মহাদেব সাহা
এবারের মেলায় আসছে আমার আত্মস্মৃতিমূলক বই ‘আত্মস্মৃতি ১৯৭৫; সেই অন্ধকার সেই বিভীষিকা’। এতে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির মহান ত্যাগ এবং অসামান্য বীরত্বের গাথা; ১৯৭৫ সালের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং তত্পরবর্তী অন্ধকারাচ্ছন্ন দিনগুলির কথা। কবির আত্মস্মৃতিতে বিধৃত ইতিহাসের সেই খণ্ডচিত্রকে একই সঙ্গে বলা যেতে পারে ইতিহাস ও কবিতা। বইটি ২৫০ পৃষ্ঠার একটি শোকাবহ অখণ্ড গদ্যকাব্য; বের করছে নান্দনিক। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। বাংলাপ্রকাশ থেকে আসছে বিচিত্র ধরনের বই ‘কেন ভালোবাসি’। এতে রয়েছে প্রবন্ধ বা মুক্তগদ্য, ফিকশন, ভ্রমণকাহিনি, প্রকৃতি ও কবিতা নিয়ে আলোচনা, অনুবাদ এবং আমার আঁকা বিভিন্ন স্কেচধর্মী ছবি। বাংলা ভাষায় এ ধরণের বই নেই বললেই চলে। গুন্টার গ্রাসের এ ধরনের একটি বই আছে। আমার গল্পের বই ‘সেখানে গন্ধ ছিল ফুল ছিল না’ বের হচ্ছে ঐতিহ্য প্রকাশনী থেকে। বইটিতে বারোটি গল্প রয়েছে। ‘মহাদেব সাহার সাক্ষাত্কার’ নামে বাংলা ও ইংরেজি সাক্ষাত্কারের একটি সংকলন বের হচ্ছে রাঁচী গ্রন্থনিকেতন থেকে; প্রচ্ছদ এঁকেছেন চারু পিন্টু। অনন্যা বের করছে আমার ১০-১২টি কাব্যগ্রন্থের সংকলন ‘কাব্যসমগ্র ৫ম খণ্ড’। বিভাস প্রকাশনী থেকে আসছে কাব্যগ্রন্থ ‘সর্বাঙ্গে তোমার গুঞ্জন’; প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ। সাথী পাবলিশিং ক্লাব থেকে আসছে কাব্যগ্রন্থ ‘মেখেছি মর্ত্যের ধুলো’; প্রচ্ছদ এঁকেছেন নির্ঝর নৈঃশব্দ্য। অক্ষর আনছে নির্বাচিত ৩০০ কবিতা; ‘ভালোবাসার লিরিক’ নামে লিরিকের সংকলন আনছে চর্চা গ্রন্থপ্রকাশ। এ ছাড়া ৬-৭টি বইয়ের পুনর্মুদ্রণ হচ্ছে এবারের বইমেলায়।
-----
জাফর আলম
কৃষণ চন্দরের একটি উপন্যাসিকার অনুবাদ বের হচ্ছে প্রথমা প্রকাশন থেকে। বইটির নাম ‘অন্নদাতা’; প্রচ্ছদ করেছেন কাইয়ুম চৌধুরী। বাংলার তেতাল্লিশের মহাদুর্ভিক্ষ নিয়ে লেখা এই উপন্যাস। এই দুর্ভিক্ষে অবিভক্ত বাংলার লক্ষাধিক মানুষ অনাহারে মারা যায়। এই মন্বন্তর কৃষণ চন্দরকে প্রবলভাবে আলোড়িত করেছিল। এই বইয়ে শুধু ক্ষুধা আর অনাহারে মৃত্যুর কথাই নয় আছে জীবনের কথাও।
বাংলা একাডেমী থেকে বের হচ্ছে আমার অনুবাদ-সংকলন, ‘উপমহাদেশের দাঙ্গার গল্প’। প্রচ্ছদ এঁকেছেন রাজীব রায়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সময় দাঙ্গায় ক্ষত-বিক্ষত হয় ভারত ও পাকিস্তান। লাখো নারী-পুরুষ সাতপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে এপার থেকে ওপার, ওপার থেকে এপার চলে আসতে বাধ্য হয়। লাখো প্রাণ দাঙ্গায় প্রাণ হারায়। ধর্ষিত হয় অসংখ্য নারী। উদ্বাস্তু হয় পাঞ্জাব কাশ্মীর বাংলার লাখো মানুষ। এই দাঙ্গায় ভারত ও পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী প্রগতিশীল লেখকদের বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছিল। তাঁদের ১৩টি গল্প সংকলিত হয়েছে এই গ্রন্থে। এই অসাধারণ গল্পগুলো পাঠকের চেতনাকে নাড়া দেবে এবং সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী মূল্যবোধকে আরও শানিত করবে।
----
সাযযাদ কাদির
