ব্যাপক সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে শুক্রবার তিউনিসিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা চোকরি বেলাইদের দাফন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। ঐ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে একই দিন শ্রমিক সংগঠনগুলোর ডাকে দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটও পালিত হয়েছে।
তিউনিসে বেলাইদের কফিন সমাধিস্থলের কাছে বয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়ে মারে বিক্ষুব্ধ জনতা। কয়েকটি গাড়িও জ্বালিয়ে দেয় তারা। পাল্টা জবাবে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ছুঁড়ে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছেও বিক্ষোভে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ছুঁড়েছে। রাজধানী তিউনিসে নিহত নেতার দাফন অনুষ্ঠানে জড়ো হওয়া জনতা নতুন বিপ্লবের ডাক দিয়ে স্লোগান দেয়।
সমবেত জনতা এন্নাহদা পরিচালিত সরকারকে হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষারোপ করে এবং বেলাইদের জন্য নিজেদের উত্সর্গ করার স্লোগান দেয়। এরপর কাছাকাছি আল-জেল্লাজ সমাধিস্থলে বেলাইদের কফিন নিয়ে যাওয়ার শোক মিছিলে সামিল হয় আরো হাজার হাজার মানুষ। একটি খোলা সামরিক ট্রাকে করে সমাধিস্থলে নেয়া হয় তিউনিসিয়ার লাল-সাদা পতাকা মোড়া বেলাইদের কফিন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সংঘর্ষের সময় ১৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দাফন অনুষ্ঠানে ৪০ হাজারের মতো মানুষ জড়ো হয়েছিল।
এদিকে, শ্রমিক সংগঠনগুলোর ডাকে শুক্রবার তিউনিসিয়া জুড়ে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়েছে। এরকম অবস্থায় দুই বছর আগের জিনে আল আবেদিন বেন আলি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকালীন পরিস্থিতি আবার ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে সাবেক স্বৈরশাসক বেন আলি পদত্যাগ করার পর নির্বাচনে জিতে ইসলামপন্থী দলের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতাসীন হয়। কিন্তু সরকারের সঙ্গে বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সঙ্গে মতবিরোধে রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। এদিকে,গত বৃহস্পতিবার চোকরির বিধবা স্ত্রী বেসমা বলেছেন, “অপরাধীরা চোকরির দেহকে হত্যা করেছে, কিন্তু তার সংগ্রামকে হত্যা করতে পারবে না।”
গত বুধবার কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার উদ্দেশে ঘর থেকে বের হওয়ার পরপরই অজ্ঞাত হামলাকারীর গুলিবর্ষণে নিহত হন তিউনিসিয়ার বামপন্থী নেতা চোকরি বেলাইদ। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের দায়দা কেউ স্বীকার করেনি। বেলাইদ হত্যাকাণ্ডের পরপরই রাজধানী তিউনিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসে সহিংস বিক্ষোভ শুরু করে।
