ক্রীড়া বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের ভিত কাঁপিয়ে তুলেছে শত শত ফুটবল পাতানো ম্যাচ। একটি সংঘবদ্ধ চক্র সিঙ্গাপুর থেকে ফুটবল দুনিয়ায় এই ম্যাচ পাতানোর ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। পুলিশ জানায় প্রায় ৬৮০টি ম্যাচ আছে এই সন্দেহের তালিকায়। এর মধ্যে আছে বিশ্বকাপ, ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেলাও। একটি খেলায় লিভারপুলের নামও উঠে আসে। ইউরোপোল এর পরিচালক রব ওয়েনরাইট বলেন, ‘ইউরোপীয়ান ফুটবলের জন্য এটি একটি বেদনার দিন। এটা এখন ফুটবলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। যারা ফুটবল চালাচ্ছেন তাদের এই ব্যাপারটাকে সতর্ক সংকেত হিসেবে নেয়া উচিত।’
দুনিয়ার প্রতিটি মহাদেশেই ফুটবল খেলা হয়। বিশ্বকাপ ও ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বিশ্বজুড়ে দেখানোর সুবাদে শত শত কোটি ডলার আয় করে থাকে জাতীয় এসোসিয়েশন, ক্লাব ও সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে ইউরোপীয় পুলিশের নিয়ামক প্রতিষ্ঠান ইউরোপোল অনুসন্ধান চালিয়ে যে খেলাগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সেসব অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে। সন্দেহজনক খেলাগুলো মধ্যে ৩৮০টি হয় ইউরোপে, অবশিষ্ট ৩০০ খেলার খোঁজ মেলে আফ্রিকা, এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকায়। এসব কর্মকাণ্ডে রেফারি, ক্লাব কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও অপরাধী মিলিয়ে ১৫টি দেশের ৪২৫ জন জড়িত বলে উল্লেখ করেছে ইউরোপোল।
এশিয়ার বাজিকর চক্রকে এর সাথে সম্পকির্ত হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে। সংঘবদ্ধ অপরাধীদের এজন্য খেলাটির প্রতি হুমকি হিসেবে দেখা হয়ে আসছিল দীর্ঘদিন থেকেই। কিন্তু সোমবার ইউরোপোলের দেয়া তথ্য ভয়াবহতার সমস্ত অনুমানকে ছাড়িয়ে যায়। এই তথ্য প্রকাশের পর ফুটবলের বিশ্ব সংস্থা ফিফার নিরাপত্তা বিষয়ক পরিচালক সাবেক জার্মান পুলিশ কর্মকর্তা রালফ মাটশকে বলেন, ‘ক্রীড়া সংস্থাগুলো এবং কৌঁসুলিদের আরো নিবিড়ভাবে কাজ করা দরকার।’
গত বছর দুর্নীতি দমন নিরোধী একটি সংস্থার প্রধান জানিয়েছিলেন ক্রীড়া বিশ্বে প্রতিদিন ৩০০ কোটি ডলারের জুয়া খেলা হয়। এর সিংহভাগই আসে এশিয়া থেকে এবং ফুটবল ম্যাচগুলোকে নিয়েই হয় এই জুয়ার আসর।
ইউরোপোলের তথ্যমতে সিঙ্গাপুরের ওই বাজিকর চক্র ২০০৯ সালে লিভারপুলের মাঠে হাঙ্গেরির দল ডেবরেচেনের বিরুদ্ধে স্বাগতিকদের জয়টিকেই ইউরোপে পাতানো ৩৮০ খেলার একটি হিসেবে চিহ্নিত করে। ডেবরেচেন গোলরক্ষক ভুকাসিন পোলেকসিচকে ওই খেলায় দু’টির বেশি গোল হজমের জন্য অর্থ দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। যদিও তিনি তা করতে পারেননি এবং লিভারপুল ডার্ক কাইয়ুটের একমাত্র গোলে ম্যাচটিতে জয়ী হয়েছিল। ভুকাসিনকে এরপর ফিওরেন্তিনার বিরুদ্ধে পাতানো ম্যাচে অংশ নিতেও অর্থ দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে। ইটালির দলটি এই খেলায় ৪-৩ গোলে জিতেছিল। গোলরক্ষকটিকে এরপর পাতানো ম্যাচ সম্পর্কিত তথ্য জোগান দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে নিষিদ্ধ করা হয়। লিভারপুল অবশ্য জানিয়েছে কেউ তাদের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেনি। অপরদিকে ইংলিশ ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা এফএ দাবি করে, ‘তারা এই দেশে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোন খেলায় সন্দেহজনক কিছুর প্রামাণ্য তথ্য পায়নি।’ ইউরোপোলের তালিকায় অবশ্য ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের কোন খেলা নেই। তাদের তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫০টি খেলার ব্যাপারে ‘নিখুঁত প্রমাণ’ আছে। অবশ্য প্রাপ্ত অভিযোগের মধ্যে অধিকাংশ খেলাই নিচের দিকের লিগগুলোতে। সন্দেহজনক ম্যাচগুলোর তালিকায় আছে তুরষ্ক (৭৯), জার্মানি (৭০), সুইজারল্যান্ড (৪১), ফিনল্যান্ড (৩২), হাঙ্গেরি (২০) ও বেলজিয়ামে (১৯) অনুষ্ঠিত খেলাগুলো।
