বরিশালে বিসিকের শিল্প প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:১৫
শীত যতই কমে আসছে ততই বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুত্ সরবরাহের সাথে তাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডের ‘স্ক্যাডা’ (বিশেষ পদ্ধতিতে ফিডার সংযোগ বন্ধ করা) সমস্যায় বিসিক শিল্প এলাকার ৫০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধের উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাখ লাখ টাকা গচ্ছা দিয়েও ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে পারছেন না শিল্প মালিকরা। বিপুল টাকা ব্যয়ে একেকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু করলেও বিদ্যুত্ বিভাগ, আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনী ও রাজনৈতিক অসহযোগিতায় শিল্প মালিকরা লোকসান গুণছেন। বিদ্যুত্ কন্ট্রোল রুম থেকে জানা গেছে, গড়ে অফপিক আওয়ারে ২৮ মেগাওয়াট ও পিক আওয়ার ৪২ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ হচ্ছে। অথচ এখানে পিক আওয়ার চাহিদা হচ্ছে ৭৫ মেগাওয়াট ও অফপিক আওয়ার চাহিদা ৪৫ মেগাওয়াট। এটা শীতকালীন চাহিদা ও সরবরাহের হিসাব। জাতীয় গ্রীড থেকে যখন চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুত্ সরবারহ করা হচ্ছে ঠিক তখনই ‘স্ক্যাডা’ সমস্যায় দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বিদ্যুত্ বিভাগ ও ব্যবসায়ীরা জানান- বিসিক শিল্প এলাকাটি কাশিপুর ফিডারের অধীনে। সেখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বেশি। বর্তমানে জাতীয় গ্রীড পরিচালনার দায়িত্বরত ঢাকার প্রকৌশলীরা যে কোন সময় ঢাকায় বসে যে কয়টি ফিডারে স্ক্যাডা পদ্ধতিতে সরবারহ বন্ধ করতে পারেন তারমধ্যে এ ফিডারটি অন্তভুক্ত রয়েছে। তাই রাজধানী ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিদ্যুত্ সংকট দেখা দিলেই স্ক্যাডার কবলে পড়ে এ ফিডারটি। বিসিকের শিল্প মালিক-শ্রমিকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে স্থানীয় কন্টোল রুম থেকে এক ঘন্টার লোডশেডিং দেয়ার পর তারা যখন কাজ শুরু করেন তার মাত্র ১০ মিনিট পরই আবার স্ক্যাডা করে বাড়তি আরো এক ঘন্টা লোডশেডিং দেয়া হয়। বেঙ্গল বিস্কুট লিমিটেডের ফ্যাক্টরি ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের কারণে প্রতিদিন তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। হঠাত্ লোডশেডিং হলে বিস্কুট ও লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়। তার ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ৫শ’ শ্রমিকে সার্বক্ষণিক কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। ফলে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন বৃহত্ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফরচুন সুজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমাউনর রহমান জানান, অব্যাহত লোডশেডিংয়ে দৈনিক তার ৩/৪ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। নতুন এ শিল্প প্রতিষ্ঠান বিদ্যুতের অভাবে টিকানো যাচ্ছে না বলে তিনি জানান। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৬শ’ শ্রমিক পোহাচ্ছেন লোকসানের এ দুর্ভোগের বোঝা। অনন্যা ফুটস ও প্যাকেজিং’র স্বত্বাধিকারী সামসুদ্দিন কামাল জানান, তার ফ্যাক্টরির ৩ শতাধিক শ্রমিক এখন অধিকাংশ সময় অলস সময় কাটান। একই অবস্থা ম্যাকপাই পিভিসি প্লাষ্টিক, রাফি প্লাষ্টিক, সাউদান পলি, হাওলাদার পিভিসিসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের। সকলেই বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের জন্য লোকসানের কথা জানান। এখানকার বিদ্যুত্ বিভাগের (ডিভিশন-২) নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, ‘স্ক্যাডা’ অন্তর্ভুক্ত ফিডারগুলোর মধ্যে যে কোন ফিডার জাতীয় গ্রিডের সমস্যার কারণে ঢাকা থেকে সরবারহ বন্ধ করা হয়ে থাকে। বিসিক শিল্প এলাকাটি স্ক্যাডা অন্তর্ভুক্ত কাশিপুর ফিডারের আওতায় থাকায় উত্তরণের কোনো উপায় নেই বলে তিনি জানান।