যশোরের চৌগাছায় বাউকুলের চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। অনেকে কুল বাগান তুলে দিচ্ছে। জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক ৭ থেকে ৮’শ বিঘা জমিতে কুল চাষ করে। ফলনও বেশ ভাল হয়েছে। কিন্ত উত্পাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারে কুলের দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। কৃষকদের অভিযোগ দীর্ঘদিনেও সরকার বিদেশে কুলের বাজার সৃষ্টি করতে না পারায় সম্ভাবনাময় একটি কৃষিখাত ধ্বংস হতে চলেছে। কথা হয় উপজেলার বড় কুলচাষি বাকিবিল্লার সাথে। তিনি এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন। তিনি জানান, এ বছর যেখানে তার কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা মুনাফা হওয়ার কথা সেখানে তার প্রায় ৪ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। লোকসানের কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, সার, ওষুধ, কীটনাশক, জ্বালানি তেল ও শ্রমিকের মজুরী ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে কুলের উত্পাদন খরচ অন্যান্য বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। অপরদিকে বাজারে কুলের দাম না বেড়ে কমে গিয়েছে। যেখানে গত বছর ঢাকার বাজারে এক মণ কুলের দাম ছিল ২২’শ থেকে ৩ হাজার টাকা। সেখানে এ বছর এক মণ কুল বিক্রি হচ্ছে ৫’শ থেকে ১১’শ টাকা। এছাড়া গত বছর চৌগাছা থেকে ঢাকায় কুল নিয়ে যেতে ট্রাক প্রতি ভাড়া দিতে হতো ৮ হাজার টাকা কিন্তু এ বছর ভাড়া দিতে হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। কুলচাষের ব্যাপারে খোঁজ নিতে উপজেলার স্বরুপদহ গ্রামে গেলে কুলচাষি মাও. গিয়াস উদ্দীন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, শেখ সাদী, আশরাফুল ইসলাম, বাবু মেম্বর, কবির হোসেন, হাফিজুর রহমান ও আব্দুল জলিল জানান, এবছর তারা প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছে। তারা সকলে জানান বিগত কয়েক বছর যাবত্ কুল বিক্রি করে তারা লাভবান হচ্ছিল কিন্তু এবছর ভাল ফলন হওয়া সত্ত্বেও কুলের দাম পড়ে যাওয়ায় ব্যাপকহারে লোকসান হচ্ছে।
