যে কেউ চাইলেই শাবনূর-মৌসুমী হতে পারবে না

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:০০
মু খো মু খি রুমানা। ছোটপর্দা থেকেই চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। তবে এখনও তিনি ছোটপর্দা ও রুপালি পর্দায় নিয়মিতই অভিনয় করছেন। যদিওবা বড়পর্দার তুলনায় তিনি ছোটপর্দাতেই বেশি সফল। সম্প্রতি তিনি ‘হূদয়ে ৭১’ নামের একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র অভিনয় শুরু করেছেন। এই চলচ্চিত্রসহ নিজের সাম্প্রতিক ব্যস্ততা এবং মিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন অর্ক হাসান আপনি তো ‘হূদয়ে ৭১’ চলচ্চিত্রে কাজ করছেন, এ প্রসঙ্গে কিছু বলুন— অনেকদিন পর আমি আবার মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রে কাজ করছি। গত ক’দিন ধরে অনেক ব্যস্ত সময় কাটালাম এই ছবিটি নিয়ে। ইনশাহআল্লাহ আজ এই ছবিতে আমার শুটিংয়ের কাজটুকু শেষ হবে। তারপর খুব শীঘ্রই ডাবিংয়ে যাব। আর এই প্রথম আমি বীরাঙ্গনার চরিত্রে অভিনয় করছি। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র তো, খুবই স্পর্শকাতর। কাজটি করতে খুবই ভালো লাগছে। ছবিটি পরিচালনা করছেন সাদেক সিদ্দিক। তার পরিচালনায় এর আগে নাটক-টেলিফিল্মে কাজ করেছি, তবে চলচ্চিত্রে এটাই প্রথম। কাজে অনেক যত্ন নেন তিনি। তারপর ছবিটির গানগুলোও অনেক যত্ন করে করা হয়েছে। একটি গান গেয়েছে পড়শী, এই গানটির কথা লিখেছেন জাহিদ আকবর আর সংগীত পরিচালনা করেছেন তানভীর তারেক। এই গানটি খুবই দারুণ হয়েছে। গানটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। আর এই ছবিতে আমার বিপরীতে চিত্রনায়কের ভূমিকাটি পালন করছেন ইমন। আর কী কী কাজ করছেন এখন? ২০১২-তে তেমন কোনো ছবিতে কাজ করিনি। কিছু নাটক ও টেলিফিল্মে কাজ করেছি। এ বছর অনেকগুলো ছবির কথা চলছে, কাজও করছি। বাকিগুলোর কাজ যেকোনো সময় শুরু হয়ে যেতে পারে। ফিল্ম তো, কখন আসে কখন যায় তার হদিস পাওয়া যায় না। তবে এখন থেকে নিয়মিত কাজ করব। আপনি তো অনেকগুলো চলচ্চিত্রেই অভিনয় করেছেন। একজন সফল চিত্রনায়িকার জনপ্রিয়তাটা কি অর্জন করতে পেরেছেন? আসলে আমি তো এসেছিই ছোটপর্দা থেকে। সেই জায়গা থেকে আমার চাওয়াটাও একটু কম। আর আমি কখনোই আশা করতে পারব না শাবনূর-মৌসুমী হওয়ার জন্য। এক নম্বর নায়িকা বা শীর্ষ নায়িকা হওয়ার সেই ইচ্ছেটাও আমার নেই। নিয়মিত অভিনয় করে যেতে চাই। একজন অভিনেত্রী হিসেবেই থাকতে চাই। আর যে পরিমাণ দর্শকরা আমাকে গ্রহণ করেছে তাই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি এতেই সন্তুষ্ট। আর যে কেউ চাইলেই শাবনূর-মৌসুমী হতে পারবে না। আমাদের বর্তমান চলচ্চিত্রের অবস্থা প্রসঙ্গে বলুন— এখন তো অনেক ভালো ভালো ফিল্ম হচ্ছে। ভালো ফিল্মও হচ্ছে, আবার আগে চেয়ে সংখ্যায়ও বেশি হচ্ছে। কিছু কিছু ছবি প্রমাণ করে দিয়েছে এ দেশের দর্শকরা চলচ্চিত্র অবশ্যই পছন্দ করে। দর্শকরাও সিনেমা হলে আসতে শুরু করেছে। কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে, এসব সমস্যা খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে। আমাদের চলচ্চিত্র আবার আগের সেই সম্মান, আগের সেই চাহিদা ফিরে পাবে। সম্প্রতি এক আলোচনায় কলকাতা ও বাংলাদেশের নির্মাতা ও শিল্পীরা যেন যৌথভাবে কাজ করতে পারে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আলোচনা হয়। যদি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় তাহলে কেমন হবে বলে আপনার মনে হয়? আমি মনে করি, অবশ্যই ভালো হবে। কলকাতার ইন্ডাস্ট্রি টেকনিক্যালি আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে। একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করলে আমরাও সেই প্রযুক্তির অংশ হওয়ার সুযোগটা খুব সহজেই পাব। তার পাশাপাশি বাংলাদেশের বাইরেও এ দেশের চলচ্চিত্রের পরিচিতি বাড়তে শুরু হবে। সেই সুযোগে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিও নিজেদের ডেভেলপ করার জন্য আরও একটা বাড়তি সুযোগ পেয়ে যাবে।