প্রথম দিনেই আমার দুটি বই এসেছে মেলায়—‘বাংলা আমার’ ও ‘এই সময়ের কবিতা’। হাজার বছরের কবি, কবিতা ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠাবিরোধী প্রবন্ধ-নিবন্ধ স্থান পেয়েছে ‘বাংলা আমার’ বইটিতে। প্রকাশ করেছে প্রিয়মুখ প্রকাশনী। ‘এই সময়ের কবিতা’ বিশাল বাংলার ১০০ কবির ভিন্নমাত্রিক রচনার সঙ্কলন। সম্পাদিত এ বইটির প্রকাশক সাহস পাবলিকেশনস। আমার আরও ছয়টি বই আসছে মেলায়। শিশুতোষ লোকরচনার সঙ্কলন ‘তেপান্তর’ (প্রিয়মুখ প্রকাশনী); চীনের ঐতিহ্যিক রঙ্গ-ব্যঙ্গ গল্পকথার সঙ্কলন ‘রসচৈনিক’ (দিব্যপ্রকাশ); সংবাদ, সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ভিন্নধারার প্রবন্ধ-নিবন্ধ সঙ্কলন ‘বিচলিত বিবেচনা’ (জ্ঞান বিতরণী); ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ব্যতিক্রমী অনুসন্ধানী গবেষণামূলক প্রবন্ধ-নিবন্ধ সঙ্কলন ‘সহচিন্তন’ (ঝিঙেফুল); সমসাময়িক প্রসঙ্গে প্রবন্ধ -নিবন্ধ কলামের সঙ্কলন ‘চুপ! গণতন্ত্র চলছে...’ (দিব্যপ্রকাশ); এবং ‘শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ (সম্পাদিত, হাওলাদার প্রকাশনী)।
-----
মিনার মনসুর
এবারের মেলায় আমার তিনটি বই প্রকাশিত হওয়ার কথা। এর মধ্যে দুটি বই মেলায় এসেছে। আগামী প্রকাশনী থেকে বের হবে কবি ও কবিতাবিষয়ক নির্বাচিত প্রবন্ধ সংকলন ‘কবি ও কবিতার সংগ্রাম’ এতে মোট ১৮টি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। কবিতার পর্যটকরা বাংলাদেশের কবিতার একটি মানচিত্র এখানে পাবেন। সিকান্দার আবু জাফর থেকে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ অবধি বিস্তৃত তার পথরেখা। যাত্রাপথে দেখা মিলবে শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, শহীদ কাদরী, রফিক আজাদ, সিকদার আমিনুল হক, আসাদ চৌধুরী, নির্মলেন্দু গুণ, আবুল হাসান ও মহাদেব সাহার আশ্চর্য সুন্দর ও স্বতন্ত্র সব কবিতা-খামারের। সেই সঙ্গে কবি ও কবিতাবিষয়ক দুর্জ্ঞেয় রহস্যের চিরায়ত আলো-অন্ধকারের হাতছানি তো আছেই। বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাগ্রন্থ ‘ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:জীবন ও কর্ম’। নিজের গরজে দেশ ও মানুষকে যাঁরা পথ দেখাতেন—সেই বাতিঘরগুলো একে একে নিভে আসছে। তাই যত দিন যাচ্ছে, ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের মতো মানুষের প্রয়োজনীয়তাও ততই তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। সকল বিচারেই অনন্য অনুসরণযোগ্য এক মানুষ ছিলেন তিনি। তিনিই প্রথম পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষার সমমর্যাদার দাবি উত্থাপন করে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান নামক উদ্ভট রাষ্ট্রটির ভিত। আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশের অপেক্ষায় আছে রয়েছে গত সাড়ে তিন দশকে লেখা প্রতিবাদী কবিতার সংকলন ‘রাজনৈতিক কবিতা’। গ্রন্থটি প্রকাশে আমি প্ররোচিত হয়েছি একাধিক কারণে। আমার প্রথম তিনটি কাব্যগ্রন্থই প্রকাশিত হয়েছিল সামরিক স্বৈরশাসনামলে। আর আমার ভেতর ভয়ডরহীন যে কবি-মানুষটির বসবাস, তারও জন্ম হয়েছিল এই সময়ের গর্ভে। সময়টি কতটা আগ্রাসী ছিল, তা আজ কল্পনা করাও কঠিন। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা ও স্বাধীনতার মহান স্থপতিকে হত্যা করা হইয়াছে—সপরিবারে এবং নজিরবিহীন নৃশংসতার সঙ্গে। ঘাতকেরা সদম্ভে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সারা দেশ। একদিন দুইদিন নয়—দীর্ঘ ২১ বছর স্থায়ী হয়েছিল এই দাপট। সবচেয়ে গ্লানিকর বিষয় হলো—বঙ্গবন্ধু নিজে যে রাষ্ট্রটির জন্ম দিয়েছেন, সেই রাষ্ট্রই অবতীর্ণ হয়েছিল ঘাতকদের প্রধান পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকায়। এই বাস্তবতা আমার মধ্যে বর্ণনাতীত যে অসহায়তা ও দ্রোহের জন্ম দিয়েছিল—আমার কবিতার বড় অংশজুড়েই আছে তার বোবা আর্তনাদ। ফলে সামরিক জান্তার রোষানলে পড়ে আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘এই অবরুদ্ধ মানচিত্রে’ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। তিন দশক আগে প্রকাশিত দুষ্প্রাপ্য সেই কবিতাগুলো শুধু নয়, শ্বাসরুদ্ধকর সেই সময়কেও মলাটবন্দী করা হয়েছে এ গ্রন্থে।
