‘মুক্তিযুদ্ধ কোষ’ দ্বাদশ খণ্ডের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এই উপমহাদেশে ইতিহাস না জানার একটা প্রবণতা আছে। কিন্তু নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ইতিহাস জানার ব্যাপক আগ্রহ দেখে মুগ্ধ হতে হয়, বলতে হয় নতুন প্রজন্মের মধ্যে উচ্চমানের দেশাত্মবোধ আছে। বইটি সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন।
গত শনিবার বিকালে জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধ কোষ’ দ্বাদশ খণ্ডের প্রকাশনা উত্সবে সম্মানিত অতিথি ও আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রকাশনা উত্সবে সম্মানিত অতিথি ও আলোচক হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অবঃ) এ বি তাজুল ইসলাম, লেখক কামাল লোহানী, লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, শিল্পী হাসেম খান ও অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সময় প্রকাশনীর প্রকাশক ফরিদ আহমেদ।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বইটিতে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। মানুষের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে জানার আগ্রহ আছে, সেদিক থেকে বইটি সমাদৃত হবে। আমাদের দেশে এ ধরনের কাজ আর হয়নি।
অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, আজকের দিনটি ১৯৭০-৭১ সালের মতোই আমার জীবনের একটি মাইলফলক। কাজটি নিজের তাগিদেই শুরু করেছি শেষ করতে পারবো কি না জানা ছিল না। তবে ৭২ সালের সংবিধান যতদিন পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হবে ততোদিন আমাদের লড়াই চলবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে একটি মুক্তিযুদ্ধের আর্কাইভ তৈরি করার কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধের একটা বড় বিষয় ‘গণহত্যা’, এ বিষয়ে একটি আর্কাইভ হওয়া উচিত বলে জানান।
পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত, সমৃদ্ধ ও অহংকার করার মতো একটি বিষয় ‘মুক্তিযুদ্ধ কোষ’১২ খণ্ড। দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হলে এই বইয়ের ১২টি খণ্ডের বিকল্প নেই। পাঁচ বছর গবেষণা করে ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয় মুক্তিযুদ্ধ কোষ গ্রন্থের পাঁচটি খণ্ড। পাঠকরা জানায়, তারা আরো ব্যাপক আকারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে জানতে চায়। পাঠকদের সেই দিকটিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হলো মুক্তিযুদ্ধ কোষ ১২ খণ্ড। এই গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮হাজার ৩৪টি এবং ভুক্তি ২০ হাজার ৩৯১টি।
