সুন্দরবনের গহিনে পারশে পোনা ধরার মহোত্সব, হুমকির মুখে মত্স্য সম্পদ

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:১৭
সুন্দরবনের গহিনে বিভিন্ন নদী ও খালে অবাধে চলছে পারশে মাছের পোনা ধরার মহোত্সব। পোনা নিধনকারীরা খুব ছোট ফাসের নেটজাল ব্যবহার করে সুন্দরবন অভ্যন্তরের মত্স্য প্রজনন এলাকা বা নিষিদ্ধ বনাঞ্চল ও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদ-নদীতে পোনা নিধন অব্যাহত রেখেছে। এ প্রজাতির পোনা আহরণ করতে তারা শতাধিক প্রজাতির জলজ সম্পদ নষ্ট করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুন্দরবনের সবচেয়ে বেশি টাকা আয় হয় পারশে পোনা থেকে। এক কেজি পারশে পোনার মূল্য ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। গত ডিসেম্বর মাস থেকে পারশে ধরার মৌসুম শুরু হয় এবং মার্চ মাস পর্যন্ত চলবে। প্রকাশ, একশ্রেণীর মহাজনরা গরিব জেলেদের সংগ্রহ করে তাদেরকে হাজার হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে পোনা নিধনের জন্য সুন্দরবনে পাঠিয়ে থাকে, গোন চুক্তিতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এতে সহযোগিতা করছে কতিপয় বন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা বনবিভাগের অফিস থেকে সাদা মাছের পারমিট নিয়ে অবাধে পোনা নিধন চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র নেট দিয়ে ছাকনির মাধ্যমে পোনা আহরণের ফলে শুধু পারশে পোনা ধ্বংস হচ্ছে না, সমুদ্রের হাজার হাজার প্রজাতির জলজ প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে। তা ছাড়া পারশে পোনা অন্যান্য প্রজাতির পোনার চেয়ে নরম প্রকৃতির হওয়ায় নেট জাল থেকে অন্য পাত্রে রাখার সময়ের মধ্যে অর্ধেকের বেশি পোনা মারা যাচ্ছে। যে কারণে প্রতিদিন অসংখ্য পোনা নির্বিচারে মেরে ফেলা হচ্ছে। পরিবেশবিদ ও মংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এভাবে পোনা শিকার করলে সুন্দরবনের জলজ সম্পদ হুমকির মুখে পড়বে। এ ব্যাপারে নলিয়ান রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ জহিরুল হক বলেন, পারশে মাছের পোনা ধরার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে অভিযানে গেলে জেলেদের খুঁজে পাওয়া যায় না। অপরদিকে চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন জানান, অবৈধ পোনা শিকারীদের আটকে বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।