শাহ্জাদপুরে ভাঙনের ঝুঁকিতে তিন ইউনিয়ন

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৪০
বর্ষায় যমুনার ভয়াল রূপ দেখে বড় হয়েছে কৃষক নজরুল। কিন্তু মাঘের শীতে যমুনা নদীর রাক্ষসী রূপ কখনো দেখেনি সে। নিজের শেষ সম্বল আড়াই শতাংশ জমির মাষকলাই ক্ষেতে দ্রুত কাঁচি চালাচ্ছিলেন আর একথাই বলছিলেন যমুনায় নিঃস্ব হওয়া নজরুল। গত এক সপ্তাহ ধরে শীতের শান্ত যমুনা নদীর ভয়াল রূপ ধারণ করায় উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের রুপবাটি ভ্যাকা গ্রামের নজরুলের মত অনেকেই তাদের কৃষি জমি, বসত বাড়িঘর হারাতে বসেছে। ইতিমধ্যে ভ্যাকা গ্রামের অর্ধেক বিলীন হয়ে গেছে যমুনায়। কৃষক নজরুল জানালেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ভাঙছে তাদের গ্রাম। এ কারণে শেষ সম্বল চার বিঘা জমি এখন এসে দাঁড়িয়েছে আড়াই শতাংশে। বাপ-দাদার জমি ছিল ২৫বিঘা। দুইবার ভাঙনে যমুনা গর্ভে চলে গেছে তাদের বসত বাড়ি ও ফসলি জমি। এখন সে অন্যের জমির উপর ঘর তুলে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছে কোন রকমে। যমুনায় আবাদী জমি হারিয়ে বাঁচার তাগিদে এখন সে বিভিন্ন সমিতি ও এনজিওর কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে গরু কিনে লালন পালন করছে। দুধ বিক্রি করে তার সংসার চালাতে হয়। এবার যমুনায় তার চার বিঘা জমি যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কিভাবে গরুর খাবার জোগাবে সেকথাই ভাবছিলেন নজরুল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বড় কর্তারা এলাকা ঘুরে গেছেন। কিন্তু ভাঙন রোধে কোন ব্যবস্থা এখনও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে করা হয়নি। গত মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে ভাঙনের ভয়াল রূপ। এ ব্যাপারে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, এই অসময়ে যমুনা নদীর ভাঙন তাদের ভাবিয়া তুলেছে। ভাঙন এলাকা থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে যমুনা তীর রক্ষা সংরক্ষণ প্রকল্প জিরো পয়েন্ট। রেজাউল করিম জানান, ‘যমুনা মেঘনা নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প’ আওতায় ২০১১ সালে যমুনা পশ্চিম তীর রক্ষার জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিসি ব্লকের কাজ শেষ করা হয়। উপজেলার বেনুটিয়া থেকে ঠুটিয়া পর্যন্ত প্রায় ১০কিলোমিটার নদী তীর রক্ষার কাজ শেষ হওয়ার পর গত দুই বছর গালা ও কৈজুরী ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘা আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা যমুনা নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পায়। তিনি আরও জানান যমুনার এই অংশটিকে রক্ষা করার জন্য পরবর্তীতে ঠুটিয়া থেকে এনায়েতপুর থানার উত্তরে প্রায় ১৮ কিলোমিটার যমুনা নদীর তীর ভাঙন রোধে সিসি ব্লক ফেলা হবে। তখন আশা করা যায় যমুনার এই রুদ্র রূপ আর থাকবে না। এদিকে যমুনা তীরে অবস্থিত ঠুটিয়া কলেজের অধ্যক্ষ কামাল পাশা ও একই কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হারুন-অর রশিদ জানান, যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে এ কলেজটি যেকোন মুহূর্তে যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।