বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খুলনার সেমিফাইনালের পথ আগেই অনেক অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কাল ব্যাটে-বলে তাদের বিদ্ধস্থ করে বিপিএলের চলতি আসর থেকে খুলনার খালি হাতে বিদায় অনেকটা নিশ্চিত করে দিল চিটাগং কিংস। সেই সঙ্গে নিজেরা টানা তৃতীয় ম্যাচে জিতে তলানি থেকে উঠে এসে সেমিফাইনালের জোর দাবিদার হয়ে উঠল চট্টগ্রাম।
একদিন বিরতির পর কাল শুরু হওয়া দিনের প্রথম খেলায় খুলনাকে ৮৯ রানের বড় ব্যবধানে হারালো চট্টগ্রাম। প্রথমে ব্যাট করে চট্টগ্রাম করেছিল ৫ উইকেটে ১৫৬ রান। জবাবে মাত্র ৬৭ রানে অলআউট হয়ে যায় খুলনা।
এমন গুরুত্বপূর্ন ম্যাচে চট্টগ্রামের শুরুটাও ভালো হয়নি। মাত্র ১০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল তারা ক্যারিবিয় বোলার স্যান্টোকির আক্রমনে। এরপর প্রতিরোধ গড়ে গোলেন ডাচ তারকা রায়ান ডোশেট। তারপরও রানটা তাদের বেশি হচ্ছিল না। ১৫ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রামের স্কোরবোর্ডে রান উঠেছিল মাত্র ৮৭। এখান থেকেই দলকে লড়াকু একটা পুজি এনে দিলেন ডোশেট।
পরের ৫ ওভারে দলকে এনে দিলেন ৬৯ রান। আর নিজে শেষ পর্যন্ত ৭টি চার ও ৪টি ছয়ে সাজানো ৯২ বলে ৯৫ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত রইলেন। মূলত ডোশেটের কল্যানেই লড়াই করার মতো একটা পুজি পেল চট্টগ্রাম। দল ভালো একটা পুজি পেলেও ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি থেকে দূরে থাকায় ডোশেটের একটা দুঃখ থাকতে পারে।
কিন্তু ম্যাচশেষে বিজয়ী দলের নায়ক হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে এসে ডোশেট বললেন উল্টো কথা, ‘সেঞ্চুরির একটা আগ্রহ তো সবারই থাকে। কিন্তু আমরা খেলোয়াড়রা এরকম ব্যক্তিগত রেকর্ডের জন্য আসলে খেলি না। দল আমার কাছ থেকে কিছু পেয়েছি, আমরা জিতেছি; এটাই বড় কথা।’
ডোশেটের এই ইনিংসটাই খুলনার জন্য পর্বতপ্রমান হয়ে গেল। তারা ডোশেটের ব্যক্তিগত ইনিংসটাও পার করতে পারল না। আর তাদের এই ভয়াবহ ধ্বসটা নামালেন কেভন কুপার, এনামুল হক জুনিয়র ও জ্যাকব ওরাম। কুপার ১০ রানে ৪ উইকেট, এনাম ১৪ রানে ৩ উইকেট এবং ওরাম ১৭ রানে ২ উইকেট তুলে নিলেন। আর এই ত্রিমুখী আক্রমনের সামনে মাত্র ১৪.২ ওভারে ৬৭ রানে অলআউট হল খুলনা। শাহরিয়ার নাফীস (১৫) ও ফরহাদ রেজা (১৩) ছাড়া কেউ দুই অংকেরই মুখ দেখতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে খুলনার অধিনায়ক নাফীস মেনে নিলেন সেমিফাইনালের লড়াই থেকে কার্যত ছিটকে গেছেন তারা। একটা যুক্তি শুরু থেকে খুলনার ছিল যে, তাদের বিদেশী খেলোয়াড়ের অভাব। কিন্তু নাফীস বলছেন, এখন আর এই ‘অজুহাত’ দিয়ে লাভ নেই, ‘প্রথম দু ম্যাচে সেটা একটা সমস্যা ছিল। পরে আমরা নিজেদের ব্যর্থতায়ই ভালো করতে পারিনি। এই উইকেটও কোনোভাবেই ৬৭ রানে অলআউট হওয়ার মতো না। এখানে আমরা দারুনভাবে ব্যর্থ হয়েছি। এটা খুবই হতাশার।’
শুধু তাই নয়, নাফীস মানছেন, তাদের এই পারফরম্যান্সে মালিক কতৃপক্ষও খুব হতাশ হওয়ার কথা, ‘ওনারা ভালো দল করার চেষ্টা করেছেন, ব্যয় করেছেন। তারপর যদি আমরা টানা এরকম ফল উপহার দেই। তাহলে হতাশ তো হবেনই।’
