিশালী হতে পারবে না। শুনানিতে তিনি সতর্ক করে তিনি বলেন, বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান, শক্তি ও প্রত্যাশা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। পুঁজিবাদ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধির নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হলে বিদেশি দেশগুলো তাদের দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ গ্রহণে সম্মত হবে না। তিনি বলেন, জয় করার মতো শক্তি মার্কিনীদের অর্জন করতে হবে। বিশ্বব্যাপী মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ আনার মাধ্যমেই এ জয় আসতে পারে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য নীতির বিষয়ে তিনি কথা বলেন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে বলেন, দেশটি যাতে পরমাণু শক্তিধর না হয় সেজন্য সম্ভাব্য সবকিছু করবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এক্ষেত্রে আলোচনার সুযোগ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, নির্যাতন, নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নয়। আমাদের নীতি হলো প্রতিরোধ করা এবং অন্যের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি যদি শান্তিপূর্ণ হয় তবে তারা সেটা প্রমাণ করুক। সিরিয়া বিষয়ে কেরি বলেন, এমনটা আগে কখনো হয়নি। বাশার যা করছেন তা ক্ষমার অযোগ্য, তিরস্কারযোগ্য। তিনি বেশিদিন আর সিরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান থাকতে পারবেন না বলেই আমি বিশ্বাস করি। আর সে সময় খুব দ্রুতই আসছে। তিনি বলেন, সিরিয়া বিষয়ে রাশিয়া ও অন্য দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। যদিও এ আলোচনার ব্যাপারে আমি আশাবাদী নই। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মানবাধিকার রক্ষার বিষয়, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, জাতিগত সমতা এবং দুর্নীতি বন্ধের জন্য কাজ করবেন।