-----
জাকির তালুকদার
এবারের বইমেলায় ‘ছায়াবাস্তব’ নামে আমার একটি উপন্যাস ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। উপন্যসটি লেখা হয়েছে গুম হয়ে যাওয়া মানুষদের নিয়ে। দুস্কৃতিকারীদের পাশাপাশি অনেক আদর্শবান, নিরীহ ও সত্ যুবকও গুম হয়ে যায়। এ রকম গুম হয়ে যাওয়া একটি পরিবারের অনুভূতি-অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে ‘ছায়াবাস্তব’ উপন্যাসে। এটি প্রকাশ করছে অনিন্দ্য প্রকাশনী। জয়তী বের করছে ‘জাকির তালুকদারের বাছাই গল্প’। এতে আমার নির্বাচিত দশটি গল্প অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বড় ধরনের সম্পাদিত গল্পসংকলন বের হচ্ছে ‘বাংলাদেশের গল্প’ নামে; বের করছে নান্দনিক। ৭০ বছরের বাংলা ছোটগল্প থেকে বাছাইকৃত ৫০টি ছোটগল্পের সংকলন এটি।
-----
খালেদ হোসাইন
এবারের বইমেলায় আমার কবিতার বই ‘কবির ব্রত আছে, তাকে বিব্রত করো না’ আর কবিতা-বিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ ‘কবিতা-প্রবন্ধ’ প্রকাশ করেছে অনিন্দ্য প্রকাশ। আর একটি ছড়ার বই ‘রঙগুলো সব থাক না!’ প্রকাশ করেছে জিনিয়াস প্রকাশনী। ব্যক্তি মানুষের যেমন, তেমনই সামষ্টিক মানুষেরও আনন্দ-বেদনার নানা পর্ব-পর্বান্তর থাকে। আমার কবিতার বইতে সেসব নানাভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কবি ও কবিতা-বিষয়ক নানা ভাবনায় তাড়িত হয়েছি বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিক ঘটনার পরম্পরায়, তারও রূপায়ণ লক্ষ করা যাবে ‘কবির ব্রত আছে তাকে বিব্রত করো না’ বইটিতে। কবি ও কবিতা নিয়ে নানা সময়ে যেসব প্রবন্ধ লিখেছি, তা সঙ্কলিত হয়েছে ‘কবিতা-প্রবন্ধ’ বইটিতে। কবি ও কবিতাকে ভালোবাসেন, বইটি মূলত তাঁদের জন্য।
‘আর রঙগুলো সব থাক না!’ ছোটদের জন্য পরিকল্পিত। মূলত আমার ভেতরের শিশু বা বালক বা কিশোর এখানে বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে, আবার পূর্ণায়তন মানুষের দৃষ্টিতে দেখা ছোটদের জগতের কিছু ছবিও ঠাঁই পেয়েছে।
--------
তুষার কণা খোন্দকার
উপন্যাস ‘ভানুমতির খেল’ ২০১২ ঈদসংখ্যা ইত্তেফাক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়ে পাঠকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। মানবাধিকার এবং নারীমুক্তির নামে বস্তিবাসী গরিব মানুষকে ব্যবহার করে আমাদের দেশে এনজিওর কর্তাব্যক্তিরা অর্থ-বিত্তের পাহাড় গড়ছে। উন্নত দুনিয়ার দাতা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের এনজিওদের দুষ্কর্মের ভাগিদার। দানের অর্থের বখরা পাওয়া এবং এ দেশে কিছু চাটুকার দালাল সৃষ্টি করে দাতা সংস্থাগুলো তুষ্ট। নদীভাঙনের শিকার আলীম শেখ এবং মদিনার নিজেদের স্বপ্নের মৃত্যু এবং এনজিও নেত্রী রওনক জাহান রানুর নিজের স্বপ্নপূরণের আদ্যোপান্ত নিয়ে উপন্যাস ‘ভানুমতির খেল।’ দশটি ছোটগল্প নিয়ে বেরোচ্ছে ‘ঘাম এবং সুশীতল পানির গল্প’। ছোটগল্পকে আমি জীবনের নির্যাস বলে মনে করি। গল্পের চরিত্রগুলো তাদের নিজস্ব সত্তা নিয়ে যাতে পাঠকের সামনে সরাসরি হাজির হয়, সে ব্যাপারে আমি সজাগ থাকি। আমাদের চারপাশের মানুষগুলোর জীবন এবং ভাবনাকে আমি ভালো-মন্দের ছকে ফেলে নিজে একটি পক্ষ নিতে চাই না। ‘বাংলাদেশের জন্মকথা’ বইটি শিশুতোষ ইতিহাস। ১৯৮৮ সালে এটি কালিকলম প্রকাশনী থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। তিনটি বইয়ের প্রকাশক পাঠসূত্র।
-------------
সালেহা চৌধুরী
