মির্জাপুরে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে পুড়ে গেছে ১৫ হেক্টর জমির ফসল

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ১৫:৩৩

তিন ফসলি জমির উপর গড়ে উঠা অবৈধ ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে পুড়ে গেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের প্রায় ১৫ হেক্টর বোরো ধান ক্ষেত। ইট ভাটার কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে বোরো ধান ক্ষেতের ফসল পুড়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়েছেন এলাকার কয়েকশ কৃষক। ক্ষতি পুরণ ও ন্যায় বিচারের দাবিতে জন্য অসহায় কৃষকরা ইট ভাটা মালিকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে শরণাপন্ন হয়েছেন বলে জানা গেছে। 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৯ নং বহুরিয়া ইউনিয়নের কোর্ট বহুরিয়া গ্রামে বিষাক্ত গ্যাসে বোরো ধান ক্ষেত পুড়ে যাওয়ার এ ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার কোর্ট বহুরিয়া গ্রামের ঘটনাস্থল ঘুরে বোরা ধান ক্ষেত পুড়ে যাওয়ার ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। ওই গ্রামের কৃষক ও প্রজেক্টের মালিক মো. বাদশা মিয়া অভিযোগ করেন, 'দেওহাটা, মীর দেওহাটা, বহুরিয়া ও কোর্ট বহুরিয়া গ্রামের তিন ফসলি জমির উপর কমপক্ষে ৩০-৩৫ টি অবৈধ ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এসব ভাটার মালিকরা প্রশাসনের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে স্থানীয় কৃষকদের নানা ভাবে ভয়ভিতি দেখিয়ে জমি জবর দখল করে রাতারাধি এসব ইট ভাটা গড়ে তুলেছেন। এসব ইট ভাটার নেই কোন পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং প্রশাসনের অনুমোদন। প্রশাসনের বিভিন্ন অধিদপ্তরে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ভাটা মালিক ও তাদের সিন্ডিকেট দলের সদস্যরা বাসা বাড়ির আশপাশ ও ফসলি জমির উপর ইট ভাটা স্থাপন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইট ভাটার কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে এলাকার বোরা ধান ক্ষেত, মৌসুমী ফসলের ক্ষেত, গাছপালা, বিভিন্ন ফলের গাছ এবং শাক-সবজি মরে যাচ্ছে'। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একাধিক অভিযোগ দিয়েও তারা কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। 

ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে কাঁচা ও আধাপাকা বোরা ধান ক্ষেত পুড়ে চিটা হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ্য জমির পরিমান প্রায় ১৫ হেক্টর বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ্যদের মধ্যে কৃষক মো. বাবু মিয়া (৬০), খোরশেদ মিয়া (৫৫) অভিযোগ করেন, ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাসের কারনে তাদের ৭০ শতাংশ করে জমির ধান পুড়ে গেছে। তাদের মত আব্দুর রাজ্জাক (৬৫), সিরাজ মিয়া (৫৫) ও আবু বকর একই অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগ, এএনবি-২ নামের একটি অবৈধ ইট ভাটার কারনে তাদের জমির বোরা ধান পুড়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে। অবৈধ ইট ভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ও তাদের ক্ষতি পুরনের জন্য প্রশাসনের নিকট তারা জোর দাবি জানিয়েছেন। 

এ বিষয়ে এএনবি-২ এর ব্যবস্থাপনা পরিচারক মো. আব্দুর রহিম ও মো. রেজাউল করিম বলেন, 'ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাস ও কালো ধোঁয়ার কারনে এলাকার কৃষকদের যদি বোরো ধান পুড়ে ক্ষতি হয়ে থাকে তবে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের ক্ষতিপুরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে'।

আরও পড়ুন:  উলিপুরে অগ্নিকাণ্ডে লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ছাঁই

উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, 'ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যানের কারণে বোরো ধান ক্ষেত পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং ভাটা মালিকদের সঙ্গে বসে কৃষকদের ক্ষতি পুরণের ব্যবস্থা করা হবে'।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, 'কোর্ট বহুরিয়া গ্রামে ইট ভাটার কারণে বোরো ধান ক্ষেত পুড়ে চিটা হয়েছে এমন খবর পাওয়ার জন্য কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলৈ পরিদর্শন করা হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতিপুরণের জন্য ইট ভাটা মালিকদের সঙ্গে বসে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি