বৈষম্যহীন অভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার দাবি

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৭
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দ্বীপে বিপ্লবী ছাত্র সংহতির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল উদ্বোধনকালে ভাষা সংগ্রামী ও লেখক আহমেদ রফিক মাতৃভাষাকে ভিত্তি করে বৈষম্যহীন সার্বজনীন অভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার জন্য ছাত্র, শিক্ষকসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন । তিনি বলেন, ভাষা শহীদরা ১৯৫২ সালে যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন শোষণ, বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে তা বাস্তবায়িত করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমাদের জাতি রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্যই এই বিচার জরুরি। তিনি বলেন ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এখন আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাসহ শোষণহীন মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন শিক্ষা মৌলিক অধিকার হলেও তাকে আজ বেচাকেনার পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। শিক্ষাস্থলে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোকিত পরিবেশের পরিবর্তে সন্ত্রাস, পেশীতন্ত্র ও দখলদারিত্বের বিস্তৃতি ঘটেছে। তিনি এসবের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ছাত্রনেতা সায়েম উদ্দিন আহমেদ তাজেল-এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. এম. আকতারুজ্জামান, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এস.এম শুভ, নারী নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী, ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দীন আহমেদ নাসু, বিপ্লবী কৃষক সংহতির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এ্যাপোলো জামালী প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বিপ্লবী ছাত্র সংহতির একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বিশ্ববিদ্যালয় প্রদক্ষিণ করে কলাভবনে এসে শেষ হয়। বেলা আড়াইটায় ছাত্র সংহতির উদ্যোগে ‘শিক্ষার সংকটঃ গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার সন্ধানে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদগণ ঔপনিবেশিক ধাঁচের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা কাঠামো পরিবর্তন করে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী একমুখী, বিজ্ঞান ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বিপ্লবী ছাত্র সংহতির আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক নাসিম আকতার হোসাইন, ড. কাবেরী গাইন ও তানিম নওশাদ।