মু খো মু খি
মুকিত। এ সময়ের ছোটপর্দার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেই পুরো দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত তিনি। তার অভিনয়ের প্রতিভা এখন শুধু বিজ্ঞাপনেই নয়, ছড়াচ্ছে চলচ্চিত্রেও। নিজের সাম্প্রতিক ব্যস্ততাসহ মিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুকিত কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সঙ্গে।
সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রবি হাসান
আপনার বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে বলুন?
নিয়মিত ‘টেলিভিশন’ সিনেমার ক্যাম্পেইনে কাজ করছি, এই ক্যাম্পেইনের ধারাবাহিকতায় খুব শীঘ্রই দেশের অন্যান্য জেলাতেও যাব। এই ছবিটি প্রচার হওয়ার পরপরই আরেকটি ছবি শুরু করেছি। ছবিটির নাম ‘গেম’। এইখানে কাজ করতে এসে সবচেয়ে ভালো লাগছে প্রমিথিউস ব্যান্ডের বিপ্লব ভাইকে পেয়ে। তিনি এখানে ডনের চরিত্রে অভিনয় করছেন। তাকে পেয়ে মনে হচ্ছে পুরো ফিল্মটা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেল। আর এই ছবিটির পাশাপাশি বিভিন্ন চ্যানেলে আমার ৪টি ধারাবাহিক চলছে। আরও ৩টি ধারাবাহিকে কাজ করছি, এগুলো এখনও বাক্সবন্দি তবে যেকোনো মুহূর্তে প্রচার শুরু হবে। এ পর্যন্ত ২৬টি বিজ্ঞাপন করেছি। এমনও দিন গিয়েছে যে, একদিনে দুইটি বিজ্ঞাপনে কাজ করে ফেলেছি। আর এই বিজ্ঞাপন নিয়ে একটি সিদ্ধান্তও নিয়েছি। এই বিজ্ঞাপনে কাজ করা নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি বই লিখব, এই বইতে কাজ করতে গিয়ে ঘটে যাওয়া নানা মজার মজার ঘটনাও থাকবে।
আপনিতো নাটকের চেয়ে বিজ্ঞাপনে বেশি আলোচিত, এ বিষয়টি কেমন উপভোগ কারছেন?
আসলে মিডিয়ার এই লাইনে আসাটা অভিমান থেকে। অভিমান আজ আমাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। আমি অনেক অবহেলিত ছিলাম। বাংলাদেশে বিজ্ঞাপনের নতুন ধারা নাকি আমার মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে এমনটা অনেকেই বলছেন। অনেক গুণী ব্যক্তিরাই বলছেন। আমি নাকি এটাকে স্টাবলিশ করে ফেলেছি। আগে বিজ্ঞাপনে শুধুই চকলেট হিরো বা হিরোইনের বিষয়টা গুরুত্ব পেত। আর আমার ক্ষেত্রে তো অবশ্যই ব্যতিক্রম, শুধু তাই নয় আমার অধিকাংশ বিজ্ঞাপনের ডায়লগগুলোও বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। আর শেষ যেই বিজ্ঞাপনটি করেছি এতে আমি এক ঘণ্টায় ৮০ চামচের উপরে চিনি খেয়েছি। এটা খাওয়ার পর আমি অনেকটা অসুস্থও হয়ে গিয়েছিলাম, এমনকি বমি হয়েছিল।
আপনিতো সম্প্রতি নতুন একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রে নিয়মিতও হচ্ছেন, এ বিষয়টি কেমন উপভোগ করছেন, আর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রস্তুতি কেমন আপনার?
এ পর্যন্ত ১৭টি চলচ্চিত্র ও ১৩টি বিজ্ঞাপন ছেড়ে দিয়েছি। তাদের গল্পগুলো আমার পছন্দ হয়নি, এবং তাদের প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলোও ভালো মনে হয়নি। ‘গেম’ ছবির জন্য গত ৩ দিন ধরে পূবাইলে আছি। পিকনিকের মতো এখানে শুটিং করছি।
নাটক, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনের মধ্যে কোন মাধ্যমে কাজ করতে আপনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
তিনটাই আমার ভালো লাগছে, সবকটাই এনজয় করছি, তবে বিজ্ঞাপন করতে আমার খুব ভালো লাগে। কারণ একটি বিজ্ঞাপনে খুব ছোট্ট সময়ে খুব ভালো একটা গল্প দাঁড় করানো যায়। এবং সেই গল্প দিয়ে মানুষদের অল্পতেই চমকানো যায়।
অনেকের মতে আপনার অভিনয়টা খুবই উপভোগ্য, তবে অধিকাংশ কাজই একঘেয়ে। এ বিষয়ে কী বলবেন?
