টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় চিকিত্সা সেবার নামে চলছে গলাকাটা রমরমা ব্যবসা। চিকিত্সার নামে প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এবং ধোকা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকাশ মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৪০টি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের নেই কোন সরকারি অনুমোদন। এদিকে গত সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দ এনামুল কবীর বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে মালিকসহ দুই ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার ও এক লাখ টাকা জরিমানাসহ জেল দিয়েছে। এ সময় দুটি হাসপাতালে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে সিলগালা করে দিয়েছে। এই ঘটনার পর কয়েকটি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল সেন্টারের মালিক ও ভুয়া ডাক্তার গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রকাশ, মির্জপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডাঃ মোঃ আনিসুর রহমান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মির্জাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার সৈয়দ এনামুল কবীর, মির্জাপুর উপজেলা সেনেটারী পরিদর্শক মিসেস ইসরাত জাহান ও মির্জাপুর থানা পুলিশ বিভিন্ন হাসপাতাল ও মেডিক্যাল সেন্টারে অভিযান চালান। চিকিত্সার নামে গলাকাটা ব্যবসা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে মির্জাপুর সদরের বংশাই রোডের বিকাশ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক মেডিক্যাল সেন্টারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও হাসপাতাল সিলগালা করে দেয়। এ সময় মালিক ও কর্মচারীরা পালিয়ে যায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই রোডের গোড়াই জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক মেডিক্যাল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে দেখতে পান মালিক নিজেই ডাক্তার এবং কর্মচারী অভিজ্ঞ ডাক্তার সেজে এক শিশুকে অপারেশন করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কাছে ডাক্তারী সার্টিফিকেট এবং কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানায় আসলে তারা কোন ডাক্তার নয়। পরে পুলিশ ভুয়া ডাক্তার রাসেল ওরফে রাজু আহমেদ (২২), পিতা কালাচান তালুকদার বাড়ি কালিয়াকৈর, আব্দুল খালেক (২৩) পিতা এরশাদ আলী বাড়ি কালিয়াকৈর এই দু’জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে খালেককে এক লাখ টাকা জরিমানাসহ দুইজনকে এক মাসের জেল দিয়েছে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। এ ছাড়া অব্যস্থাপনা ও প্রতারণা করে বাণিজ্য করার অভিযোগে হাসপাতালে তালা ঝুঁলিয়ে সিলগালা করে দিয়েছে।
এ দিকে অভিযোগ রয়েছে মির্জাপুর উপজেলা সদরেই রয়েছে ১০/১২টি অবৈধ ও সরকারি অনুমোদনবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মেডিক্যাল সেন্টার। উপজেলার মহেড়া, জামুর্কি, পাকুল্লা, গোড়াই, বাঁশতৈল, নাটিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের হাট-বাজারেও ৩০/৪০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মেডিক্যাল সেন্টার গড়ে উঠেছে। অথচ এসব সেন্টারে নেই কোন অভিজ্ঞ ডাক্তার ও যন্ত্রপাতি।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার সমিতির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, মির্জাপুরে দু’চারটি বাদে বাকি ৪০/৪২টি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল সেন্টারের কোন সরকারি অনুমোদন নেই।
