সমবায় সমিতির নামে ব্যাংকিং কার্যক্রম নিষিদ্ধ

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৬
সমবায় সমিতির নামে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ, শাখা অফিস খোলার বিধান বাদ দিয়ে ২০০১ সালের সমবায় সমিতি আইন সংশোধনে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। বিলে কোনো সমবায় সমিতির নামের সঙ্গে ‘ব্যাংক’ শব্দ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে বুধবার রাতে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পক্ষে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলের ওপর দেয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো এর আগে নাকচ হয়। সমবায় সমিতি (সংশোধন) বিল ২০১২ গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের রূপকল্প ২০২১ কে সামনে রেখে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোর যাতে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহযোগী ভূমিকা পালন করতে পারে সে লক্ষ্যে এ বিলটি আনা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, কোনো সমবায় সমিতি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো শাখা অফিস খুলতে পারবে না। তবে এ বিধান কার্যকর হওয়ার আগেই কোনো অনুমোদিত শাখা অফিস থাকলে এই বিধান কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে তা মূল সমিতির সঙ্গে একীভূত হবে অথবা সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতির আবেদনক্রমে ওই শাখা অফিস প্রাথমিক সমবায় সমিতি হিসাবে নিবন্ধিত হতে পারবে। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, এ বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক সাত বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের ১৯ দফায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক ছাড়া কোনো সমবায় সমিতি তার সদস্য ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ বা ঋণ প্রদান করতে পারবে না। প্রস্তাবিত আইনে আরো বলা হয়েছে, কোনো সমবায় সমিতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকিং ব্যবসা করতে পারবে না। এছাড়া ২০০১ সালের আইনের সংশোধন করে প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সমবায় অধিদপ্তরের একজন নিবন্ধক থাকবেন, যিনি মহাপরিচালক নামেও অভিহিত হবেন।