‘অমিতা কা অমিত’ সিরিয়ালটি দেখতে বসে অনেক তরুণ-তরুণী দর্শক নিজেদেরকে খুঁজে পাচ্ছেন যেন এর প্রধান পাত্র-পাত্রীর মাঝে। নতুন হিন্দি সিরিয়াল ‘অমিতা কা অমি’-এর নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম
অমিতা বাইশ বছর বয়সী এক তরুণী। সাদামাটা সহজ সরল স্বভাবের। পাশের বাড়ির মেয়েটির মতো। গুজরাটি পরিবারের মেয়ে অমিতা থাকে মুম্বাইয়ের মায়ের সাথে। আর্টস গ্র্যাজুয়েট মেয়েটি খেতে বেশ ভালোবাসে, বান্ধবীদের সঙ্গে গল্প-গুজব-আড্ডা দিয়ে অবসর সময়গুলো কাটায় সে। একান্তে সে পছন্দের জীবনসঙ্গীর কথা কল্পনা করতে গিয়ে স্বপ্নের ভুবনে হারিয়ে যায়। বলিউডের সুদর্শন সুপুরুষ নায়কদের মতো হবে তার জীবনসঙ্গী—ভাবতে ভাবতে বিভোর হয়ে যায় অমিতা। হবু স্বামীর মিস্টার পারফেক্ট ইমেজের পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির পরিবেশের চমত্কার চিত্র কল্পনা করে তার বেশির ভাগ সময় কেটে যায়। নিজের স্থূল শরীর নিয়ে কিছুটা বিব্রত থাকলেও জীবনসঙ্গী হিসেবে অমিতা একজন চমত্কার সুদর্শন পুরুষকেই চায়। কয়েক বছর আগে এক কাজিনের বিয়েতে দেখা নিজের ভাইয়ের বন্ধু সুরুজের প্রতি মনে মনে আকৃষ্ট হয় সে। অনেক কষ্টে অমিতা সুরুজের ফোন নম্বর জোগাড় করে তার সঙ্গে কথা বলে। সুরুজ তার সঙ্গে একান্তে কিছু কথা বলার জন্য ডাকলে ভীষণ পুলকিত হয় সে। অমিতা সুরুজকে নিয়ে অনেক কিছু কল্পনা করে। রোমান্টিক সেই ভাবনায় অমিতা সুরুজকে প্রেমিক হিসেবে ঠাঁই দিলেও বাস্তবে সুরুজের মনের খবর জানতে পারে না সে। নিজেকে যতটা সম্ভব আকর্ষণীয় সাজে সজ্জিত করে সুরুজের মুখোমুখি হয় অমিতা। এ-কথা সে-কথার পর সে প্রতীক্ষা করতে থাকে সুরুজের মুখ থেকে সেই কথাটি শোনার জন্য, কখন সুরুজ তাকে বলবে ভালোলাগার কথা, ভালোবাসার কথা। একসময় সুরুজ যখন জানায় অমিতার ঘনিষ্ঠ বান্ধবীদের একজন প্রীতিকে সে খুব পছন্দ করে, প্রীতিকেই সে জীবনসঙ্গী করতে চায় তখন অমিতার হূদয় ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সুরুজকে নিয়ে তার এতদিনের স্বপ্ন, ভাবনা, চিন্তা সবই মিথ্যে হয়ে যায়। ভাঙা হূদয় নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে অমিতা। হঠাত্ সে খুব চুপচাপ হয়ে যায়। মেয়ের উদাসী মনোভাব বাবা-মাকে স্বাভাবিকভাবে চিন্তিত করে। তারা অমিতার বিয়ের জন্য পাত্র খোঁজা শুরু করেন। ওদিকে আরেক গুজরাটি পরিবারের ছেলে অমিত। তার বয়স ২৪। কাজ করে এক স্টক ব্রোকার এজেন্সিতে। বিয়ের জন্য মনে মনে অমিতও সুন্দরী স্মার্ট শিক্ষিত ঘর-সংসার সামলানোর কাজে চৌকষ অলরাউন্ডার তরুণীর পারফেক্ট ছবি কল্পনা করে। জীবনসঙ্গিনী হিসেবে একজন সুন্দরী চৌকষ স্মার্ট মেয়েকেই প্রত্যাশা করে সে। অমিতা ও অমিতের পরিবার ঘটনাচক্রে তাদের দুজনের বিয়ের ব্যাপারে কথা বলে একমত হয়। তাদের দুজনেরই জীবনসঙ্গী হিসেবে অনেক উচ্চাশা থাকলেও একসময় বিয়ে হয়ে যায়। এক জোড়া সাধারণ তরুণ-তরুণীর বিয়ের পর দাম্পত্যজীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ‘অমিতা কা অমিত’ সিরিয়ালে তুলে ধরা হবে আগামীতে। তারা বিয়ের আগে দাম্পত্যজীবন নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিল বাস্তবে কি সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে—সেটা দেখাতে গিয়ে বাস্তবতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আসলে সব তরুণ-তরুণীই বিয়ের আগে হবু স্ত্রী ও স্বামী সম্পর্কে যে রকম চিন্তা করে যেমন প্রত্যাশা করে বাস্তবে তার সঙ্গে অনেক কিছুই মিলে না। সনি এন্টারটেইনমেন্ট টিভি চ্যানেলে ‘অমিতা কা অমিত’ সিরিয়ালটি সপ্তাহের প্রতি সোম থেকে শুক্রবার রাত ৯টায় দেখানো হয়।
