বিকল্প নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মিউক্লে স্নাইডের বলেছেন, পরমাণু শক্তি সস্তা হবে না। তার মতে বিশ্বে পরমাণু শক্তি তার তাত্পর্য হারাচ্ছে, সঙ্গে হয়ে উঠছে লোকসানের ব্যবসা। কিন্তু রাজনীতিকরা তা বোঝেননি। পরমাণু বিশেষজ্ঞ মিউক্লে স্নাইডার ১৯৯৭ সালে রাইট লাইভলিহুড অ্যাওয়ার্ড পান। তিনি প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী পরমাণু শিল্পের পরিস্থিতি নিয়ে একটি রিপোর্ট বের করেন। ফুকুশিমার পর সেই পরিস্থিতি কতটা বদলেছে, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফুকুশিমার পর অবশ্যই পরমাণু শিল্পের অধগতি দ্রুততর হয়েছে। সারা বিশ্বে চালু আণবিক চুল্লিগুলোর সংখ্যা কমছে। আণবিক চুল্লির সংখ্যা সর্বোচ্চ দাঁড়িয়েছিল ২০০২ সালে। বিশ্বের সামগ্রিক বিদ্যুত্ উত্পাদনে তথাকথিত পরমাণু বিদ্যুতের অনুপাতও কমছে। বর্তমানে সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ শতাংশে। স্নাইডারের মতে এর দু’টি মূল কারণ হলো, জনমতের পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। বিশেষ করে আণবিক চুল্লিতে যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি কোম্পানিগুলো তাদের নীতি পুনর্বিবেচনা করছে। একটি আণবিক চুল্লি¬ নির্মাণ ও চালানোর খরচ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, অপরদিকে জ্বালানি সংক্রান্ত অন্যান্য প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও চালানোর খরচ কমছে। এর একটি কারণ, আণবিক চুল্লি¬গুলো ক্রমেই আরো বেশি জটিল হয়ে পড়ছে। তাছাড়া নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা কিংবা সন্ত্রাসী আক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাত্রাও বাড়াতে হচ্ছে। যার ফলে বহু দেশে যে ধরনের আণবিক চুল্লি ব্যবহার করা হয় তা আজ তৈরি করতে গেলে, সরকারি অনুমতিই পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে।
কিলোওয়াট প্রতি আণবিক বিদ্যুতের দাম কত হওয়া উচিত, তাও আজ বলা সম্ভব নয়, কেন না পারমাণবিক বর্জ্য জমানো, ফেলা কিংবা বিনষ্ট করার খরচ আছে। সারাবিশ্বে বস্তুত তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ফেলার কোনো স্থান নেই। যার ফলে পরমাণু শক্তির ব্যবহার শুরু হবার ৫০ বছর পরেও তার আসল খরচ যে কি, তা আমাদের জানা নেই। সঙ্গে রয়েছে পরমাণু দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে বীমার খরচ। আণবিক চুল্লি¬ নির্মাণ করতে ঠিক কত খরচ পড়বে, তা আগে থেকে বলা কঠিন। ফিনল্যান্ড ও ফ্রান্সে এখন যে আণবিক চুল্লি¬ নির্মিত হচ্ছে, তার খরচ ইতিমধ্যেই চারগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্নাইডারের ধারণা, আজ আর এমন কোনো আণবিক চুল্লি¬ বানানো সম্ভব নয়, যা থেকে মুনাফা হবে। কাজেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও গ্যারান্টি ছাড়া আজ আর কোন দেশে আণবিক চুল্লি নির্মিত হবার সম্ভাবনা কম। জাপান সম্পর্কে মিউক্লে স্নাইডার-এর বক্তব্য, সেখানে সরকার পরমাণু শক্তির স্বপক্ষে কিন্তু জনসাধারণ পরমাণু শক্তির বিপক্ষে। জাপানের ৫০টি আণবিক চুল্লির মধ্যে মাত্র দু’টি এখন বিদ্যুত্ উত্পাদন করছে। —ডয়েচে ভেলে
