বলিউড

বিয়ের পর বিদ্যা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪৬
বিদ্যা বালানকে এখন অনেকেই পুরস্কারকন্যা অভিহিত করছেন। এখন বলিউডের প্রতিটি অ্যাওয়ার্ড ফাংশনে তাকে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার হাতে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দেখা যাচ্ছে। সেরা অভিনয়ের স্বীকৃতি মিলছে বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ডে। শুধুমাত্র এবারই নয়, গত টানা তিন বছর ধরে বিদ্যা সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারটি বগলদাবা করছেন আপন যোগ্যতায়। স্রেফ সেরা অভিনেত্রী বিবেচিত হওয়া নয়, তার অভিনীত ছবিগুলো একের পর এক বক্স অফিসে কাঁপিয়ে তুলছে। বলিউডের সমসাময়িক অন্যান্য শীর্ষ জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মতো ততটা আবেদনময়ী না হয়েও বারবার বাজিমাত করছেন বিদ্যা। সাফল্যের সিরিজ জয়ী এই গুণী অভিনেত্রী রীতিমতো বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। কয়েক মাস আগে বিয়ের পিঁড়িতে বসা বিদ্যা বালানের ঘর-সংসার, ক্যারিয়ার এবং সাফল্যের সিরিজ জয়ের নানা কথা তুলে ধরেছেন রেজাউল করিম খোকন বিয়ের পর এর মধ্যে প্রায় দুই মাস সময় পেরিয়েছে। এখন সবাই তাকে মিসেস বিদ্যা বালান রায় কাপুর নামে সম্বোধন করছেন। বলিউডের প্রতিষ্ঠিত চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ইউটিভির শীর্ষ কর্তাব্যক্তি সিদ্ধার্থ রায় কাপুরের সঙ্গে গত বেশ কয়েক বছরের প্রেম-রোমান্সের পর গত ডিসেম্বরে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি। এখন বিদ্যার বয়স ৩৪ চলছে। বিয়ের বয়স আরও আগেই হয়েছে। কিন্তু ক্যারিয়ার নিয়ে মেতে থাকায় তখন বিয়ের বিষয়ে ততটা সিরিয়াস হননি। ১৬ বছর বয়স থেকে অভিনয়ের শুরু হলেও বলিউডে বিদ্যার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল আট বছর আগে ২০০৫-এ। তখন তার বয়স ছিল ২৭। ‘পরিণীতা’ ছবিতে নিজেকে যথেষ্ট সম্ভাবনাময়ী হিসেবে প্রমাণের মধ্যে দিয়ে বলিউডে পথচলা শুরু হয়েছিল তার। সেই থেকে ‘কাহানি’ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের আট বছরের পথ চলায় যে ছবিগুলোতে অভিনয় করেছেন প্রতিটিতেই মেধার প্রকাশ ঘটানোর পাশাপাশি স্বাতন্ত্র্যের প্রমাণ দিয়েছেন। সমসাময়িক অন্যান্য নায়িকাদের সঙ্গে তুলনামূলক বিচারে অভিনেত্রী হিসেবে তাকে মেধাবী বিবেচনা করলেও নিজের গ্ল্যামারাস ইমেজ ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে বেশ অনেকটা পিছিয়ে ছিলেন বিদ্যা। তার ড্রেস সেন্সের অভাব নিয়েও যথেষ্ট সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু সব সমালোচনাকে ছাপিয়ে যখন তিনি ‘পা’, ‘ইশকিয়া’, ‘নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা’, ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ ও ‘কাহানি’ ছবিতে লাগাতার দুর্দান্ত সেরা অভিনয়ের স্বাক্ষর রাখেন তখন দর্শক-সমালোচক বিদ্যার প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত না হয়ে পারেননি। যারা বিদ্যা অভিনীত ছবিগুলো দেখেছেন তারা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন