খন্ডকালীন কাজ দারুণ উপভোগ্য

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৬
একুশের বই মেলা। অজস্র বইয়ের সমাহার। নতুন বইয়ের গন্ধ। একটা উত্সব মুখর পরিবেশ। যেখানে প্রিয় লেখকের ভাবনা ছাপার হরফে পাওয়া যায়। ভাগ্য ভাল থাকলে প্রিয় লেখকের একটি অটোগ্রাফও মিলতে পারে। বইয়ের নেশায় মত্ত অনেক শিক্ষার্থী। বইয়ের কাছাকাছি থাকতেই মেলায় খন্ডকালীন কাজ করে অনেক ছাত্র-ছাত্রী। বই মেলায় কাজ দারুণ উপভোগ করছেন তারা। ইডেন কলেজের বাংলা বিভাগের ছাত্রী বৃষ্টি। বই মেলায় খন্ডকালীন চাকরি নিয়েছেন। মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে খুব পছন্দ করেন তিনি। একদিন জাফর ইকবাল মেলায় এসেছেন শুনে স্টল থেকে ছুটে গেলেন লেখকের কাছে। লুফে নিলেন বইসহ তাঁর অটোগ্রাফ। বই মেলায় কাজ করার বাড়তি সুবিধা হলো, নিয়মিতই দেখা হয় প্রিয় লেখকদের সঙ্গে জানান বৃষ্টি। নারায়ণগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইভান অন্যবারের মতো এবারও কাজ করছেন বই মেলায়। আগে কয়েকবার বিভিন্ন স্টলে কাজ করেছেন তিনি। এক মাসের বাড়তি আয় দিয়ে তিনি মেলার শেষদিনে বিভিন্ন স্টল ঘুরে বই কিনে নেন। বই কেনার পর অবশিষ্ট টাকা খরচ করেন পড়াশোনার পেছনে। মেলায় এসে খন্ডকালীন কাজ করা তাঁর কাছে খুব আনন্দের। ‘মেলায় অনেক মানুষের সমাগম হয়, দেখতে ভালো লাগে। আবার অনেকের সঙ্গে পরিচয়ও হয়’- জানালেন ইভান। মেলায় আরো অনেকের মতো কাজ করছেন ঢাকা কলেজের ম্যানেজমেন্টের ছাত্র মাহমুদুন নবী রতন। মাস শেষে পারিশ্রমিক কত পাবেন জানতে চাইলে বলেন, ‘প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানভেদে পারিশ্রমিকের হার কম-বেশি হয়। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পাওয়া যায়।’ ‘যাঁরা এখানে কাজ করেন তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করে দেয় স্টল কর্তৃপক্ষ।’ বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র নুর মোহাম্মদ। তিনি আরো জানান, ‘প্রতিদিন বেলা ২টার মধ্যে মেলায় আসতে হয়। হলে ফিরতে ফিরতে ১০টা। তবে ছুটির দিনগুলোয় পরিশ্রম একটু বেশি করতে হয়।’ বই মেলাতে কাজ করছেন তিতুমীর কলেজের সানজিদা শান্তা। মেলার পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘মেলায় গতবারের তুলনায় এবার লোকসমাগম বেশি। পরিবেশও ভালো, আমরাও নিজের মতো করে কাজ করতে পারছি।’