যে কোন প্রতিযোগিতায় ভাল ফলাফল সব সময় আনন্দের আর তা যদি হয় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় তাহলে তা আরো বেশি আনন্দ এবং গৌরবের। বলছিলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মেধাবী ছাত্র রাজিবুল ইসলাম রাজিবের কথা। অনার্স এবং মাস্টার্সে প্রথম হয়েছেন রাজিব।
জানালেন কখনোই খুব পড়ুয়া ছাত্র ছিলেন না তিনি। কিন্তু এখন পড়তে বেশ ভাল লাগে। বাড়ি পাবনা জেলার আটঘরিয়ার নাদুড়িয়া নামক গ্রামে। আট ভাই বোনদের মধ্যে সবার ছোট রাজিব। ব্র্যাক স্কুল দিয়ে শিক্ষা জীবনের সূচনা। শিক্ষিকা বড় বোন। পারখিদিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এস.এস. সি এবং পাঁচকান্দি ডিগ্রি কলেজ (নরসিংদী) থেকে এইচ.এস.সি পাস করেন কৃতিত্বের সঙ্গে। ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে সুযোগ পান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয়ের ইতিহাস বিভাগে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আসায় প্রথম বর্ষে একটু কষ্ট হলেও ৩.৩৮ পেয়ে প্রথম হন। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি। অনার্সে সি.জি.পি.এ ৩.৩৯ পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
মাস্টার্স পর্যায়ে তিনটি বিভাগের (বাংলাদেশ, ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আন্তর্জাতিক) মধ্যে বেছে নেন আন্তর্জাতিক অংশটি। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একান্ত সহযোগিতা ও দিক নির্দেশনায় এখানেও সি.জি.পি.এ ৩.৫৮ পেয়ে আবারও প্রথম হয়ে একাডেমিক জীবনের সফল সমাপ্তি করেন।
ভাল ফলাফলের দ্বারা বৃত্তি পেয়ে গত জুন মাসে ঘুরে আসেন পাকিস্তানের করাচি, লাহোর এবং ইসলামাবাদ। এ সময় সেখানকার ২০ টি বিশ্ববিদ্যালয় দেখার পাশাপাশি ঘুরে দেখেন বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনা যা তার ইতিহাস বিষয়ক জ্ঞানকে করেছে সমৃদ্ধ।
কিভাবে ভাল রেজাল্ট করা যায় এমন প্রশ্নে বলেন, ‘একটা ভাল কিছু সব সময়ই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক ভাল কিছুর সমষ্টি। সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের লেকচার মনোযোগ দিয়ে শুনে সে অনুসারে নোট করা, প্রয়োজনীয় আপডেটসহ তা বার বার চর্চা করা’।
কৃতজ্ঞতা জানাতে, এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলেন বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকার নাম। সেই সাথে কৃতজ্ঞতা জানান অকৃত্রিম বন্ধু মাহবুব হাসান রিপন, সোহেল রানা এবং ছোট ভাই তোফাজ্জল হোসেনের প্রতি। যাদের রয়েছে কার্যকরী সহায়তা।
বিশ্বাস করেন, সমাজের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো ভাল শিক্ষকবৃন্দ। সুযোগ পেলে সে পথের পথিক হওয়ার ইচ্ছে তার। আপাতত ইতিহাস বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন সদ্য ফলাফল হাতে পাওয়া রাজিব।
