পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা পুনরায় শুরু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। এর ফলে প্রায় দেড় যুগ পুরনো এই মামলা থেকে শেষ পর্যন্ত রেহাই পেলেন জারদারি। পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডনের প্রতিবেদনে গতকাল রবিবার এ খবর জানানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত বছরের নভেম্বরে পাকিস্তান সরকার জারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাটি পুনর্রুজ্জীবিত করার জন্য সুইস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। ১৯৯৪ সালে একটি সুইস কোম্পানির কাছ থেকে প্রাক-চালানোর বিনিময়ে উেকাচ নেয়ার অভিযোগে জারদারির বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য এই চিঠি দেয়া হয়। চিঠিটি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং দূতাবাসের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের অ্যাটর্নী জেনারেলের কাছে পাঠানো হয়। পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী ফারুক নায়েক বলেছেন, ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন অর্ডিন্যান্সের (এনআরও) রায় বাস্তবায়নের মামলার শুনানির সময় বিচারপতি আসিফ সাঈদ খোসার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিচারকমন্ডলী চিঠিটির যে খসড়া অনুমোদন করেছিল সুইস কর্তৃপক্ষকে পাঠানোর আগে তার কোনো কিছু পরিবর্তন করা হয়নি।
আইন সচিবের স্বাক্ষরিত এই চিঠির মাধ্যমে ২০০৮ সালের ২২মে সুইজারল্যান্ডের অ্যাটর্নী জেনারেল ড্যানিয়েল জাপ্পেল্লির কাছে পাঠানো পাকিস্তানের সাবেক অ্যাটর্নী জেনারেল মালিক আব্দুল কাইউমের চিঠিটি প্রত্যাহার করে নিতে বলা হয়। কাইউমের ঐ চিঠিতে জানানো হয়েছিল, এনআরও’র ঘোষণায় জারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের সমঝোতামূলক আইনী সহায়তা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে পাকিস্তান সরকার।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তিনবার সরকারের খসড়া চিঠি বাতিল করে দেয়ার পর চতুর্থবার তা অনুমোদন করে। শেষ চিঠিটিতে জারদারির বিরুদ্ধে ৬০ মিলিয়ন ইএস ডলারের দুর্নীতি মামলাটি পুনরায় শুরুর পাশাপাশি তার আইনগত সুরক্ষা ও নিরাপত্তার উপরও জোর দেয়া হয়।
