সংকট বাড়ছে তিউনিসিয়ায়

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৬
তিউনিসিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা চোকরি বেলাইদ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ বাড়তে থাকার পাশাপাশি ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট। দেশটির প্রধানমন্ত্রী হামাদি জেবালি বুধবার গণবিক্ষোভের মুখে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের ঘোষণা করে নিজের দল ক্ষমতাসীন এন্নাহদা পার্টির বিরোধিতার মুখে পড়েছেন তিনি। এদিকে বেলাইদ হত্যার প্রতিবাদে তিউনিসিয়ার শ্রমিক সংগঠনগুলো শুক্রবার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ঐদিন বেলাইদের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গণবিক্ষোভ সামাল দিতে শান্ত তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী হামাদি জেবালি নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করায় ক্ষমতাসীন এন্নাহদা পার্টি থেকেই বিরোধিতার মুখে পড়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী দলের মতামত না নিয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ জেলাসি। তিনি বলেন,“আমরা এন্নাহদার সদস্যরা মনে করি তিউনিসিয়ায় এখন একটি রাজনৈতিক সরকার দরকার। আমরা জোট সরকার গঠন নিয়ে অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাব।” তিউনিসিয়ার বিরোধীদলগুলোও নতুন অন্তর্বর্্তী সরকার গঠনের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং কোনো নতুন সরকার গঠনের আগে তাদের সঙ্গে আলোচনা করার দাবি জানিয়েছে। এর আগে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় গণপরিষদ থেকে বেরিয়ে গেছে বেলাইদের পপুলার ফ্রন্টসহ চারটি বিরোধীদল। ঘনিয়ে ওঠা এ রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে তিউনিসিয়ার রাজধানীসহ আরো কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ চলছেই। রাজধানী তিউনিস এবং গাফসা শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছুঁড়েছে পুলিশ। গাফসায় বিক্ষোভকারীরা গভর্নরের কার্যালয়ের বাইরে মিছিল-সমাবেশ করেছে। পুলিশের দিকে পাথর, পেট্রোল বোমাও ছুঁড়ে মারে বিক্ষুব্ধরা। নতুন বিপ্লবের স্লোগান দিয়ে এন্নাহদা পার্টির নথিপত্র জ্বালিয়ে দেয় বিরোধীকর্মীরা। এরই মধ্যে বেলাইদি হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার আইনজীবী ও বিচারকরা দু’দিনের ধর্মঘট পালন করেছে। এদিকে বেলাইদ হত্যার প্রতিবাদে তিউনিসিয়ার শ্রমিক সংগঠনগুলো শুক্রবার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম শ্রমিক সংগঠনগুলো ধর্মঘটের ডাক দিল। রাজধানী তিউনিস থেকে আল জাজিরার এক সাংবাদিক এটাকে ‘ তাত্পর্যপূর্ণ অগ্রসর’ বলে মন্তব্য করেছেন।