একসময় খোলা আকাশ ছিল, সেই আকাশে আঙুল উঁচিয়ে তারা দিয়ে ময়ূর বানাতাম, ঘোড়া বানাতাম, আবার জোনাকি...। এখন আকাশের তারা দিয়ে ওসব পারি না, তারাগুলো অক্ষর হয়ে বন্দী করে রেখেছে ঘরে, টেবিল ল্যাম্পের নিচে সাদা খাতায় লিখে চলেছি আকাশের মুখ... তারাদের মুখ...। এত আলো তবু অন্ধকার, ছাপাখানার বিমূর্ত শব্দ গলে পড়ছে মগজে, মনে— হরিণের হাড়ের গভীরে মৃদু কম্পন তুলে গমখেত পাড়ি দিচ্ছে শীতের হাওয়া... পুরোনো কবর থেকে জেগে উঠছে বৃক্ষের চারা, অদ্ভুত-দৃষ্টির ব্যূহ ভেঙে জলজ উদ্ভিদের শিকড়ে নিমজ্জিত আমি বেদনার এক নীল কাকড়া, জন্মান্তর অভিমান ভুলে দোজখের দুর্যোগেও অটল প্রশান্তিতে চেয়ে দেখতাম যে মুখ, যাঁর মুখ— তিনি হঠাত্ নক্ষত্রের টুপি পরে রহস্যের আড়ালে হারিয়ে গেলেন। আমি দেখলাম— মাটির কবর ভেদ করে মা আমার ক্রমশ বৃক্ষ হয়ে উঠছেন
এখন আমি কীভাবে মায়ের বুকে ঘুমাব...
