বছর ঘুরে আবার আসর মাতাতে এলো অস্কার। সম্প্রতি এর নমিনেশন পর্ব শেষ হয়েছে। নমিনেশনের তালিকায় কয়েকটি নামের মধ্যে উঠে এসেছে ব্র্যাডলি কুপার ও জেনিফার লরেন্স অভিনীত ‘সিলভার লাইনিং প্লেবুক’ সিনেমাটি। এর গল্প নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
আমেরিকান কমেডিধর্মী সিনেমা ‘সিলভার লাইনিং প্লেবুক’। ডেভিড ও. রাসেল-এর নির্দেশনায় করা হয়েছে সিনেমাটি। গল্পের সাথে সিনেমাটিতে আকর্ষণ যোগ করেছেন ব্রাডলি কুপার ও জেনিফার লরেন্স। সিনেমাটি ভালো সাফল্য অর্জন করেছে। ২০১২ সালের টরেন্টিনো ইন্টারন্যাশনাল মুভি ফেসটিভ্যালের ছবিটির প্রিমিয়ার দেখানো হয়েছিল। সারাবিশ্বে মুক্তি দেওয়া হয় ১৬ নভেম্বর। মুক্তির সাথে সাথেই সব জায়গায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয় সিনেমাটি। শুধু তাই নয়, সেরা চলচ্চিত্র ক্যাটাগরিতে আটটি নমিনেশন পেয়েছে সিনেমাটি। সেই সাথে সেরা পরিচালক হিসেবে মনোনায়ন দেওয়া হয়েছে রাসেলকে। সেই সাথে জেনিফার লরেন্স চারটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন।
সিলভার লাইনিং প্লেবুক
ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রবার্ট ডি নিরো, ব্র্যাডলি কুপার, জেনিফার লরেন্স, জ্যাকি ওয়েভার, বলিউড অভিনেতা অনুপম খের প্রমুখ।
গল্পে দেখা যায় স্কুল শিক্ষক প্যাট (ব্র্যাডলি কুপার) জানত না যে সে অনেকদিন ধরেই বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভুগছে। নিজের স্ত্রীকে তার এক সহকর্মীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় আবিষ্কার করবার পর সে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং ক্রোধে অন্ধ হয়ে কিছু সহিংস ঘটনা ঘটায়, এর ফলে তাকে একটি মানসিক রোগের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। সেখানে তাকে আট মাস থাকতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত তার বাবা-মায়ের (রবার্ট ডি নিরো এবং জ্যাকি উইভার) তত্ত্বাবধানে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়। তার প্রত্যাশা সে আবার তার স্ত্রীকে ফেরত পাবে যদিও তার কাছাকাছি যাওয়ার ব্যাপারে তার ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
টিফানি (জেনিফার লরেন্স) এক অল্পবয়সী বিধবা, স্বামীর মৃত্যুর পর সে মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হয়, চিকিত্সা গ্রহণের সময়ই প্যাটের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। তাদের সম্পর্ক ঠিক বন্ধুর মতো না হলেও প্যাট তার সঙ্গে দেখা করে। টিফানি এক শর্তে প্যাটকে তার স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার জন্য সাহায্য করার প্রস্তাব দেয়, শর্তটি হলো তাকে একটি নাচের প্রতিযোগিতায় তার পার্টনার হতে হবে। প্যাট তার শর্তে রাজি হয়ে যায়। তাদের মাঝে সম্পর্কটি কখনও পছন্দের আবার কখনও ঘৃণার, তবে একে অপরকে সাহায্য করার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের সম্পর্ক কি এর চেয়ে বেশি কিছু হতে পারে। প্যাটের দুইটি উদ্দেশ্য, প্রথমত তার স্ত্রীকে ফিরে পেতে হবে, দ্বিতীয়ত চাকরিটাও ফিরে পাওয়া চাই। শেষ পর্যন্ত সে তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে কিনা তাও সে বুঝতে পারছে না। এদিকে টিফানির সঙ্গে তার সম্পর্ক ক্রমশ আরও অন্তরঙ্গ হতে শুরু করেছে। এভাবেই এগিয়ে চলে ‘সিলভার লাইনিংস প্লেবুক’ ছবির গল্প।
অভিনেতা ব্র্যাডলি কুপার
‘হ্যাংওভার’ ও ‘লিমিটলেস’ খ্যাত অভিনেতা ব্র্যাডলি কুপার। প্রথমে তিনি ‘এলিয়াস’ নামের এক টিভি সিরিজ করে পরিচিতি অর্জন করেন। এরপর ২০০৫ সালে সাপোর্টিং রোল হিসেবে ‘ওয়েডিং ক্রাশারস’-এ অভিনয় করেন। এ ছাড়াও ‘ইয়েস ম্যান’ (২০০৮), ‘হিজ নট জাস্ট ইন্টু উই (২০০৯)’ সিনেমাগুলোতে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে ‘হ্যাংওভার’, ‘এ টিম’ সিনেমাগুলোর মধ্যে দিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসেন এই তারকা। এই প্রথম তিনি ‘সিলভার লাইনিং প্লেবুক’ সিনেমার মধ্য দিয়ে সেরা অভিনেতা হিসেবে একাডেমি পুরস্কারের মনোনীত হন।
অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স
গোল্ডেন গ্লোব জয়ী ২২ বছর বয়সী অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স এবারও এসএজি অ্যাওয়ার্ডে ‘সিলভার লাইনিংস প্লেবুক’-এ অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রী পুরস্কারটি জিতে নিয়েছেন। কিছুদিন আগেই ‘হাঙ্গার গেমস’ খ্যাত জেনিফার লরেন্স বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। অভিনয় তো আছেই, পাশাপাশি এই স্বর্ণকেশীর সৌন্দর্যেও যেন মোহিত বিশ্বের সব ভক্তরা। গত বছরে একই তালিকার ৪৭ নম্বরে থাকা লরেন্স এবার তাই উঠে এসেছেন শীর্ষে।
