হোসেনপুরের ঐতিহাসিক গোল মসজিদ সংস্কার জরুরি

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:১৪
হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের বাগপাড়া এলাকায় স্থাপিত হয় পাঁচশ’ বছর পূর্বে ঐতিহাসিক গোল মসজিদ। পুরানো প্যাটার্নে নির্মিত মসজিদটি দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে। আনুমানিক ৯শ’ হিজরীতে এক সুফি সাধক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শেখ শামছুদ্দিন ভারত বর্ষে ইসলাম ধর্ম প্রচার করার জন্য আগমন করেন। নিজ জন্মস্থান ইরাক থেকে রওয়ানা হয়ে আফগানিস্তানে যাত্রা বিরতি করেন। পরে ভারতের উড়িষ্যায় কিছুদিন অবস্থান করে ঢাকার সোনারগাঁও এলাকায় পৌঁছেন। এরপর নৌ-পথে পাড়ি দিয়ে ব্রহ্মপুত্র এর শাখা নদী নরসুন্দার উত্তর পার্শ্বে শাহেদল গ্রামের বাগপাড়া এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। এ স্থানকে বেছে নিয়ে তিনি ইসলাম প্রচার ও মসজিদ নির্মাণ করেন। নির্মাণের বহু বছর পরে ভূমিকম্প দেখা দিলে মসজিদটির সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দেয়। শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১২১৯ হিজরীতে মসজিদটি নতুনভাবে কারুশিল্পের প্যাটার্নে স্থাপিত হয়। মসজিদের ভিতরের দেয়াল ৩২ ইঞ্চি পুরো এবং উপর অংশ ডিম আকৃতির। তিন কাতারে ৭জন করে ইমামসহ ২২ জন মুসল্লি এক সাথে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদ প্রতিষ্ঠার বর্তমান বংশধর নাজমুল হক ভুঁইয়া জানান, গত কয়েক বছর পূর্বে মসজিদটিকে ভেঙ্গে নতুন প্যাটার্নে নির্মাণের অনুমতির জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। গোল মসজিদটি স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন বিবেচনা এনে ভাঙ্গার অনুমতি দেননি। বর্তমানে মুসল্লি বেড়ে যাওয়ায় টিনের চালা দিয়ে কিছুটা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। মসজিদের পার্শ্বে রয়েছে শেখ শামছুদ্দিনের দুই ছেলে শেখ আদম ও শেখ আলমসহ পরবর্তী বংশধরের কবরস্থান। মসজিদটির পার্শ্বে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে তাদের বসতি ভিটা।