এবার আমার চারটি বই প্রকাশিত হবে। মাওলা ব্রাদার্স প্রকাশ করছে ‘অতিপ্রাকৃত গল্প’; ২০টি অতিপ্রাকৃত গল্পের সংকলন। এই বইটিতে আছে অতীন্দ্রীয় ঘটনা, অনেক সুরিয়াল ব্যাপার এবং আমাদের প্রচলিত ধারণার অশরীরি চরিত্র। বইটি নিয়ে আমি হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। ইত্যাদি প্রকাশ করছে ‘উপালির উপাখ্যান’। একটি ছোট গল্প লিখেছিলাম—ঢেউটিন পাকা বারান্দা বদনা চিলমচি মাছালো পুকুর। তখনই ভেবেছিলাম একে উপন্যাস করতে হবে। ভাষা ব্যবহার করেছি বগুড়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামের। ‘বিন্নি ধানের খৈ’ প্রকাশ করছে জোছনা পাবলিশার্স। এটিও গ্রামবাংলার গল্প। ছোটদের বই ‘তোমাদের জন্য চিরকালের গল্প’ প্রকাশ করছেন সিঁড়ি প্রকাশনী। অসকার ওয়াইল্ডের তিনটি ক্লাসিক গল্প আমার মতো করে লিখেছি শিশুদের ক্লাসিক সাহিত্যের সঙ্গে পরিচয় করানোর প্রয়োজনবোধ থেকে। বইটির প্রচ্ছদ এবং ভেতরের কিছু ছবি এঁকেছে তেরো বছরের অরিহা সৌপ্তিক।
--------------
ফারুক মাহমুদ
এবারের বইমেলায় এসেছে আমার তিনটি বই। একটি কাব্যগল্প, একটি কবিতা সংগ্রহ, অন্যটি কিশোর-পদ্য। কাব্যগল্পটির নাম ‘মহাভারতের প্রেম’। গত রমজানের ঈদের প্রশস্ত ছুটিতে রাজশেখর বসুর সারানুবাদে ‘মহাভারত পড়ছিলাম’। মুগ্ধতা এবং আনন্দ আমাকে লেখার প্রেরণা জোগাল। কী লিখব? মহাভারতের প্রেমাখ্যান কি কবিতায় লেখা যায়! এমন ভাবনার পিছু হাঁটতে-হাঁটতেই কলম ধরলাম। কবিতার নানা ছন্দে একটা লেখা দাঁড়াল। সাপ্তাহিক ২০০০ সম্পাদক মঈনুল আহসান সাবের লেখাটা ছাপলেন কোরবানি ঈদের বিশেষ সংখ্যায়। পাঠকের সাড়া পেলাম; ভালো-মন্দ দুটোই। লেখার পিপাসা আরও বেড়ে গেল। মহাভারতের যারা পাত্র-পত্রী, তাদের প্রেম, বেদনা, আনন্দ বর্তমান সময়ের নর-নারীর সঙ্গেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মিলে যায়। মহাভারতের গল্প হলেও এগুলো আমাদের অনুভূতিকেও স্পর্শ করে। আমার কাব্যগল্প ‘মহাভারতের প্রেম’ পাঠককে বহুমত্রিক আনন্দ দেবে। প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিবু কুমার শীল, অলঙ্করণ করেছেন পঙ্কজ পাঠক। দ্বিতিয় বই ‘নির্বাচিত শত পদ্য’। এটি আমার কবিতা থেকে বাছাই করা ১০০ কবিতার সংকলন। বেশ কটি অগ্রন্থিত কবিতা আছে এতে। চমত্কার প্রচ্ছদটি সব্যসাচী হাজরার আঁকা। বই দুটি প্রকাশ করেছে শুদ্ধস্বর। তৃতীয় বই ‘রাজাকার ভূত’। প্রচ্ছদ ও ভেতরের ছবি এঁকেছেন মনবেন্দ্র গোলদার।
--------------
সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল
এবার বইমেলায় আমার পাঁচটি বই বেরোচ্ছে। এগুলো হলো:১. ‘কাছের মানুষ দূরের মানুষ’ (স্মৃতিকথা) প্রকাশ করছে বাংলা প্রকাশ; প্রচ্ছদ ধ্রুব এষ। ২. ‘১০০ কবিতা’ আসছে বিভাস প্রাশনী থেকে। এর প্রচ্ছদ এঁকেছেন ত্রিদিব দস্তিদার। ৩. শিশু-কিশোরগল্প নিয়ে সাহিত্যকাল থেকে বেরোচ্ছে ‘জাদুকর’। ৪. সম্পাদনাগ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধের কবিতা’ (ইংরেজি) আসছে অনন্যা প্রকাশনী থেকে। ৫. আজ আমাদের ছুটি (শিশু-কিশোরদের জন্য নাটক) প্রকাশ করছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী। ‘কাছের মানুষ দূরের মানুষ’-এ থাকছে দেশের ৩৩ জন খ্যাতিমান প্রয়াত গুণীজন নিয়ে স্মৃতিচারণা এবং তথ্যবহুল কথা। এতে রয়েছেন: কবীর চৌধুরী, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, সৈয়দ আলী আসহান, হুমায়ূন আহমেদ, সুনীল গাঙ্গোপাধ্যায়, আবদুল মান্নান সৈয়দ, আহমদ ছফা, আলাউদ্দিন আল আজাদ, সিকদার আমিনুল হক, আব্দুর রাজ্জাক, আতাউস সামাদ, বজলুর রহমান, নির্মল সেন, চিত্তরঞ্জন সাহা, আবদুশ শাকুর, হুমায়ূন ফরীদি, অজিত রায়, আজম খান, আনওয়ার আহমদ, নাসিমা সুলতানা, জহুরা রাহমান, সৈয়দ হায়দার, ত্রিদিব দস্তিদার, তারেক মাসুদ, মিশুক মনির, মিনার মাহমুদ, আহমদ ফারুক হাসান, দিনেশ দাশ এবং মানবেন্দ্র সুর। বইটিতে অনেক প্রিয় এবং অপ্রিয় সত্য চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।
