ছক্কা মেরে দুরন্ত রাজশাহীকে জয় এনে দিলেন মুক্তার আলী। তামিম ইকবাল ব্যাট করতে নামতে পারেননি। কিন্তু তামিমের অভাব দলকে বুঝতে দেননি জহুরুল ইসলাম ও মুক্তার আলী। দলকে মজবুত অবস্থানে নিয়ে গেছেন জহুরুল এবং শেষটা দুর্দান্ত করেছেন মুক্তার। মুক্তারের ১৭ বলে ২৬ রান দুই বল বাকি থাকতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা সিলেট রয়েলসকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে দুরন্ত রাজশাহী। ফিল্ডিংয়ের সময় হাতের কব্জিতে ব্যথা পেয়েছেন তামিম। এরপর আর ব্যাট হাতে নামতে পারেননি। যদিও এই ব্যথা নিয়ে টিম ম্যানেজম্যান্ট চিন্তিত নয়। দলের মিডিয়া ম্যানেজার আহামেদ রাকিব জানিয়েছেন, ‘কাল (আজ) এ্যাপোলো হাসপাতালে এক্সরে করতে যাবেন তামিম। আশা করছি খুব বেশি সমস্যা হয়নি। চিটাগাংয়ে ব্যথা পাওয়ার পর এক্সরে করার পর দেখা গেছে কোন কিছু ভাঙ্গেনি। কিন্তু পরের এক্সরে ভিন্ন এসেছিল। এবারও যখন প্রথমবারের মত এক্সরে করা হয়েছে তখন কোন ফ্রাকচার ধরা পড়েনি। তাই কাল আবার এক্সরে করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে’।
তামিমের ইনজুরির পর অবশ্য জহরুলই দলকে প্রয়োজনীয় সময়ে জ্বলে উঠেছেন। এই ব্যাটসম্যানের ফর্ম এখন তুঙ্গে। অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর একটি ফিফটি করেছেন এবং কাল ৩৭ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেলেছেন। দলকেও দুই ম্যাচে দুর্দান্ত জয় এনে দিয়েছেন। কাল ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকারও করেছেন অধিনায়কত্ব তার কাছে বাড়তি চাপ ছিল, ‘আসলে অধিনায়কত্ব আমার কাছে বাড়তি চাপ ছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে, এখন আমার মাথা খুলেছে। আমি আমার মত খেলতে পারছি’। দুরন্ত রাজশাহী ৯ ম্যাচে ৫ জয় নিয়ে ১০ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে চলে এসেছে। তাদের শেষ দু’টি জয় এসেছে চেজ করে। টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতেও রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করছেন। জহুরুল বলেন, ‘আসলে মিরপুরের যে উইকেট, তাতে আগে ব্যাট করে বোঝা যায় না। পরে ব্যাট করলে আমাদের সামনে কত রান সেটা লক্ষ্য নিয়ে খেলতে পারলে ভালো হয়। চেজ করলে দলের একটা পরিকল্পনা থাকে। আর এখানকার যে উইকেট তাতে আগে ব্যাট করার চেয়ে পরে ব্যাট করাটাই সহজ’।
রাজশাহীর কাছে হারে দুশ্চিন্তায় পড়েছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা সিলেট রয়েলস। ৮ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১২। আরো চার ম্যাচে কোন অঘটন হলে শেষ চারে যাওয়াটাও তাদের কঠিন হবে। কাল দলের সর্বোচ্চ এসেছে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে (৩৪)। এছাড়া ডুয়েন স্মিথ (২৪) ও মোহাম্মদ নবির (১৭) ব্যাট থেকে এসেছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ। দলের হারের মূল কারণ হিসেবে সোহরাওয়ার্দী শুভ দাবি করেছেন বাজে ফিল্ডিংকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাজে ফিল্ডিং হয়েছে। কয়েকটি সহজ রানআউট ও ক্যাচ মিস করেছি। ব্যাটিংয়েও ১৫-২০ রান কম হয়েছে’। শেষ তিন ওভারে রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল ২৩ রানের। সেখান থেকে জিততে পারতো সিলেট কিন্তু তিন বিদেশি ড্রিকস ন্যান্স, নবি ও স্মিথ ভালো করতে পারেননি। তবে এদের খারাপ বোলিংয়ের তুলনায় বেশি ভালো ব্যাটিং করেছেন মুক্তার। কাল এই ব্যাটসম্যানের প্রশংসা করতে গিয়ে জহুরুল বলেন, ‘আমি মুক্তারের কাছ থেকে এরকম একটি ইনিংসের আশা করেছিলাম। ওর সাথে আমি ঘরোয়া ক্রিকেটও খেলেছি। তাই আমার বিশ্বাস ছিল ও পারবে। মোট কথা ওর কাছে আমার প্রত্যাশাই ছিল’।
আজ বিপিএলের কোন ম্যাচ নেই। একদিন বিরতির পর আগামীকাল মুখোমুখি হবে চিটাগাং কিংস ও খুলনা রয়েল বেঙ্গলস। সন্ধ্যায় লড়বে সিলেট রয়েলস ও রংপুর রাইডার্স।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিলেট রয়েলস- ২০ ওভারে ১৪৭/৮ (মুশফিকুর ৩৪, স্মিথ ২৪, নবি ১৭, শুভ অপ: ১৮, মিলন ১৬, মুনাভিরা ২/১৯, মনির ২/৩৫)।
দুরন্ত রাজশাহী- ১৯.৪ ওভারে ১৫২/৫ (জহুরুল অপ: ৪৯, মুনাভিরা ২১, কভেন্ট্রি ২০, মুক্তার অপ: ২৬, জিয়া ১৯, স্মিথ ২/২৫)।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: জহুরুল ইসলাম। ফল: দুরন্ত রাজশাহী জয়ী ৫ উইকেটে।
