নাগেশ্বরীতে কর্মসৃজন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কতিপয় ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রকল্প চেয়ারম্যানরা ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্ত করে সরকারের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তালিকায় রয়েছে চেয়ারম্যানের জামাতা ও শ্যালিকাসহ নিজেদের আত্মীয়-স্বজন, গ্রাম-পুলিশের নাম। উপস্থিত না থাকলেও দৈনন্দিন হাজিরার খাতায় তাদেরকে উপস্থিত দেখানো হয়। এক ইউপি চেয়ারম্যান ও ৩নং প্রকল্প চেয়ারম্যান নির্ধারিত প্রকল্পের কাজ না করে নিজেদের বাড়িতে মাটি ভরাট করে নিয়েছেন। তথ্যানুযায়ী এ ইউনিয়নে ৫ প্রকল্পের বিপরীতে সর্বমোট ৪১৪ জন সদস্যের নাম রয়েছে। ২ নং প্রকল্পের প্রকল্প চেয়ারম্যান এক ইউপি সদস্য। সেখানে ৭০ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ২১ জন। কোনদিন আসেনি মহিরউদ্দিন, বিলকিছ, মোকাদ্দেছ, মাজেদা, আল-মামুন, ছায়েদ, ফাতেমা, ছামেনা, কাচু, ছাত্তার, রহিম।
৩ নং প্রকল্পের প্রকল্প চেয়ারম্যান এক ইউপি সদস্য। তালিকাভুক্ত ১১২ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ৩২ জন। তার মধ্যে চেয়ারম্যানের পিএস বারু, রফিকুল, সহিদুল, তথ্যসেবায় কর্মরত মোস্তাফিজুর, হযরত, আনোয়ার, নূর সিদ্দিক, রাজ্জাক, জবেদা, শাহাদত, মিন্টু, মোহাম্মদ, আয়নাল, চেয়ারম্যানের শ্যালিকা জবেদা, চেয়ারম্যানের জামাতা আজিজুল, বকছের, ফুলভান, এছাভান, শহিদা, সৈফুর, আফরুজা, আনোয়ার রয়েছেন। এরা চেয়ারম্যানের আনুকূল্যে তালিকাভুক্ত হওয়ায় কোনদিন কাজে না এসে দৈনন্দিন মজুরি হিসেবে ১৭৫ টাকা উত্তোলন করে আসছেন। ৪ নং প্রকল্পের প্রকল্প চেয়ারম্যান একজন মহিলা সদস্য। ১৫৬ জনের মধ্যে সেখানে ৬০ জন অনুপস্থিত। এদের অধিকাংশই ভুয়া নামধারী সদস্য।
৫ নং প্রকল্পে দেখা গেছে ৬২ জনের মধ্যে অর্ধেকই অনুপস্থিত। সে তালিকায় রয়েছে গ্রাম-পুলিশ হাছেন আলী,আব্দুল আউয়াল, ছাইদুলসহ প্রকল্প চেয়ারম্যানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম। আব্দুল গফুর, রহিমাসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো কয়েকজন জানায়, নাম অন্তর্ভুক্ত করতে জনপ্রতি গুনতে হয়েছে ১৫০০ টাকা হতে ২ হাজার টাকা।
কচাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান হাশেম আলী সরকার বলেন, এসব কাজে সামান্য কিছু ত্রুটি থাকে। অনেক কিছু দেখেও এড়িয়ে যেতে হয়। স্থানীয় পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে অতিরিক্ত কিছু নাম দেয়া হলেও সেগুলো ভুয়া নয়। কারণ তারা এখনো জীবিত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের অনুরোধে তাদের নাম দেয়া হয়েছে। কে কোথায় উপস্থিত, অনুপস্থিত সেটা একা তার পক্ষে দেখভাল করা কষ্টকর।
সুপারভাইজারকে তিনি বলেছেন- অনুপস্থিত থাকলে তার মজুরি কেটে নিতে। অনেকে এ বিষয়টিকে তিলকে তাল বানিয়ে উপস্থাপন করছে। সুপারভাইজার হাসনাত মিঞা বলেন- সরেজমিন তদন্ত করে ত্রুটি ধরা পড়ায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে প্রেরণ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোল্লা মিজানুর রহমান লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া না গেলেও মোবাইলে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন।