-------------
মোহিত কামাল
এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তিনটি নতুন বই। বিদ্যাপ্রকাশ বের করছে দুটি উপন্যাস ‘মরুঝড়’ ও ‘পাথরপরান’; পাঠসূত্র বের করছে শিশুতোষ উপন্যাস ‘বন্ধু আমার বন্ধ’। মরুঝড় উপন্যাসের বিস্তৃত পটভূমিতে দেখা যাবে দুবাইয়ের মরুপ্রান্তরে প্রবাসীর ঘামঝরানো জীবনের উপাখ্যান, মরুর দেশের ধনাঢ্য পরিবারের আলোঝলমল জীবনের অন্তরালে লুকানো বিষাদ আর ধনদৌলতের মিথ্যে মরীচিকার চালচিত্র, নিষ্ঠুরতা ও মানবিকতার কথা এবং উপন্যাসের মূল প্রবাহে আছে স্বদেশে রেখে যাওয়া স্বজনদের জন্য মরু-শ্রমিকের বুকের প্রান্তরে রোপিত মমতার মৌলিক টান। মরুশ্রমিকের জীবন নিয়ে লেখা এটিই বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস। পাথরপরান উপন্যাসে বলতে চেয়েছি—পুরুষপ্রধান সমাজে নারীর পায়ে পায়ে বাধা; তার জগত্সংসার সংকটময়। এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মণি রূপে-গুণে আকষর্ণীয়া, নামী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ঘরে-বাইরে ও কর্মস্থলে তিনি নানাবিধ পীড়ন ও সহিংসতার শিকার। পুরুষ-সহকর্মীর অনৈতিক আহ্বানে সাড়া দিতে অপারগ মণিকে মুখোমুখি হতে হয় বিরুদ্ধ পরিস্থিতির। অপরদিকে মদ্যপ স্বামীর কুিসত আচরণও তার জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। অরক্ষিত নারীর বিপদ সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এ মানবীর কোমল মন আঘাতে আঘাতে পরিণত হয় কঠিন প্রস্তরে।
শিশু মনস্তত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মেধাবিকাশের ধারা উপজীব্য করে রূপকথা ও বাস্তবধর্মী মজাদার ঘটনার আলোকে সহজ ভাষায় লেখা হয়েছে ‘বন্ধু আমার বন্ধু’ উপন্যাসটি। উপন্যাসটি পাঠে উদ্দীপ্ত হবে শিশুর মেধা, মায়ের সঙ্গে গড়ে উঠবে বন্ধুত্ব। প্রকৃতির সঙ্গেও তৈরি হবে নিবিড় বন্ধন। মাতৃভাষা বাংলার সঙ্গেও শক্ত হবে শিশু-কিশোরের শিকড়ের টান।
--------------
তপন বাগচী
মূলত কবিতা লিখলেও ছড়া ও প্রবন্ধ রচনায় আমার আগ্রহ বেড়েছে। এবারের বইমেলায় আমার দুটি বই এসেছে; আরও দুটি আাাসবে। প্রবন্ধের বই ‘সাহিত্যের কাছে-দূরে’, প্রকাশ করেছে কথামেলা প্রকাশনী। আরেকটি বই সম্পাদনা করেছি ‘সত্যপিরের পুথি’ নামে। এটি প্রকাশ করেছে সমাচার প্রকাশনী। আর দুটি বই বেরোবে জনতা প্রকাশ ও বৈশাখী প্রকাশনী থেকে। একটির নাম ‘সাহিত্যের এদিক-সেদিক’ অন্যটির নাম ‘চোখের পাতায় বুকের খাতায়’। ‘সাহিত্যের কাছে-দূরে’ ও ‘সাহিত্যের এদিক-সেদিক’ গ্রন্থদুটিতে রয়েছে গত একবছরে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় ও লিটলম্যাগাজিনে প্রকাশিত সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রবন্ধ। প্রয়াত ছড়াকার ফয়েজ আহমেদ, কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে স্মৃতিচারণামূলক রচনা রয়েছে। ‘সত্যপিরের পুথি’তে রয়েছে তিনটি পুথির উপস্থাপন। এগুলো ভদ্রসমাজে তুলে ধরাই আমার উদ্দেশ্য। বছরখানেক ধরে কিছু পদ্য লিখেছিলাম। তাতে প্রকাশ পেয়েছে নিটোল প্রেমের আকুতি। তারই গ্রন্থিত প্রকাশ ‘চোখের পাতায় বুকের খাতায়’ নামের পদ্যের বই। এমেলায় আমার দুটি বইয়ের সংস্করণও হতে পারে।
--------------
প্রশান্ত মৃধা
