দীর্ঘ ১৩ বছর পর একনেক বৈঠকে ৪’শ ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্পপার্ক প্রকল্পটি অনুমোদন পেল। একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ৫ ফেব্রুয়ারির একনেকের নির্বাহী কমিটির সভায় এই প্রকল্পের সংশোধিত আর পিপি’র অনুমোদন দেয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় যমুনাপাড়ের মানুষের মনে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ৪ শত একর জমির মালিকেরা এখন তাদের অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য দ্রুত পেয়ে যাবে।
জানা গেছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের প্রচেষ্টায় গত ১৯৯৯ সালের ১৭ জুন অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ বৈঠকে বিসিক শিল্পপার্ক শীর্ষ প্রকল্পটি গ্রহণের জন্য নীতিগত সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঐ বছরের ১ ডিসেম্বর এই শিল্পপার্ক স্থাপনের জন্য তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সার সংক্ষেপ অনুমোদন করেন। তার পূর্বে প্রকল্পে পিপিসি একনেক কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে। ৪শ’ একর আয়তনের এই শিল্পপার্কটি শিল্প মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে। এতে ৫শ’ ৭০টি রপ্তানিমুখী শিল্প ইউনিট স্থাপন এবং ২শ’ ৫০টি শিল্প প্লটের উন্নয়ন করা হবে। এখানে বিভিন্ন শিল্প ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ লোকের সরাসরি কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যা দারিদ্র্য বিমোচন ও আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন করে শিল্প স্থাপনের জন্য প্লট নির্মাণ করা হবে। এখানে ২০ হাজার বর্গফুটের “এ” টাইপ প্লট ৩শ’ ২৬টি এবং ১০ হাজার বর্গফুটের ‘বি’ টাইপ প্লট ৪শ’ ৩২টি ও ‘সি’ টাইপের ৬২টি প্লট নির্মাণ করা হবে। প্রস্তুতকৃত প্লটে শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পনগরীর জন্য প্রস্তাবিত স্থানে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ এবং লজিষ্টিক দ্রব্যাদি সংগ্রহ করা হবে।
সূত্রটি জানায়, অনুমোদিত পিপিসির প্রাক্কলিত ব্যয় ঐ সময় ধরা হয়েছিল ১’শ ৯৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। বাস্তবায়ন মেয়াদ ছিল ১৯৯৯ সালের জুলাই থেকে ২০০৪ ইং সালের জুন মাস পর্যন্ত। সে সময় প্রকল্পটির অনুকূলে ২০০৪ ইং সালের জুন পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। কিন্তু ৩০ এপ্রিল/০৪ ইং সালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা বৈঠকে সিন্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। পরবর্তীতে শিল্পপার্ক স্থাপনের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় উদ্যোগ নেয়া হয় এবং ২০০৯/১০ অর্থ বছরের এডিপিতে প্রকল্পটি বরাদ্দহীনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত ৩১ আগষ্ট/১০ইং শর্তসাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদন করে। এই শর্তপূরণ করে ২০১১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি একনেক থেকে প্রকল্পটির অনুমোদনপত্র জারি করা হয়। প্রণীত সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্পটি প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৪’শ ৮৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকাল ১ বছর বাড়িয়ে ধরা হয় ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত।
