বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) যোগ্য জনবলের অভাব রয়েছে। তাই কোম্পানির অনেক অনিয়মই যথা সময়ে ধরা পড়ে না, ফলে উচ্চ প্রিমিয়াম আদায়সহ বিভিন্নভাবে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করার সুযোগ পাচ্ছে। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আয়োজিত ‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং পুঁজিবাজার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থিত বক্তারা এসব কথা বলেন।
সিএসই প্রেসিডেন্ট আল মারুফ খানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিএসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহম্মেদ, দি ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) প্রেসিডেন্ট আব্দুস সালাম, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামান, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি তপন চৌধুরি এবং এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি নূরুল আমীনসহ আরও অনেকে।
বিএসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী তার বক্তব্যে বলেন, বিএসইসিতে প্রয়োজনীয় লোকবল থাকলেও যোগ্য লোকের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিবেদন যাচাই বাছাইয়ের মতো যোগ্য লোকের অভাব লক্ষণীয়। পর্যাপ্ত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত সম্পদ দেখিয়ে ইচ্ছামত প্রিমিয়াম নিতে পারছে। এক্ষেত্রে একটি কমিটি থাকা জরুরি হলেও বিএসইসিতে সেটিও নেই।
বিএসইসিতে চার্টার্ড একাউন্টেন্টের অভাব রয়েছে জেনে উদ্বেগ প্রকাশ করে এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট কাজী আকরাম উদ্দিন বলেন, বাজার সম্পর্কে ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন সম্পর্কে পুরোপুরি বুঝতে পারে বিএসইসিতে এ রকম টেকনিক্যাল লোকের সংখ্যা কম হওয়া ইতিবাচক নয়। অনেক চড়াই উত্রাই পেরিয়ে বাজার এখানে এসে ঠেকেছে। এখন সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা জরুরি। তিনি বলেন, সমপ্রতি পুঁজিবাজার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি বাজারের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং বাজার যাতে স্থিতিশীল থাকে সে ব্যাপারে কাজ করতেও তিনি সবাইকে আন্তরিক থাকার কথা বলেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেছেন, তালিকাভুক্তির পূর্বে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষার ক্ষেত্রে অনেক বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন আরো বেশি গ্রহণযোগ্য করার জন্য ‘আর্থিক প্রতিবেদন আইন’ করা জরুরি। কারণ এই প্রতিবেদন নিয়ে এখনো ধোঁকাবাজি চলছে। অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের ইপিএস ঠিকভাবে দেখায় না। তারল্য সঙ্কটের বিষয়ে বিএসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, শেয়ারবাজারে বর্তমানে আস্থা সঙ্কটের সাথে সাথে তারল্য সঙ্কটও রয়েছে। গত দুই বছরে পুঁজিবাজারে তহবিল প্রবাহ বাড়ানোর জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তহবিল প্রবাহের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক রয়েছে। তাই আস্থা ফেরানোর জন্য সরকারের গঠনমূলক নীতি গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বুঝাতে হবে যে, তারা পুঁজিবাজারের প্রতি আন্তরিক। এজন্য সবাইকে একই সুরে কথা বলা দরকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএপিএলসি সভাপতি তপন চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, কাগজে কলমে যে আইন কানুন রয়েছে সেগুলোর বাস্তবায়ন না হলে সব ধরনের বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তালিকাভুক্তির জন্য একটি রিপোর্ট জমা দেয়া কোনো বিষয় নয়। প্রয়োজন আর্থিক প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো।