‘নদীর তৃতীয় তীর’ শিরোনামে একটি মিতায়তন উপন্যাস বেরোবে শুদ্ধস্বর থেকে। উপন্যাসটির মূল বিষয় প্রেম এবং এর পাশাপাশি বিদ্যমান গ্রামীণ জীবন ও এর কৃষি অর্থনৈতিক কাঠামোয় চরিত্রগুলোর ভেতরকার দ্বন্দ্ব। এই উপন্যাসে ধানের কারবারি অধীরের জীবনে মেঘদূতের যক্ষের কাছে হাজিরের মতো একখণ্ড মেঘ এসে হাজির হয় তার বন্ধু যাত্রাপালার প্রমটমাস্টার সরোজের প্রভাবে। একদিন এমন একখানা মেঘ দেখে যে সে নিজের অতীত প্রেমের মুখোমুখি হয়ে এক স্মৃতিকাতরতায় পড়বে, তা যেন জানত না। এই প্রেম আর বিরহের ভেতরে ব্যবসার বাস্তবতা আর আলোজ্জ্বল স্বপ্নীল যাত্রামঞ্চ দুই ই একাকার হয়ে যায় তার জীবনে। বারবার তার জীবনে প্রেম আসে আনন্দ আর অস্থিরতার যুগল অনুভূতি নিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ অথবা বিরহের গভীরতায় সেখানে জীবনের ভিন্ন এক অর্থ খুঁজে পায় সে। ‘ক্ষয়পুরাণ’ নামের উপন্যাসটির প্রকাশক নান্দনিক। এর বিষয় চিকিত্সা পদ্ধতি বিশ্বাসের অন্তর্গত দ্বন্দ্ব, যা একইসঙ্গে কোনো কোনো চরিত্রের বিশ্বাসেরও অন্তর্গত। আমার সম্পাদনায় বেরোচ্ছে রবি ঠাকুরের ‘গল্পগুচ্ছ’ নিয়ে কথাসাহিত্যিকদের প্রবন্ধের সংকলন—‘বিষয় গল্পগুচ্ছ’।
----
আন্দালিব রাশদী
আমলাতন্ত্রের ভেতর-কাহিনি নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘ভারপ্রাপ্ত সচিব’ যখন ইত্তেফাক ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত হলো, প্রবল উত্সাহে একজন অন্যজনকে জিজ্ঞেস করেছেন লোকটা কে? ভারপ্রাপ্ত সচিব ম্যাগালোমিনিয়াগ্রস্ত হয়ে যখন নিজেকে তিনি মাছের চেয়েও বড় মনে করছে, তার তরুণী সহকর্মী দেখিয়ে দিচ্ছে, সে আসলে তিমির শিশ্নের চেয়েও তিন ফুট ছোট। উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিসরের সৃজনশীল উচ্চাভিলাষী কিন্তু বিভ্রান্ত ও প্রতারিত মেয়েটি কেমন নির্বসন হয়ে ইন্টারনেটে আপলোডেড হয় এবং তারপর ব্লু-টুথযুক্ত মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে হাতে হাতে ঘুরে বেড়ায়, সেই রুদ্ধশ্বাস কাহিনি নিয়ে উপন্যাস ‘অধরা’। এটি প্রকাশ করেছে অন্যপ্রকাশ। একাত্তরের রণাঙ্গণ থেকে যেসব বাবা ফিরে আসেননি, এত বছর পর তাঁরা একে একে ফিরে আসতে শুরু করেছেন আমার উপন্যাস ‘ম্যাজিসিয়ান’-এ। সনাক্ত করছেন কে সহি রাজাকার আর কে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। প্রকাশক অনিন্দ্য প্রকাশ।
তিরিশ বছরের বিবাহিত জীবন অতিক্রান্ত করার পরও একজন নারী পুরোপুরি জানছে না, তার স্বামী কেমন। সেই স্বামীদের নিয়ে উপন্যাস ‘হাজব্যান্ডস’ পুরুষ পাঠকের সামনেও একটি আয়না মেলে ধরে। প্রকাশক জয়তী। ঈদসংখ্যায় আমার ‘ঝুম্পানামা’ প্রকাশিত হলে কৌতূহলী পাঠক জানতে চান, কত দূর যেতে পারে একজন পকেটমার? অনেক দূর, প্রতিমন্ত্রীও হয়ে যেতে পারে! প্রকাশ করেছে বাংলা প্রকাশ। হঠাত্ রাজনীতিতে যোগ দেওয়া মধ্যবয়সী এক নারী মিছিলের অগ্রভাগে যখন বিবস্ত্র হয়ে গেল, তার প্রভাব কতটা পড়ল, সরকারে বিরোধীদল এবং সংসারে? সেই জবাবই উপন্যাস হয়ে উঠেছে অন্বেষা থেকে প্রকাশিত ‘জলি ফুপু’-তে। এ ছাড়া প্রকাশকেরা সানন্দে মেলায় এনেছেন আরো কয়েকটি ননফিকশন, অনুবাদ ও ছোট গল্প: ইডিপাস কমপ্লেক্স (নালন্দা), লেডি গোদিভা (অক্ষর), আমলা শাসানো হুকুমনামা (ঐতিহ্য), রেশমা ও রাধিকা (অনিন্দ্য), বাছাই গল্প (জয়তী), সিন্দাবাদ (অক্ষর), রবিনসন্স ক্রুশো এবং ওরহান পামুক (অন্বেষা)।
--------------------
আহমাদ মোস্তফা কামাল