প্রতিটি ছবিতেই ভিন্ন ধাঁচের, জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং রোলে অভিনয় করেছেন তিনি। একটি চরিত্রের সঙ্গে আরেকটির কোনো মিল নেই। সবগুলো চরিত্র রূপায়ণে যথেষ্ট আন্তরিকতা এবং সিরিয়াস মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন বিদ্যা। অভিনীত চরিত্রগুলোর গভীরে ডুবে যেতে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন, এ জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। যেমন ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ ছবিতে সিল্ক চরিত্রে রূপায়ণের সময়ে নিজেকে চরিত্রের দাবি মেটাতে স্থূলকায়া হয়েছেন কিছুটা। নিজেকে সাহসী ইমেজে ক্যামেরার সামনে তুলে ধরতে একটুও দ্বিধা করেননি। ফলে ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ ছবিতে সিল্ক চরিত্রটি জীবন্ত এবং দর্শকদের জন্য স্মরণীয় হয়ে উঠেছে। সবাই দীর্ঘদিন এ ছবিতে তার দুর্দান্ত অভিনয়ের কথা মনে রাখবে। একইভাবে ‘কাহানি’ ছবিতে নিখোঁজ স্বামীর খোঁজে কলকাতা শহরে আসা অ্যাডভান্সড স্টেজের একজন প্রেগন্যান্ট গৃহবধূ বিদ্যা বাগচির চরিত্রে তার অসাধারণ বিশ্বাসযোগ্য অভিনয়ের কথা বলা যায়। বলিউডের সমসাময়িক অন্যান্য জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীরা বিদ্যা অভিনীত উল্ল্লিখিত চরিত্রগুলো এতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে রূপায়ণের মাধ্যমে দর্শক-সমালোচকদের আলোড়িত করতে পারতেন কি না সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। ভারতের কেরালার মেয়ে হলেও বিদ্যা হিন্দি, বাংলা, মালায়লাম ভাষার ছবিতে অভিনয় করেছেন। ১৯৯৫-এ জিটিভির জনপ্রিয় কমেডি সিরিয়াল ‘হাম পাঁচ’ দিয়ে তার অভিনয় শুরু হয়েছিল। তখন বিদ্যা ষোড়শী তরুণী। এরপর সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেতে চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। তখন বেশকিছু মিউজিক ভিডিও এবং অ্যাডে মডেল হিসেবে কাজ করেন। বড় পর্দায় তার প্রথম অভিনয় শুরু হয়েছিল কলকাতার বাংলা সিনেমা ‘ভালো থেকো’র মাধ্যমে। বলিউডে ক্যারিয়ার শুরুর পর তাকে যে ছবিগুলোতে দেখা গেছে তার প্রতিটিতেই তিনি ছিলেন সপ্রতিভ। ‘লাগে রাহো মুন্না ভাই’, ‘কিসমত কানেকশন’, ‘একলব্য’, ‘হে বেবি’, ‘গুরু’, ‘সালাম-ই-ইশক’, ‘হাল্লা বোল’—অভিনীত সব ছবি সমানভাবে ব্যবসায়িক সফলতা না পেলেও বিদ্যার পর্দা উপস্থিতি প্রতিবারই দর্শকদের চমকিত করেছে। তবে গত কয়েক বছরে ‘পা’, ‘ইশকিয়া’, ‘নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা’, ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ ও,‘কাহানি’ ছবিগুলোতে বিদ্যা আবির্ভূত হয়েছেন একজন শক্তিশালী অভিনেত্রী রূপে। এ ছবিগুলোতে তিনিই ছিলেন মূল কেন্দ্রবিন্দুতে। তার বিপরীতে নায়ক থাকলেও তাদেরকে ম্লান ও দুর্বল মনে হয়েছে। এ ছবিগুলোর সমালোচকরা বিদ্যার পর্দা উপস্থিতি ও শক্তিশালী অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে বলেছেন, ‘বিদ্যাই ছবিগুলোর মহিলা হিরো।’ এখন হিন্দি সিনেমার শীর্ষ অভিনেত্রীদের তালিকায় বিদ্যা বালানের নামটি চট করেই এসে যাচ্ছে। এক বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পাঁচটি ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার, পাঁচটি স্ক্রিন পুরস্কার জয়ী বিদ্যা বালান অভিনয় জীবনে সাফল্যের তুঙ্গে পৌঁছার পর ঘর-সংসার শুরু করেছেন। বিভিন্ন সময়ে সহশিল্পী নায়কদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে প্রেম-রোমান্সের গুঞ্জন ছড়ালেও সেগুলো পরবের্তীতে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিদ্যা নিজেও তেমন সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন। হুট করে আবেগের বশে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। দীর্ঘ কয়েক বছর প্রেম করার পর সিদ্ধার্থ রায় কাপুরকে বুঝে-শুনে বিয়ে করেছেন। ক্যারিয়ারের মতোই ব্যক্তিজীবনেও ম্যাচিওরিটির প্রমাণ দিয়েছেন বিদ্যা। বিয়ের পর বলিউডির এই শক্তিশালী অভিনেত্রীর অভিনয় জীবন কোন খাতে প্রবাহিত হবে—তেমন প্রশ্ন এখন অনেকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিদ্যা নিজেও বলেছেন দাম্পত্যজীবন শুরু করলেও আগের মতো অভিনয় চালিয়ে যেতে চান তিনি। তার স্বামী সিদ্ধার্থ রায় কাপুরও সিনেমা জগতের মানুষ, একজন নেতৃস্থানীয় চলচ্চিত্র প্রযোজক। স্ত্রীর অভিনয়ের ক্ষেত্রে তিনি কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না বলেই সবার ধারণা। কিন্তু এর আগে কাজল, ঐশ্বরিয়া রায়, শিল্পা শেঠি, রাভিনা ট্যান্ডন, মাধুরী দীক্ষিত, কারিশমা কাপুরা যেমন বিয়ের পর ধীরে ধীরে অভিনয় জগত্ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে ঘর-সংসারে মনোযোগী হয়েছেন বিদ্যাও হয়তো তাদের পথ ধরে স্বামী-সংসার নিয়ে ব্যস্ত হবেন, সন্তানের মা হবেন। বর্তমানে বিদ্যা ইমরান হাশমির বিপরীতে ‘ঘনচক্কর’ ছবিতে অভিনয় করছেন। ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ ছবিতে একসঙ্গে অভিনয়ের পর বিদ্যার আবার ইমরান হাশমির পর্দা প্রেমিকা হয়েছেন নির্মাণাধীন ‘ঘনচক্কর’ ছবিতে। এ ছাড়াও ‘শাদি কে সাইড এফেক্টস’ ছবিতে কাজ করছেন বিদ্যা। বেশ কয়েক বছর আগে নির্মিত ‘পেয়ার কে সাইড এফেক্টট’ ছবির সিক্যুয়েল নতুন এ ছবিতে বিদ্যা প্রথমবারের মতো পরিচালক-নায়ক ফারহান আখতারের বিপরীতে অভিনয় করছেন। আপাতত এই দুই নতুন ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন বিদ্যা। ওদিকে সুজয় ঘোষ তার ‘কাহানি’ ছবির বিরাট সাফল্যের পর এ ছবির সিক্যুয়েল নির্মাণের আয়োজন করছেন। ‘কাহানি-২’-তে ও বিদ্যা বালান মূল ভূমিকায় থাকবেন বলে জানা গেছে। এ ছবিতেও তিনি অভিনয়ের আরও বড় চমক নিয়ে পর্দায় উপস্থিত হবেন ধারণা করা যায়। বিবাহিতা নায়িকাদের কদর কমে যায়—তেমন কথা প্রচলিত রয়েছে শোবিজ। তবে বিদ্যা বালান জানান, যে ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তোলপাড় তুলেছেন,. সেরা অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন প্রতিবছর তেমন জটিল চ্যালেঞ্জিং রোলে অভিনয়ের ক্ষেত্রে বিবাহিতা নায়িকার ইমেজ তেমন প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না। এখনও তিনি তেমন জটিল, শক্তিশালী নারী চরিত্রগুলোতে নিজেকে অনায়াসে মানিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে হয়।