আফগানিস্তানে দুর্নীতির পিছনে অর্থব্যয় ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে। গত বছর সেখানকার অর্ধেক জনগোষ্ঠীকেই সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হয়েছে। দেশটিতে ‘সুস্পষ্ট কিছু অগ্রগতি’ সত্ত্বেও ২০১২ সালে এই দুর্নীতির পিছনে অর্থব্যয় বেড়ে ৩শ ৯০ কোটি মার্কিন ডলার হয়েছে যা ২০০৯ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। দেশটির দুর্নীতি দমন ইউনিটের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিসি) প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে গত বছর জাপানে এক সম্মেলনে দাতাদের এক হাজার ৬শ কোটি মার্কিন ডলার দেয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে আফগান নাগরিকদের প্রদেয় ঘুষের পরিমাণ দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্বের দ্বিগুণ বা টোকিও অঙ্গীকারের এক-চতুর্থাংশ। সাধারণ নাগরিকরা এই দুর্নীতিকে অব্যাহতভাবে সহনীয় বলে মেনে নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৮ শতাংশ মানুষ মনে করে, সরকারি কর্মচারীরা কম বেতন পান। ফলে তারা সামান্য ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে রোজগারের পরিমাণ বাড়িয়ে নিচ্ছেন। ২০০৯ সালে কমপক্ষে ৪২ শতাংশ মানুষ এ মত পোষণ করতেন। এছাড়া ৬৭ শতাংশ লোকের মতে পারিবারিক বন্ধন ও বন্ধুত্বের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া একজন সরকারি কর্মকর্তার জন্য ঘুষ গ্রহণ কিছু কিছু সময় গ্রহণযোগ্য। চার বছর আগে এ মত পোষণকারীর সংখ্যাও ছিল ৪২ শতাংশ।
২০০৯ সালে ঘুষ দিয়ে কাজ আদায় করে নেয়া লোকের সংখ্যা ছিল ৫৮ শতাংশ। তবে গত বছর এ সংখ্যা নেমে ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তাদের মাঝে মাঝেই ঘুষ দিতে হচ্ছে। দেশের প্রায় ছয় হাজার ৭শ নাগরিকের ওপর জরিপ চালিয়ে ইউএনওডিসি এ তথ্য জানায়।