প্রায় দুই যুগ ধরে আমি বিরামহীনভাবে লিখে চলেছি, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিতও হয়েছে, অথচ সেগুলোর গ্রন্থরূপ দেওয়ার ব্যাপারে আমার পর্বতপ্রমাণ আলস্য আর উদ্যমহীনতার জন্য প্রতি বছর একটির বেশি বই প্রকাশিত হয়নি কখনো। আমি লিখতে যত ভালোবাসি, পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে ততটাই কষ্ট লাগে। এত কষ্ট না করার জন্য নানারকম অজুহাত আর ফাঁকিবাজি পরাজিত হলো এক বন্ধুর ভালোবাসার কাছে। আমার অগ্রন্থিত লেখাগুলো নিয়ে বসলেন তিনি, পাণ্ডুলিপির পরিকল্পনা করলেন, কিছু লেখার সফট কপি ছিল না, সেগুলো কম্পোজ করে দিলেন, পাণ্ডুলিপি তৈরি হওয়ার পর আবার আগাগোড়া পড়লেন, মতামত জানালেন, একবার প্রুফ দেখার কাজটিও করে দিলেন। বলতে গেলে তাঁরই অনুপ্রেরণায় তৈরি হতে লাগল পাণ্ডুলিপিগুলো। সে জন্যই একসঙ্গে বেশ কয়েকটি বই বেরোচ্ছে এবার। সেই অর্থে এবারের মেলাটি আমার জন্য খুব অন্যরকম। সব মিলিয়ে এবার আমার চারটি নতুন গ্রন্থ, পাঁচটি বইয়ের নতুন সংস্করণ, আর দুটো সম্পাদিত বই বেরোচ্ছে। তালিকাটি এরকম—নতুন বই :১. একলা থাকার গল্প, গল্পগ্রন্থ, প্রকাশক :নান্দনিক। ২. অন্য কোথাও অন্য কোনোখানে, উপন্যাস, প্রকাশক :সন্দেশ। ৩. বর্ষামঞ্জরি, উপন্যাস, প্রকাশক :শুদ্ধস্বর। ৪. বাংলা গল্পের উত্তরাধিকার, প্রবন্ধগ্রন্থ, প্রকাশক :শুদ্ধস্বর। নতুন সংস্করণ : ১. আমরা একটি গল্পের জন্য অপেক্ষা করছি, গল্পগ্রন্থ, প্রকাশক :সন্দেশ। ২. ঘরভরতি মানুষ অথবা নৈঃশব্দ্য, গল্পগ্রন্থ, প্রকাশক :সন্দেশ। ৩. অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না বলে, গল্পগ্রন্থ, প্রকাশক:শুদ্ধস্বর। ৪. আগন্তুক, উপন্যাস, প্রকাশক :সন্দেশ। ৫. অন্ধ জাদুকর, উপন্যাস, প্রকাশক :সন্দেশ। সম্পাদিত গ্রন্থ: ১. হিরণ্ময় কথকতা (মাহমুদুল হকের একগুচ্ছ সাক্ষাত্কারের সংকলন) ২. রৌদ্র ছায়ার খেলা (রবীন্দ্রনাথের কেশোর উপযোগী গল্পের সংকলন)।
--------------
মাসুদুজ্জামান
আমার যেসব নতুন বই আসছে—‘নারী যৌনতা রাজনীতি’ (বেঙ্গল পাবলিকেশনস), ‘দেবদূত পুরুষ ও যৌনরাজনীতি’ (শুদ্ধস্বর), ‘টমাস ট্রান্সট্রোমারের কবিতা আত্মস্মৃতি সাক্ষাত্কার আলোচনা’ (অঙ্কুর) এবং ‘সেলিনা হোসেনের কথাসাহিত্য :দেশ কাল জাতি’ (লেখাপ্রকাশ)।
নারীর ওপর যৌননির্যাতন দিন দিন বাড়ছে। অনেকদিন ধরেই আমি পুরুষতান্ত্রিক এই যৌনরাজনীতি নিয়ে লিখছিলাম। এবার সেই লেখালেখি নিয়ে দুটো বই বেরোচ্ছে। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি টমাস ট্রান্সট্রোমারের কবিতাও আমি বিভিন্ন সময়ে অনুবাদ করেছি, সেইসব অনুবাদ আর ওঁর কবিতার ওপর আমার একটি
প্রবন্ধ নিয়ে প্রকাশিত হবে অনুবাদগ্রন্থটি।
---------------
সরকার আমিন
ফেসবুক এখন মোটামুটি ভালো নেশা। এ হচ্ছে ‘মানুষ-নেশা’। মানুষের সাথে মানুষের ইন্টারেকশনের মাদকতা। অনেকে ‘পেটের ভাত হজম হচ্ছে না’ সে কথাও ফেসবুকে বলছেন। এটাকে খারাপ মনে করি না। তবে আমি এই মাধ্যমটাকে আমার লেখালেখির সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করে নিতে চাচ্ছি। আমি এখন ফেসবুকে লিখি, লাইভ সম্প্রচার হয়। সমর্থন পাই। উস্কানি। শিস। মন্দ কী! আমি একটু বেশি খুশি, দুই প্রকাশকবন্ধু নিজ গরজে এগিয়ে এসে ফেসবুকে প্রচারিত আমার লেখা নিয়ে দুটি বই বের করছেন। নন্দিতা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিতব্য ‘জীবনের মাছগুলো’-তে আছে আমার আত্মজীবনীর কহতব্য অংশ, রাঁচী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘মৃত্যুর ওষুধ’-এ স্ট্যাটাসগুচ্ছ। ‘জীবনের মাছগুলো’ অবশ্য ধারাবাহিক স্মৃতিকথা নয়। পুকুরে মাঝেমধ্যে দেখা যায়, দুই-একটা মাছ খামোখাই লাফ মারে। এটা আমার লাফমারা স্মৃতির সংকলন। প্রকাশক নন্দিতা প্রকাশনীর কর্ণধার আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড। তিনি আমার স্ট্যটাসগুলো ফলো করছিলেন। একদিন ফোন করে আচমকা বললেন ‘জীবনের মাছগুলো’ তাঁর। বইটা তিনিই বের করবেন। প্রকাশকদেরও তাহলে ফেসবুকে পাওয়া যায়! কে নাই ফেসবুকে!
