দারিদ্র্যতা অঙ্গ প্রতিবন্ধী কেরামত আলীকে দমাতে পারেনি। শত বাধা পেরিয়ে সে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কিসামত চরিতাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। আর শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও এ তথ্য নেই কেন্দ্রে। কেন্দ্রের মতে, এ ধরনের তথ্য জানানো হয়নি বিদ্যালয় থেকে। ফলে প্রতিবন্ধীদের জন্য তার সুযোগ থাকলেও সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে কেরামত। তার আকুতি একটি হুইল চেয়ারের। আর এই হুইল চেয়ার পেলেই ভবিষ্যতে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ তার। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা সদরের আদিতমারী জিএস মডেল স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রের ২২নং কক্ষে ইসলাম ধর্ম পরীক্ষা দেয়ার সময় এ প্রতিনিধির সাথে কথা হয় শারীরিক প্রতিবন্ধী কেরামত আলীর। মানবিক শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সে। তার রোল নং-৫৮০৭৯৮। সে জানায় তার করুণ কাহিনী। দুই পা এক রকম বিকল। একটি লাঠির উপর ভর করে দ্বিতীয় তলায় এসে পরীক্ষায় অংশ নেয়া তার জন্য অতি কষ্টের ব্যাপার। তার এ কষ্টের কথা কেউ চিন্তা করেনি। করেনি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষও। তবে শত কষ্টের মাঝেও রয়েছে তার বন্ধুরা। তাদের সহায়তায় ওই লাঠির সাহায্যে চলতি বছর অংশ নিচ্ছে এসএসসি পরীক্ষায়।
ছাত্র হিসেবে ভাল— একথা জানায় তার বন্ধুরা। তবে তার বাবা হোসেন আলী পেশায় একজন কৃষক। ৪ ভাই ২ বোনের মধ্যে সে শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে আরো জানায়, জন্মের ৩/৪ বছর পর হঠাত্ জ্বরে আক্রান্ত হলে তার দরিদ্র বাবা-মা স্থানীয় পল্লী চিকিত্সকের আশ্রয় নেন। আর ওই অপচিকিত্সায় চিরতরে স্বাভাবিক জীবন থেকে বঞ্চিত হয় কেরামত। এরপরও থেমে থাকেনি তার লেখাপড়া। লেখাপড়া শিখে ভবিষ্যতে তার কি হবার ইচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে সে জানায়, কপালে কি আছে তা আল্লায় ভাল জানেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মঞ্জুরুল হক বলেন, প্রতিবন্ধী হিসেবে তার স্কুল থেকে কোনো তথ্য কেন্দ্রে দেয়া হয়নি। ফলে জানাও যায়নি সে প্রতিবন্ধী কি না? একই কথা বললেন কেন্দ্র সচিব রনজিত্ কুমার দেবনাথ। আর এ প্রতিনিধির কাছ থেকে জানার পর কেরামতকে এক নজর দেখার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রে যান কেন্দ্র সচিব।
