দর্শকদের মন ভরালো সাত গোল

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৩
ঢাকার মাঠে এমন উত্তেজনাকর ফুটবল হালে খুব একটা দেখা যায় না। শেখ রাসেল ও বিজেএমসি গতকাল রবিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এরকমই একটা খেলায় তৃপ্তিতে ভরালো হাজারখানেক দর্শককে। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের টানটান উত্তেজনার ম্যাচে দু’দল মিলে করলো সাত গোল। যদিও তাতে শেখ রাসেল ৪-৩ গোলে হারায় বিজেএমসিকে। এমনকি জিততে পারতো মুক্তিযোদ্ধাদের দলটিও। শেখ রাসেল এ জয়ে ১০ খেলায় ২২ এবং সমান ম্যাচে বিজেএমসির অর্জন ১২ পয়েন্ট। গোল আর পাল্টা গোলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ খেলাটি ৮৬ মিনিট পর্যন্ত ৩-৩ ব্যবধান ছিল। পরের চার মিনিট বাকি থাকতে শেখ রাসেল পেনাল্টিতে গোল করে ম্যাচটি জিতে নেয়। কিন্তু ম্যাচ শেষে দুই দলই রেফারি মিজানুর রহমানের প্রতি অভিযোগের আঙ্গুল তুলেন। শেখ রাসেলের কোচ মারুফুল হক বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গোলটা অফসাইড থেকে হয়েছে। অপরদিকে বিজেএমসির কোচ জাকারিয়া বাবুর মন্তব্য রেফারি তাদের দুটি পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত করে ব্যবধানটা গড়ে দিয়েছেন। পাশে বসা নাইজেরিয়ান ফুটবলার এলিটা কিংসলেরও অভিযোগ রেফারির দিকে। তিনি বললেন, আমরা শেখ রাসেলের কাছে হারিনি, হেরেছি রেফারির কাছে। রেফারি নিয়ে দুই দলের মন্তব্য যাই হোক না কেন, পলকহীন ম্যাচটা স্টেডিয়ামে আসা দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। আর আফসোস নিয়ে বাড়ি ফিরেছে বিজেএমসি যারা কিনা ১৭ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। শেখ রাসেল চতুর্থ মিনিটে প্রথম গোলটি হজম করে গোলকিপার বিপ্লবের ভুলে। বসনিয়ার ডিফেন্ডার বোজান পেত্রিচের ব্যাক পাস ফেরাতে গেলে বল পড়ে নিজেদের বক্সের ভেতর, বিজেএমসির গিনির পুটলার ইসমাইল বাঙ্গুরার পায়ে। বাঙ্গুরা জায়গায় দাঁড়িয়ে দারুণ এক শটে বল জালে পাঠান ১-০। কিছু বুঝে উঠার আগেই গোল হজম করে শেখ রাসেল। ১৭ মিনিটে আসে দ্বিতীয় গোল। শেখ রাসেল অফসাইড ট্র্যাপ করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনে। ইসমাইল বাঙ্গুরা ও এলিটা কিংসলের গড়া আক্রমণ থেকে বল পেয়ে প্লেসিং শটে তকলিস আহমেদ গোলটি করেন (২-০)। গোল করে আরো উজ্জীবিত হয়ে ওঠে বিজেএমসি। আক্রমণ বাড়ালেও ক্রমশ খেলায় ফিরতে শুরু করে শেখ রাসেল। কিন্তু ওই সময়ে নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার বুকলা বিজেএমসি গোলকিপার আমিনুলকে পেয়েও কিছুই করতে পারছিলেন না। আক্রমণগুলো ঠেকিয়ে দারুণ খেলেছেন আমিনুল। বিজেএমসির বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাস নিয়ে লড়ে যাচ্ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পেরে উঠেনি তার দল। বিরতির আগে আর কোন গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে জাহিদকে সাথে নিয়ে বিজেএমসির রক্ষণভাগকে তছনছ করে দিলেন শেখ রাসেলের হাইতির ফুটবলার সনি নরডে। তাতে গোল পেয়ে এগিয়ে যেতে সময় লাগল মাত্র দশ মিনিট। এই দশ মিনিটে তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধান গড়ে নেয় শেখ রাসেল। ৫৫ মিনিটে সনি নরডে বিজেএমসির নাইজেরিয়ান হেনরি চিনডো এবং অধিনায়ক অমিত খান শুভ্রকে কাটিয়ে গোলকিপার আমিনুলকে ফাঁকি দিয়ে শট করলে বল পোষ্টের গোড়ায় লেগে গোল লাইন পার হয় (১-২)। এর তিন মিনিট পর আবার সেই সনির নরডের দুরন্ত শট আমিনুল ঠেকাতে না পেরে ফিরিয়ে দিলে জাহিদ সমতা আনেন (২-২)। প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে খেলাটি। এর মধ্যে জ্বলে উঠেন ঢাকার মাঠের বিদেশি ফুটবলারদের মধ্যে সেরা সনি নরডে। তিনি মাঝমাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে বিজেএমসির বক্সে ঢুকে দারুণ এক গোল করে এগিয়ে দেন শেখ রাসেলকে (৩-২)। যদিও এ আনন্দ দুই মিনিটও টিকেনি। ৬৬ মিনিটে ওমর ফারুক বাবুর গোল মুখে ভাসিয়ে দেয়া বলে ইসমাইল বাঙ্গুরা হেড করলে তা ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি গোলকিপার বিপ্লব (৩-৩)। ফের খেলায় সমতা এলেও দুই দলের মধ্যে ছিল ম্যাচ জেতার প্রবল আকাঙ্ক্ষা। তার মধ্যেই ৮৬ মিনিটে বক্সের ভেতরে বলসহ জাহিদকে আটকাতে যান বিজেএমসির গোলপিকার আমিনুল। কিন্তু তিনি পড়ে গিয়ে বলের জন্য হাত বাড়ানোর সাথে সাথে জাহিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে পেনাল্টি আদায় করেন। শটটি নেন মরক্কোর ফুটবলার তারিক জনাবি (৪-৩)। একটা ভুল আমিনুলকে ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের সম্মানটা পেতে দিল না। তবে ম্যাচ সেরার পুরস্কার দেয়ার নিয়ম থাকলে শেখ রাসেলের সনি নরডে হয়তো সেটা পেতেন। কারণ পুরো ম্যাচে তিনিই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করেছেন দারুণ দক্ষতায়।