-----------------
আলফ্রেড খোকন
এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হবে আমার গদ্যগ্রন্থ ‘আমার (অ)সাধারণ বন্ধুদের প্রেম’। স্বতস্ফূর্তভাবে লেখকের লেখনীতে ধরা দেওয়া এই লেখায় কোনো নামকে কল্পনা থেকে টেনে আনা হয়নি। এই লেখায় যে চরিত্রগুলির সন্ধান পাওয়া যায়, তা বাস্তবেই রয়েছে। এঁরা প্রত্যেকেই আমার বন্ধু। এঁদেরকে আমি আমার সময়ের প্রয়োজনীয় মানুষ হিসেবে গুরুত্বের সহিত বিবেচনা করি। ফলে এই নামগুলির মধ্যেই আকাঙ্ক্ষা করেছি আমার সময়ের ইতিহাস, দর্শন, রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প ও সাহিত্য। এই আকাঙ্ক্ষার মানুষগুলো পুরুষ। তাঁরা নারীপ্রেম কেমন যাপন করেছিলেন, তার আভাস পাওয়ার আশা-ই আমার এই রচনার উপজীব্য। বইটির প্রকাশক শুদ্ধস্বর, প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী শাহীনুর রহমান। আমার প্রকাশিতব্য দ্বিতীয় গ্রন্থের নাম—‘মনে আসছে যা যা’। এখানে আছে আমার শৈশব-অপ্রাপ্তি-দ্রোহ-ক্ষোভ-অভিমান-আদর্শ এবং স্বপ্ন। যা একটি শিশুকে অন্যরকম মানুষ হবার স্বপ্ন জোগাবে। তবে শিশুটির আগে তার বাবা মাকেও পড়ে নিতে হবে গ্রন্থটি। দুই প্রজন্মের জন্যই লেখা ‘মনে আসছে যা যা’। বইটির প্রকাশক অনিন্দ্য, প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছেন শামসুদ্দীন।
---------------
ওবায়েদ আকাশ
এবারের বইমেলায় আমার তিনটি বই প্রকাশিত হচ্ছে; তিনটিই কবিতার বই। ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ বের করছে একটি দীর্ঘ কবিতার বই ‘বিবিধ জন্মের মাছরাঙা’। দীর্ঘ কবিতার যে ঝুঁকি—মুদ্রাদোষ, বিষয়ের পুনরাবৃত্তি, শৈলী ও প্রকরণের জড়তা—এসব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি। মূলত ‘বিবিধ জন্মের মাছরাঙা’য় বিধৃত হয়েছে বোধ ও আবেগের মগ্ন দ্বৈরথ। প্রচ্ছদ এঁকেছেন সঞ্জয় দে রিপন। শুদ্ধস্বর প্রকাশ করছে আরেকটি কাব্যগ্রন্থ ‘তৃতীয় লিঙ্গ’। এতে রয়েছে ভিন্ন স্বাদের ছয়টি দীর্ঘ কবিতা। প্রেম, ক্ষরণ, অবক্ষয়, বিষাদ, নগরযন্ত্রণার পাশাপাশি তৃতীয় বিশ্বের মানুষের দৈনন্দিন ও ভবিষ্যত-অনিশ্চয়তা, আগ্রাসন—এসবই উঠে এসেছে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’র কবিতাগুলোয়। এ বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিবু কুমার শীল। এ ছাড়া জাপানের প্রেমের কবিতার একটি অনুবাদকাব্য বের করছে প্রকাশনা সংস্থা নান্দনিক। বইটির নাম ‘জাপানি প্রেমের কবিতা:এমন কাউকে ভালোবাসো যে তোমাকে বাসে না’।
-----
সাইমন জাকারিয়া
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এবার আমার তিনটি বই প্রকাশিত হচ্ছে। প্রথম বইটি আমার নাটকের সংকলন, যা ‘নাটকসংগ্রহ’ নামে প্রকাশ করছে অ্যাডর্ন পাবলিকেশন। এটি আমর নাটকসংগ্রহের দ্বিতীয় খণ্ড। এতে ছয়টি মঞ্চনাটক ও দুটি নৃত্যনাট্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় বইটির নাম ‘বাংলাদেশের লোকসংগীত’, প্রকাশ করছে ইছামতি প্রকাশনী। বইটি তিনটি পর্বে বিভক্ত—প্রথম পর্বে প্রধান কয়েকটি লোকসংগীতধারা সংক্ষিপ্ত পরিচয়, দ্বিতীয় পর্বে লোকসংগীত ও লোকসংগীত শিল্পীদের সামপ্রতিক চালচিত্র এবং তৃতীয় পর্বে কয়েকজন লোকসংগীত সাধকদের সাক্ষাত্কার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আমার তৃতীয় বইটি ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হচ্ছে, নাম—‘প্রণমহি বঙ্গমাতা:ইনডিজিনিওস কালচারাল ফরমস অব বাংলাদেশ’, প্রকাশ করছে নিমফিয়া পাবলিকেশন। দুই বছর আগেই বইটি প্রকাশিত হয়েছিল। আমার সকল বইয়ের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ এবং বাংলা ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি তথা এ দেশীয় জনজীবনের ঐতিহ্য।