আমি যখন প্রথম করেছি তখন তো আমিই ব্যতিক্রম ছিলাম, তবে জায়গায় জায়গায় আমার চরিত্রের পরিবর্তন হয়েছে। কখনও ক্রিকেট খেলছি, কখনও আড়তের মালিক হচ্ছি। আর এই জনপ্রিয়তা আমি উপভোগ করছি। আমি প্রেমিকও হচ্ছি, বড় কর্তার অ্যাসিস্টেন্ট হচ্ছি। সন্তানের পিতা হচ্ছি। এতে এক ঘেয়েমির বিষয়টা আমি দেখি না। আর দর্শক যখন উপভোগ করছে, তাতে আমার আপত্তি থাকার তো কোনো মানেই হয় না।
প্রায় নাটকে দেখা যায় ভাষা বিকৃতি। এটা আমাদের সংস্কৃতির ওপর কতটুকু প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন?
ভাষা বিকৃতি সম্পর্কে বলতে গেলে আমাকে আরও বেশি পোক্ত হতে হবে। আমাদের ভাষা এত কষ্টের ভাষা, আমাদের ভাষাটা স্বীকৃত পেতে অনেক ত্যাগ দিয়েছে। এটি কোনো সাধারণ ভাষা নয়, আন্তর্জাতিক ভাষা। এটি বিকৃত করার মতো দুঃসাহস করা কারও উচিত নয়।
চ্যানেল অনেক বেড়েছে। নতুন অভিনয়শিল্পীরা বেশি বেশি নাটকে অভিনয় করছে। এই অধিক ব্যস্ততায় তারা কাজের মানটা কতটুকু ধরে রাখতে পেরেছে বলে মনে হয়?
আমি সবার প্রতি, সব শিল্পীদের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই যে, আমাদের সম্মানিত দর্শকরা অনেক চালাক, অনেক ভালো। তাদেরকে বিমুখ করবেন না। সব শিল্পীই যেন সুন্দর সাবলীলভাবে আমাদের চমত্কার দর্শকদের সুন্দর জিনিস উপহার দেয়। চ্যানেলগুলোর উচিত মানসম্মত প্রোডাক্ট প্রচার করা এবং মান ধরে রাখা।
এত এত নাটক হচ্ছে, তারপরও আমাদের দর্শকরা বিদেশি চ্যানেল থেকে মুখ ফেরাতে পারছে না। এর কারণ কী বলে আপনার মনে হয়?
আমি জানি না বলা ঠিক হবে কি না। তারপরও বলি, এটার জন্য দায়ী আমাদের সরকার। বিভিন্ন চ্যানেলের মালিকরা সরকারের নিকট অনেকবার আবেদন করেছেন যে, আমাদের দেশের চ্যানেলগুলোও যেন ভারতে দেখানো হয়। আমাদের দেশের নাটক সব জায়গায় জনপ্রিয়। লন্ডনেও আমাদের দেশের নাটক মঞ্চস্থ হয়। আমাদের চ্যানেলের এই সীমাবদ্ধতা যদি সরকার খুলে দেয় তাহলেই প্রমাণ হয়ে যাবে কাদের নাটক বেশি জনপ্রিয়। আমরা এরইমধ্যে প্রমাণিত, কিন্তু আমাদের সম্প্রচারের দৌড় ছোট বলে আমরা আটকে রয়েছি।
কিছু কিছু চ্যানেল আবার ভারতীয় নাটকের আদলে নাটক বানানোর চেষ্টা করছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
যদি ভালো কিছু হয়, তাহলে গ্রহণ করা উচিত। অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত। আমরা সব সময় ভালো কিছু গ্রহণ করব।
