আতংকের জনপদ সরাইলের ধামাউড়া

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:১৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের অরুয়াইল ইউনিয়নের ধামাউড়া গ্রাম এখন আতংকের জনপদ। পুলিশও ঐ গ্রামে যেতে ভয় পায়। এক বছর ধরে গ্রামটিতে চলছে নৈরাজ্য। ঘটছে একের পর এক খুনের ঘটনা। বাড়ি-ঘর ভাংচুর আর চালানো হচ্ছে লুটপাট। লুটতরাজ থামাতে গিয়ে মারধোরের শিকার হন ৪ পুলিশ সদস্য। সরেজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে জানা যায়, মাত্র ৪ আনা স্বর্নের জোড়া কানের দুল নিয়ে ১৪ মাস আগে গ্রামে প্রথম সংঘর্ষের সূত্রপাত। একে কেন্দ্র করে ধামাউড়া চকবাজারে নাসিরনগরের এক স্বর্ন শিল্পীকে মারধোর করে গ্রামের গাজীর গোষ্ঠীর লোকেরা। প্রতিবাদ করে তালুকদার গোষ্ঠীর লোকজন। শুরু হয় দু’গোষ্ঠীর লড়াই। গাজীর গোষ্ঠীর পক্ষে গ্রামের ছোট-বড় আরো ১৪টি গোষ্ঠীর লোকজন আর তালুকদার গোষ্ঠীর পক্ষে বারীর গোষ্ঠীর লোকজন সক্রিয়। ২০১২ সালের ২৪ জানুয়ারী দু’দলের সংঘর্ষে গুরুত আহত হয় বোরহান উদ্দিন(৫৫)। ১৪ ফেব্রুয়ারী ঢাকার ফরচুন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে বিভিন্ন সময়ে গ্রামে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরো ৪ টি খুনের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছেন জজ মিয়া (৫৫), নবী হোসেন, সোয়াব মিয়া এবং সখিনা খাতুন। এসব সংঘর্ষে আহত হয় প্রায় ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ। সংঘর্ষে প্রায় ৫ শতাধিক ঘর লুটপাট চালায় দাঙ্গাবাজরা। প্রতিপক্ষের ৮৪টি গরু লুটে নেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ৩০শে ডিসেম্বর খুন হন সখিনা খাতুন। এরপরই গ্রামে শুরু হয় ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট। গ্রামের জহির মিয়া, নজু মিয়া, গৃহবধূ রেজিয়া বেগম, হালিমা বেগম, পারুল বেগমসহ আরো কয়েকজন জানান, নিজেদের ঘর বাঁচানোর জন্য প্রতিপক্ষের লোকদের ৩ হাজার টাকা করে দিয়েছি। এরপরও ঘর ভেঙ্গে নিয়েছে। ধামাউড়া গ্রামের তারেক মাহমুদ জানান, বাড়িতে হামলা চালানোর সময় তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে পিস্তল ধরা হয়। ১০ হাজার টাকা না দিলে খুন করা হবে। এখন বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি। এ সুযোগে ৩ টি ঘর থেকে কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। ধামাউড়া গ্রামের বৃদ্ধ আব্বাস মিয়া জানান, গ্রামে লুটপাটের খবর পেয়ে গত ১৮ই জানুয়ারী ৪ পুলিশ সদস্য গেলে পিটিয়ে আহত করা হয়। অরুয়াইল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব জানান, গত ১৩/১৪ মাস ধরে গ্রামটিতে খুনখারাপি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। সংসদ সদস্যসহ অনেক চেষ্টা করেও বন্ধ করতে পারিনি। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম চক্রবর্তী জানান, অরাজকতার একটা সীমা আছে। ভৌগলিক কারনে তারা সুযোগ পাচ্ছে বলে জানান। পুলিশ একদিক দিয়ে গেলে তারা চলে যায় অন্যদিকে। পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান পিপিএম জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা জানান, শান্তিপূর্ন সমাধান করতে না পারলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।