খুলনা ও চট্টগ্রাম পর্ব শেষে ফের ঢাকার মিরপুরে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) খেলা। ইতিমধ্যে প্রত্যেকটি দল ছয় থেকে সাতটি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে। এখন ঢাকায় শুরু হবে মূল শেষ চারে জায়গা পাওয়ার লড়াই। সিলেট ও ঢাকা ছাড়া শেষ চারে জায়গা পাওয়ার ব্যাপারে কেউই এখনও নিশ্চিত নয়। আজ সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিচের সারির পাঁচ দলের মধ্যে চার দল মাঠে নামবে। বিকাল সাড়ে তিনটায় খেলবে দুরন্ত রাজশাহী ও রংপুর রাইডার্স এবং সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মুখোমুখি হবে বরিশাল বার্নার্স ও খুলনা রয়েল বেঙ্গলস।
পয়েন্ট টেবিলে বরিশাল ও খুলনার অবস্থান একেবারে নিচে। দুই দলই সাতটি করে ম্যাচ খেলে অর্জন করেছে চার পয়েন্ট। শেষ চারে খেলতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে জয় প্রয়োজন উভয়েরই। গত শনিবার চট্টগ্রামে বরিশালের খেলা থাকায় কাল তারা ঢাকায় পৌঁছেও অনুশীলনে নামেনি। তবে বসে ছিল না খুলনা। অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস কাল অনুশীলন শেষে মনে করিয়ে দিলেন, বিপিএলের বাকি ম্যাচগুলো তাদের জন্য বাঁচা-মরার ম্যাচ, ‘এখন আমাদের বাকি ম্যাচগুলো পরিণত হয়েছে ডু অর ডাই ম্যাচে। যদি আমরা এখান থেকে ফিরে না আসতে পারি তবে শেষ চারে জায়গা করাটা আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে’।
কিন্তু গতবারের সেমিফাইনালিস্টরা বিপিএলের শুরুতে যেভাবে পারফর্মেন্স করার কথা, ঠিক সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। সবচেয়ে দুশ্চিন্তার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। অধিনায়ক হিসেবে বিষয়টি নাফীসকেও ভাবাচ্ছে। যদিও বিপিএলের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান তিনিই। তবে এই ভাবনাটি এখন সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইলেন নাফীস, ‘আমাদের এখনো কিছু ম্যাচ আছে। এই ম্যাচগুলোর মধ্য দিয়ে আমরা ফিরে আসতে পারবো বলে আশা করছি। আমরা ধীরে ধীরে ভালো করছি। যদি ব্যাটিংটা ভালো করতে পারি তবে বিপিএলের পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পারবো’।
খুলনা সাত ম্যাচে মাত্র দুটি জয় পেয়েছে। এই দুটি জয় এসেছে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড খুলনায়। সর্বশেষ চট্টগ্রামে যে দুটি ম্যাচ খেলেছে একটিও জিততে পারেনি। নাফীস অবশ্য এসব বিশ্বাস করেন না। ভালো খেললে যে কোন জায়গায় জেতা সম্ভব। তবে জিততে হলে স্কোরবোর্ডেও রান তুলতে হবে এটি মনে করিয়ে দিলেন তিনি, ‘স্কোরবোর্ডে রান না উঠায় আমরা জিততে পারিনি। দেখুন, স্কোরবোর্ডে ভালো রান না আসায় ম্যাচটি ঠিকই হেরেছি। এখন আমরা সেদিকে মনোযোগি হওয়ার চেষ্টা করছি। ব্যাটিং প্রাকটিস করছি আমরা। যেন স্কোরবোর্ডে বড় রান তুলতে পারি’।
খুলনা যেমন চিন্তিত তাদের স্কোরবোর্ড নিয়ে, অন্যদিকে রংপুর চিন্তিত তাদের ম্যাচ উইনার নিয়ে। রংপুরের নাসির হোসেন ছাড়া বাকিদের রানের খাতা যেন খুলছেই না। ছয় ম্যাচে ছয় পয়েন্ট তাদের। একদিন আগে ঢাকায় এসে কাল মাঠে নেমেছিল রংপুরের বাহিনী। নিজেদের লক্ষ্য এবং নিজেদের ম্যাচ উইনার নিয়ে টিম ম্যানেজম্যান্টের ভাবনার কথাই কাল ঘুরে ফিরে বললেন নাসির, ‘এই মুহূর্তে আমাদের ছয় পয়েন্ট হওয়ায় আমরা চার নম্বরে রয়েছি। আমাদের এখনো ছয় ম্যাচ বাকি আছে। যদি আমরা ছয় ম্যাচের মধ্যে তিনটি কিংবা চারটি ম্যাচ জিততে পারি তাহলে সেমিতে যেতে পারবো’।
ম্যাচ উইনার প্রসঙ্গে নাসির, ‘আমি দলের ব্যাটসম্যানদের বলেছি, তারা যেন চাপ না নেয়। স্বাভাবিকভাবে যেন তাদের খেলাটা খেলে। আমি নিজেও ভালো স্কোর করার চেষ্টা করছি। দলকে জেতানোর জন্য যা করণীয় তাই করছি’।
১৪ দিন পর আজ থেকে আবারো মিরপুরে জাগবে ক্রিকেট। বিপিএলের বাকি ম্যাচগুলো এখানেই অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, বিপিএলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি।
