হরতালে শেয়ারবাজারে লেনদেন কমেছে

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৪৩
জামায়াতের ডাকা হরতালের মধ্যেও গতকাল মঙ্গলবার শেয়ারবাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তবে সূচক বাড়লেও লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কমেছে। ব্রোকারেজ হাউস কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা ছিল কম, ফলে লেনদেন কমেছে। অনেকেই লেনদেন করেছেন দূরালাপনীর মাধ্যমে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গতকাল ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ১৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৩০৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৬৬ কোটি ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫১৫ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ৮৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা কম। লেনদেনকৃত ২৭২টি কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮৬ টির, কমেছে ৬৮ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮ টি কোম্পানির শেয়ারের। এদিন ডিএসইতে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৮ টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের হাত বদল হয়েছে। লেনদেনের ভিত্তিতে ডিএসই’র প্রধান ১০টি কোমপানি হলো-সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানি, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, গ্রামীণ ফোন, ইউনিক হোটেল, সানলাইফ ইন্সুরেন্স, সায়হাম কটন, যমুনা অয়েল, জেনারেশন নেক্সট, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও তিতাস গ্যাস। দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোমপানি হলো-কোহিনুর কেমিক্যাল, ১ম প্রাইম ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড, ডেল্টা স্পিনিং, মিরাক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানি, আল-হাজ্ব টেক্সটাইল, যমুনা অয়েল, পপুলার লাইফ, ইসলামিক ফাইন্যান্স ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম। অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোমপানি হলো-৫ম আইসিবি, ব্র্যাক সেকেন্ড, এপেক্স স্পিনিং, ইউনাইটেড ইন্সুরেন্স, এবিবি ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, দুলামিয়া কটন, এফবিএফআইএফ, ম্যারিকো, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, রহিম টেক্সটাইল। এদিকে গতকাল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৩ হাজার ৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন সিএসই-৩০ মূল্যসূচক ৮০ পয়েন্ট বেড়ে ১১ হাজার ৩৩৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ২ লাখ ৬২ হাজার ৪২০ টাকা। লেনদেনকৃত ১৮০টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৪টির, কমেছে ৪৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। জানুয়ারিতে ডিএসইতে নিট বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে ৯৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যা গত ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বছরের শুরুর এই মাসটিতে ডিএসইতে মোট বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৭৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয় আর ৩৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রয় হয়েছে। এর আগে গত বছর এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ নিট বিনিয়োগ ছিল ১৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর পর মে মাসে নিট বিনিয়োগ দাঁড়ায় ৯৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকায়, জুনে ৬৯ কোটি ২ লাখ টাকা, জুলাইতে ১৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, আগস্টে ১৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা, সেপ্টেম্বরে ৮৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, অক্টোবরে ৬৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা, নভেম্বরে ৫১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, ডিসেম্বরে ৪৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।