এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৩ ম্যাচে মাত্র ৩টি পরাজয় ছিল ব্রাজিলের। বিশ্বকাপ জয়ী কোচ লুই ফেলিপ স্কলারির প্রত্যাবর্তনের এই ম্যাচে চ্যালেঞ্জ ছিল রেকর্ডটা ধরে রাখার। কিন্তু পারলো না তারা। বুধবার ওয়েম্বলিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছে সফরকারী ব্রাজিল। ম্যাচটি ছিল ব্রাজিলের ম্যানেজার হিসেবে দ্বিতীয়বারের মত দায়িত্ব পালনে রাজি হওয়া লুইজ ফিলিপ স্কলারির ফিরে আসার ম্যাচ। কিন্তু পরাজয় দিয়েই ব্রাজিল তার পুরোনো ম্যানেজারকে নতুন করে বরণ করে নিল। ম্যাচটি ছিল ফুটবল এসোসিয়েশনের (এফএ) ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। ব্রাজিলের বিপক্ষে ১৯৯০ সালের পরে এটি ছিল ইংল্যান্ডের প্রথম জয়। এর আগে নয়বার দল দুটি একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল।
ম্যাচটির আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিলো রোনালদিনহো। প্রায় এক বছর পরে হলুদ জার্সি গায়ে এদিন মাঠে নেমেছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা মিডফিল্ডার রোনলদিনহো। কিন্তু প্রথমার্ধের ১৯ মিনিটে রোনালদিনহোর পেনাল্টি শট ইংলিশ গোলরক্ষক জো হার্ট আটকে দিলে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
২৭ মিনিটে অভিজ্ঞ ওয়েইন রুনি গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর তিন মিনিটের মধ্যেই বদলী খেলোয়াড় ফ্রেড ব্রাজিলের পক্ষে সমতা ফেরান। কিন্তু ৬০ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে ৮৭ হাজার দর্শককে আনন্দে ভাসান বদলী খেলোয়াড় ফ্র্যাংক ল্যাম্পার্ড। রোনালদিনহো এবং এ্যাশলে কোল দুই জনের জন্যই ম্যাচটি ছিল নিজ দেশের হয়ে শততম ম্যাচ। কোল, ল্যাম্পার্ডসহ চেলসির ছয়জন খেলোয়াড় কাল মাঠে নেমেছিলেন। এদিকে মূল একাদশে ম্যানেচস্টার ইউনাইটেডের সেন্টার ব্যাক ক্রিস স্মলিংকে ডিফেন্সে নামানোর রয় হজসনের সিদ্ধান্তে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। প্রথম ২০ মিনিট ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মোটামুটি ভাবে সেলেসাওদের পক্ষেই ছিল। তার উপর বাড়তি পাওনা হিসেবে ছিল রোনালদিনহো ক্রস ডি বক্সের মধ্যে ইংলিশ মিডফিল্ডার জ্যাক উইলশিয়ারের হাতে লাগলে তা থেকে পেনাল্টি আদায় করে নেয়া। কিন্তু তার থেকে সুবিধা নিতে ব্যর্থ হয় রোনালদিনহো।
এর পর পরই স্বাগতিক শিবিরে উত্তেজনা ফিরে আসে। উইলশিয়ারের কাছ থেকে পাস পেয়ে থিও ওয়ালকট প্রায় ইংল্যান্ডকে এগিয়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্রাজিল গোলরক্ষক জুলিও সিজার সে যাত্রা দলকে রক্ষা করেন। ম্যাচটির উত্তেজনা আঁচ করতে ব্যর্থ হওয়া সান্তোস স্ট্রাইকার নেইমার মাঠেও কিছুটা নিষপ্রভ ছিলেন। ৪৫ মিনিটের ব্যর্থতার পরে রোনালদিনহোকে সরিয়ে সাবেক এভারটন খেলোয়াড় ফ্রেডকে নামিয়েই সাফল্য পান স্কলারি। ইংলিশ ডিফেন্ডার গ্যারি কাহিলের ভুলের সুযোগে ৪৮ মিনিটে হার্টের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান ফ্রেড। এরপর ফ্রেডের আরেকটি শট ক্রসবারে না লাগলে ব্রাজিল হয়তো এগিয়েও যেতে পারতো। কিন্তু তাত্ক্ষণিকভাবেই হজসন ম্যাচের আবহ বুঝতে পেরে কিছুটা আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করেন এবং ম্যাচের ঘণ্টাখানেক পরে তার থেকে সাফল্য আদায় করে নেন।
এই পরাজয়ে স্বাগতিক হিসেবে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল কিছুটা হলেও ধাক্কা খেলেও ২০০২ সালের বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের কারিগর স্কলারির নেতৃত্বে দলের আত্মবিশ্বাস পুনরায় ফিরে আসবে বলেই সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস।
