ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসাবে কাজ করা শেন জার্গুসেনই হয়তো শ্রীলংকা সফরে হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ। নতুন কোচ খুঁজতে গিয়ে পছন্দমত কাউকে না পাওয়ায় আপাতত জার্গুসেনের ওপরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভরসা রাখতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এই সফরের আগেই তারা জাতীয় দলে দেশি একজন সহকারী কোচ নিয়োগ দিতে চায়। এ পদের জন্য বিসিবির পছন্দের তালিকায় আছেন দুই সাবেক জাতীয় দল অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং সাবেক ফিল্ডিং কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
জাতীয় দলের প্রধান কোচ পদে আন্তর্জাতিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পর এ পর্যন্ত চারজন বিদেশি আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার রাতে বোর্ড সভায় এই চারজনের নাম প্রস্তাব করলেও বিসিবি কারো প্রোফাইলই পছন্দ করেনি। অবশ্য এখান থেকে দুইজনকে বাছাই করে ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির কাছে হস্তান্তর করেছে বোর্ড। মঙ্গলবার বোর্ড সভা শেষে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস এ তথ্য জানান।
বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস সভা শেষে বলেন, ‘ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি থেকে আমরা একটি তালিকা পেয়েছি। এখান থেকে বাছাই করে দুইজনকে আমরা প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করেছি। এদের মধ্য থেকে ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি ঠিক করবে কাকে দায়িত্ব দেয়া হবে জাতীয় দলের কোচ পদে। তবে যাদেরকে বাছাই করা হয়েছে তাদের কেউই আমাদের খুব পছন্দ নয়।’
হাই প্রোফাইল কোচ খুঁজতে বিসিবি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন দিলেও বাংলাদেশ দলের কোচ হওয়ার লড়াইয়ে তেমন সাড়া পায়নি বিসিবি। যারা সাড়া দিয়েছেন তারা কেউই হাই প্রোফাইল কোচ নন। শেষ পর্যন্ত এদের মধ্য থেকে কাউকে পছন্দ না হলে শ্রীলংকা সফরে জার্গুসেনকে দলের দায়িত্ব দিতে পারে বিসিবি। ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির কাছে কোচ বাছাইয়ের দায়িত্ব দিলেও মূলত এই বিভাগটিতেও আবার কাজ চালানোর মতো লোক নেই!
বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার সাব্বির খান বিপিএল শুরুর আগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বিসিবির কাছে। তার পদত্যাগের পর ক্রিকেট অপারেশন্সের কর্মকাণ্ড একরকম থেমে আছে। কোচ খোঁজার কাজটিও এজন্য দেরি হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন সিরাজ বলেন, ‘আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে যারা আবেদন করেছে তাদের নাম বোর্ডসভায় প্রস্তাব করেছি। বোর্ড একটা তালিকা দিলে আমরা ক্রিকেট অপারেশন্স সভা করে কোচ নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব।’
যারা বাংলাদেশ দলের কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তারা অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার বলে জানা গেছে। কিন্তু প্রোফাইল খুব ভালো নয় বলে বিসিবি বেঁকে বসে আছে। এদিকে সহকারী কোচ পদের ধারণা থেকে কিছুদিন আগে সরে আসলেও ফের বিসিবি শ্রীলংকা সফরে একজন সহকারী কোচ নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। এ পদে একজন দেশি কাউকে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারেও মোটামুটি একমত হয়েছে বিসিবি।
সম্ভাব্য হিসাবে আসছে অনেকের নাম। এদের মধ্যে সুজন, বুলবুল ও সালাহউদ্দিন আছেন আলোচনায়। সালাহউদ্দিন এর আগে ২০০৬ সালে ডেভ হোয়াইটমোরের সহকারী হিসাবে কাজ করেছেন। এরপর শন উইলিয়ামসের সাথে ২০০৭ সালের মে-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, এবং জেমি সিডন্সের সাথে ২০০৭ নভেম্বর থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সহকারী হিসাবে কাজ করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ হিসাবে সালাহউদ্দিন কাজ করেছেন।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সুজনও জেমি সিডন্সের সহকারী হিসাবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালের শুরুর সময় তিনি সহকারী হিসাবে ছিলেন। আরেক সাবেক অধিনায়ক ও দেশের অন্যতম সেরা সাবেক ব্যাটসম্যান আমিনুল ইসলাম এখন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করছেন।
বাকি দুজনকে চাইলে পাওয়া গেলেও বুলবুলকে পাওয়াটাই অনিশ্চিত। বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, বোর্ডের সবচেয়ে বেশি পছন্দ আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে। তবে তিনি নাকি সহকারী কোচ হতে অসম্মতি জানিয়েছেন। তাই সালাহউদ্দিনকেই বেছে নিতে পারে বোর্ড। কারণ সুজন আবার প্রাইম ব্যাংকের কোচ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাইম ব্যাংকের কোচিং করাবেন বলে বিসিবির এডহক কমিটি থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন।
কোচ নিয়োগের বিষয় ছাড়া মঙ্গলবারের বিসিবি সভায় ম্যাচ পাতানোর অভিযুক্ত নাদীর শাহ’র বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। তার ব্যাপারে বোর্ড একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবে বলে সভায় জানানো হয়।
