ভোলার পাওয়ার স্টেশন চত্বরে ২০০২ সালে স্থাপিত ৬ মে. ডিজেল বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি পাঁচ বছর যাবত্ অচল। যন্ত্রাংশের অভাব ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে মেরামত করে চালু করাও হচ্ছে না, প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়াও হচ্ছে না। উত্পাদন না থাকলেও একজন নির্বাহী প্রকৌশলী, চারজন সাব-এসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ও ৯ জন টেকনিশিয়ানসহ ২২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনভাতা বাবদ ব্যয় হচ্ছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এই বিদ্যুত্ কেন্দ্রে তিন মেগাওয়াট করে মোট দু’টি ইউনিট আছে। ৩ মে. একটি ইউনিটের ইঞ্জিন আরও ১০ বছর আগে সমপূর্ণ অচল হয়ে গেছে। আরেকটি ৩ মে. ইঞ্জিন যন্ত্রাংশের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। চালু হলেও এ কেন্দ্রের উত্পাদিত বিদ্যুত্ কোন ফিডারে দেয়া যাবে না বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। কারণ ভোলার চারটি ফিডারের প্রতিটিতেই বিদ্যুত্ চাহিদা প্রায় ৩ মে. করে। অথচ ঐ ইঞ্জিনটির উত্পাদন ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে দেড় মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। বর্তমানে ভোলায় ৩৪.৫ মে. গ্যাসচালিত রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র রয়েছে। ঐ কেন্দ্রের ইঞ্জিনটি পুরনো বিধায় যে কোন মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্য বরিশাল-ভোলা ৩৮ কি.মি. বিকল্প গ্রীড লাইন স্থাপন করা হলেও ঐ লাইনটিও ঝুঁকিপূর্ণ। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যদি রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র কোন কারণে অচল হয়ে পড়ে এবং বরিশাল-ভোলা ৩৩ কেভি গ্রীড লাইনে বড় সমস্যা হয়, তাহলে ভোলা জেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। সেক্ষেত্রে বরিশাল-ভোলা সঞ্চালন লাইনটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা দরকার।
